অবৈধ প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির অনুমোদন! - অবৈধ প্রতিষ্ঠান - Dainikshiksha


অবৈধ প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির অনুমোদন!

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রি বিক্রির দায়ে অভিযুক্ত অবৈধ ও অনুমোদনহীন এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া ‘পিএইচডি’ ডিগ্রির অনুমোদন দিয়ে এবার শোরগোল ফেলে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়! বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা নামধারী এ অবৈধ প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) যাচাই বাছাই ছাড়াই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের একটি চক্র রীতিমতো কৌশলে সনদের বৈধতা দিয়ে আদেশ জারি করেছে। বিতর্কিত ওই প্রতিষ্ঠানের নাম এ্যামেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ইউএসএ (বাংলাদেশ স্টাডি সেন্টার) বাংলাদেশ।

শিক্ষা মন্ত্রালয়ের বিতর্কিত আদেশে পিএইচডি ডিগ্রির বৈধতা পাওয়া সৌভাগ্যবান কর্মকর্তা হচ্ছেন বিসিএসআইআরের চিফ সায়েন্টিফিক অফিস মালা খান। এদিকে আদেশের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে শিক্ষা প্রশাসনে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, অ্যামেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ইউএসএ (বাংলাদেশ স্টাডি সেন্টার) বাংলাদেশের পিএইচডি ডিগ্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। কোন সুযোগ নেই কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পিএইচডি দেয়ার। ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সনদের বিষয়ে কোন তথ্য পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কয়েকদিন আগেও কয়েকজনের সনদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কোন বৈধতা নেই বেসরকারি কোন বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশী স্টাডি সেন্টারসহ কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পিএইচডি ডিগ্রির। তাহলে কিভাবে মন্ত্রণালয় বৈধতা দিচ্ছে? এমন প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করে চেয়ারম্যান বলেন, এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। এসব কাজে কিছু আমলারা আছেন। এভাবে ডক্টরেট নিয়ে তারা প্রমোশন নেন।

জানা গেছে, দেশের আইন অনুসারে কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া বৈধ নয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুসারে কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডক্টরেট ডিগ্রির সুযোগ নেই। তার পরেও গত কয়েক বছর বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বা স্টাডি সেন্টার নাম দিয়ে কয়েকশত ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে সনদ দেয়ার প্রমাণ মিলেছে বিভিন্ন সময়। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ মেলে এ্যামেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ইউএসএ বাংলাদেশ স্টাডি সেন্টারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজনের সনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ইউজিসির এক আদেশে বলা আছে, এ্যামেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ইউএসএ বাংলাদেশ স্টাডি সেন্টার শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসির অনুমোদিত কোন প্রতিষ্ঠান নয়। কাজেই উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা নেই। সরকার কর্তৃক এযাবত কোন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান অনুমোদন দেয়া হয়নি। কাজেই অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কোন সনদের যাচাইও অপ্রয়োজনীয়।

জানা গেছে, বেআইনি বলেই দেশের আরও কয়েকশত ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রির মতো বিসিএসআইআরের চীফ সাইন্টিফিক অফিস মালা খানের সনদও অবৈধ বলে আদেশ দেয়া হয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তার মতো সকলে সনদই ছিল বেআইনি। যখনই কারও সনদের তথ্য মিলছে ইউজিসির মতামত নিয়ে অবৈধ বলে আদেশ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক তুঘলকি আদেশে ২০১৫ সালে মালা খানের সনদ অবৈধ বলে যে আদেশ দেয়া হয়েছিল সেই আদেশই বাতিল করা হয়েছে। এজন্য ইউজিসির কাছে কোন তথ্য চাওয়া হয়নি।

ওই আদেশ বাতিলের ফলে ওই প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সনদের যেমন বৈধতা দেয়া হলো তেমনি বৈধতা পেল মালা খানের সনদের। কিভাবে হলো এ আদেশ? যার স্বাক্ষরে আদেশ সেই কর্মকর্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জিন্নাত রেহানা দাবি করেন, ওই প্রতিষ্ঠানতো কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নয়। আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট অবৈধ। কিন্তু এটাতো তা নয়। এরপর ইউজিসির আদেশে সুনির্দিষ্ট করে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ বলা হয়েছে উল্লেখ করলে এ কর্মকর্তা বলেন, এটা উর্ধতন কর্র্র্তৃপক্ষের আদেশে হয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ফাইল মন্ত্রী স্যার পর্যন্ত অনুমোদন পেয়েছে। এক প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, না ইউজিসির কোন মতামত নেয়া হয়নি।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এই আদেশের পেছনে লাখ লাখ টাকা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন। এই চক্রে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীরের যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। কারণ এই সনদের বৈধতা পেলে কোটি কোটি টাকার সনদ বাণিজ্য করবে ওই প্রতিষ্ঠান। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ফাইল ওপরের নির্দেশে আমি ওকে করেছি। ওপরের কে? উত্তরে তিনি বলেন, আমাকে দিয়েছে আমার ম্যাডাম। তাকে আদেশ দিয়েছে তার বস। তাকে দিয়েছে তার বস।

এদিকে ইউজিসির উপ-পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) জেসনিন পারভীন বলেছেন, নাম এ্যামেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ইউএসএ (বাংলাদেশ স্টাডি সেন্টার) এর ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পূর্র্ণ অবৈধ। কোন সুযোগ নেই সনদের বৈধতা দেয়ার।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ



পাঠকের মন্তব্য দেখুন
দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে উত্তরা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন চলছে - dainik shiksha উত্তরা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন চলছে তেজগাঁও মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha তেজগাঁও মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রাথমিকের চতুর্থ ধাপের লিখিত পরীক্ষা ১ জুন - dainik shiksha প্রাথমিকের চতুর্থ ধাপের লিখিত পরীক্ষা ১ জুন টেলিটকের মাধ্যমে আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha টেলিটকের মাধ্যমে আবেদন করবেন যেভাবে একাদশে ভর্তির আবেদন ও ফল প্রকাশের সময়সূচি - dainik shiksha একাদশে ভর্তির আবেদন ও ফল প্রকাশের সময়সূচি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা জারি - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা জারি কারিগরিতে ভর্তির নীতিমালা জারি - dainik shiksha কারিগরিতে ভর্তির নীতিমালা জারি লালমাটিয়া মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha লালমাটিয়া মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website