আদর্শ শিক্ষকের ৫টি প্রধান বৈশিষ্ট্য - কলেজ - দৈনিকশিক্ষা


আদর্শ শিক্ষকের ৫টি প্রধান বৈশিষ্ট্য

বিজ্ঞাপন প্রতিবেদন |

একজন আদর্শ শিক্ষকই জাতির মেধা গড়ার কারিগর। শিক্ষকের মেধাশ্রমই জাতির অমূল্য সম্পদ। তাই তাকে হতে হয় আর দশজন মানুষের তুলনায় সেরা। কেননা তাকে দেখেই শেখে আগামী প্রজন্ম। যদিও আদর্শ শিক্ষকের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা দেয়া কঠিন, তবে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একজন আদর্শ শিক্ষকের মধ্যে লক্ষ করা যায়। তেমনই কিছু বৈশিষ্ট্য এবং এই বৈশিষ্ট্যগুলো কীভাবে নিজের মধ্যে গড়ে তোলা যায় সে বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে এই লেখায়।

১. একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ‘Todd Whitaker’-এর লেখা ‘50 Ways to Improve Student Behaviour’- এ তিনি বলেছেন, একজন শিক্ষকের আদর্শ শিক্ষক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম বাধা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের অভাব। তাঁর মতে:

• অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে না যে তাদের শিক্ষকরা আসলে তাদের উপর বিশ্বাস করে।
• অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে না যে তাদের বাবা-মা তাদের বিশ্বাস করে। 
• অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে না যে বড়রা তাদের বিশ্বাস করে। 
• তাই অনেক শিক্ষার্থী নিজেরাই নিজেদের বিশ্বাস করে না। 
• যে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিজেরা বিশ্বাস করে না তাদের আচরণগত ও একাডেমিক সমস্যা বেশি থাকে।   

শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে শিক্ষকের করণীয়: 

• নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য তৈরি করা- বছরের শুরুতেই যদি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারা বছরের জন্য একটি লক্ষ্য স্থির করা যায় তবে শিক্ষার্থীরা সুস্পষ্ট একটি ধারণা নিয়ে বছরটা শুরু করতে পারে। সঙ্গে তৈরি করতে হবে প্রতিটি ক্লাসে কী পড়ানো হবে সেটাও। নতুন একটি অধ্যায় বা বিষয় নিয়ে ক্লাস শুরুর সময় শিক্ষক যদি বলে, ‘আজ তোমরা গুণনের প্রথম ধাপটি শিখবে’ এবং ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলে, ‘তোমাদের অভিনন্দন, এখন তোমরা তোমাদের মা-বাবাকে কীভাবে গুণতে শিখলে তা দেখাতে পারবে’! ‘শিক্ষকের মতো তারাও যে কাউকে শেখাতে পারে’, এই দৃষ্টিভঙ্গিটি যদি তাদের মাঝে তৈরি করা যায় তবে তাদের নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে, সঙ্গে শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপ্রেরণা বাড়বে। 
• প্রতিনিয়ত আশ্বস্ত করা- শিক্ষার্থীর নিজের উপর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে তাকে প্রতিনিয়ত বলতে হবে, ‘তোমার উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে, হাল ছেড়ো না, আমি তোমার পাশে আছি’। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা এবং উৎসাহিত করার মাধ্যমে তাদের দারুণভাবে আত্মবিশ্বাসী করে তোলা যায়। 
• প্রযুক্তির ব্যবহার- শিক্ষাবিষয়ক প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষা প্রদান ও গ্রহণকে আরও আনন্দদায়ক ও কার্যকরী করে তুলতে পারে। এমনকি সবচেয়ে ভিতু ও ঘরকুনো স্বভাবের শিক্ষার্থীও নিজেকে খোলস থেকে বাইরে বের করে নিয়ে আসতে সহায়তা করে এই পদ্ধতি। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় গণিত শেখার গেম। শিক্ষার্থীদের যখন ব্ল্যাকবোর্ডে গণিত শেখানো হয় তখন অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তবে সেই একই কাজ যদি ভিডিও গেমের মাধ্যমে শেখানো যায় তবে তা শিক্ষার্থীদের কাছে মজাদার ও আনন্দদায়ক করে তুলবে। এতে করে পিছিয়ে পড়া বা ভিতু শিক্ষার্থী যারা রয়েছে তাদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।    

২. একজন আদর্শ শিক্ষক আকর্ষণীয় ও কার্যকরভাবে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করেন 

একজন শিক্ষক অনেক জ্ঞানী হতে পারে, ক্লাসে পাঠদানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে আসতে পারে এমনকি দুর্দান্ত বোঝানোর ক্ষমতাও তাঁর থাকতে পারে; কিন্তু আকর্ষণীয় ও কার্যকরভাবে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করতে না পারলে সমস্ত অর্জনই তাঁর মাটি হয়ে যেতে পারে। 

আকর্ষণীয় ও কার্যকর শ্রেণিকক্ষ গড়ে তুলতে শিক্ষকের করণীয়:
• ক্লাসের নিয়মকানুনগুলো নির্ধারণ করা- একে অপরের প্রতি কীভাবে আচরণ করবে, নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকবে কীভাবে বা ক্লাসে কীভাবে অংশগ্রহণ করবে; এসব বিষয়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি নিয়ম তৈরি করা যায়। যেমন-
১. শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনব।
২. দলে কাজের সময় সবার মতামত শুনব।
৩. অন্যের মতের সাথে একমত না হলে ভদ্রভাবে যুক্তি দিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করব।
৪. দলে সক্রিয় অংশগ্রহণ করব।
৫. কিছু বলার আগে হাত তুলব।
৬. সবার সাথে ভালো ব্যবহার করব এবং সদ্ভাব বজায় রাখব।
৭. আমার খাতায় আমার কথা বা চিন্তা নিজেই লিখব।
৮. সবাই একসাথে কথা বলব না, একজন বলার পর অন্যজন বলব।
৯. সবাইকে দলের কাজ উপস্থাপন করার এবং অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেব।
১০. শান্তি বজায় রাখব যাতে সবাই সবার কথা শুনতে পায়।
১১. দলের কাজ পরিচালনায় একে অন্যকে সহযোগিতা করব ইত্যাদি। 

সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে নিজেদের সেই নিয়মের প্রতি দায়বদ্ধ ভাবতে শুরু করবে। ফলে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে তারা শিক্ষক বা অন্য সহপাঠীদের উপর দ্বায় না চাপিয়ে নিজেদের দ্বাই করবে এবং নিজে নিজে তা সমাধানের চেষ্টা করবে।

• শ্রেণিকক্ষে ক্যাপটেইন নির্বাচন করা- শ্রেণিকক্ষে ক্যাপটেন বা শ্রেণিনেতা নির্বাচন করার গুরুত্ব অনেক। তবে কয়েকদিন পর পর (হতে পারে প্রতি পনের দিন পর বা প্রতি মাসে) নতুন শ্রেণিনেতা নির্বাচন করা উচিত। নতুবা একজন বেশিদিন নেতৃত্ব দিলে তার মধ্যে অহমিকা এসে যেতে পারে। তাছাড়া অন্যরা নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। পালাক্রমে নেতৃত্ব দিলে সকল শিশুর মধ্যেই নেতৃত্বের গুণাবলি তথা আন্তঃব্যক্তিক বুদ্ধিমত্তা বিকশিত হবে।

তাছাড়া, মাঝে মাঝে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা পরিবর্তন করে বসানো, যেমন- সামনের বেঞ্চে যারা বসেছে তারা পেছনে এবং পেছনে যারা বসেছে তারা সামনে বসবে। পাঠের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়েও পাঠদান করানো যেতে পারে। শিক্ষক ক্লাসে যখন প্রশ্ন করবে তখন প্রশ্নটি উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে করতে হবে। অধিক শিক্ষার্থী সংবলিত শ্রেণিকক্ষে একই রকম একাধিক সেট শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। 

শিক্ষক যদি শিক্ষাদান কার্যক্রমের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি ও কৌশল নির্বাচনে ব্যর্থ হন অথবা উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করলেও যথার্থভাবে প্রয়োগে ব্যর্থ হন, তবে শিক্ষাদান প্রক্রিয়া সার্থক ও কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাজেই শিক্ষক যদি পাঠদানের সকল পদ্ধতি বা কৌশল এবং প্রয়োগকৌশল খুব ভালোভাবে জেনে তা যথার্থভাবে প্রয়োগ করতে পারে, তবেই শ্রেণিকক্ষকে আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তোলা সম্ভব হবে। 

৩. একজন আদর্শ শিক্ষক সবসময় প্রস্তুত থাকেন
 
সময় ব্যবস্থাপনা ও ক্লাস নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে আসা একজন ভালো শিক্ষকের বড় গুণ। 

কার্যকরী প্রস্তুতি অর্জনের জন্য শিক্ষকের করণীয়: 
• বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান- শিক্ষক যা পড়াবেন সে সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। শিক্ষকের প্রস্তুতির ব্যাপারে InTASC-এর মূল নীতিগুলোর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্তর হচ্ছে: 
১. জ্ঞান- যা পড়াবেন তা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকতে হবে। 
২. স্বভাব- একজন শিক্ষক সুন্দর স্বভাবের অধিকারি হবে। 
৩. ক্রিয়াকলাপ- শিক্ষাদান পদ্ধতির মধ্যে বৈচিত্র্য থাকতে হবে। বইয়ের বাইরে থেকেও ব্যাখ্যা দিয়ে, বাস্তব বিষয় বা বস্তুর সঙ্গে উদাহরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝাতে হবে। 

• ‘Yale Center for Teaching and Learning’-এর মতে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের যেসব বিষয়ে প্রস্তুতি থাকা উচিত: 
১. পড়া এবং সমস্যা সেট করা।
২. প্রতি সপ্তাহের লেকচার নোট তৈরি করা ।
৩. ক্লাসের সময়কে সর্বোচ্চ কার্যকরী করে তুলতে পরিকল্পনা করা।
৪. ক্লাসে ব্যবহার করতে বা বোর্ডে লিখতে প্রশ্নের তালিকা তৈরি করা।
৫. শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসের জন্য হোমওয়ার্ক বা প্রশ্ন নকশা করা।
৬. ক্লাসের জন্য কুইজ তৈরি করা।
৭. শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ, সমস্যা বা আগ্রহের বিষয়গুলো বুঝতে চেষ্টা করা।
৮. বিতর্কের জন্য বিষয় নির্বাচন ও পর্যালোচনা করা। 
৯. খবরের কাগজ বা অন্যান্য জায়গা থেকে শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া।

৪. একজন আদর্শ শিক্ষক সর্বদা নিয়মানুবর্তিতা বজার রাখেন 

জীবনের সর্বস্তরে তথা সামাজিক, পারিবারিক কিংবা রাষ্ট্রীয়; সকল ক্ষেত্রেই নিয়মানুবর্তী হওয়া অত্যাবশ্যক। মানব জীবনে নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে M. K. Gandhi বলেছেন, - 
‘Discipline maintains system,
System maintain development,
Development vibrates human-life,
So discipline must be followed.’ 

নিয়মানুবর্তিতা চর্চায় শিক্ষকের করণীয়:
• নিয়ম-শৃঙ্খলা যথার্থরূপে পালন করে চলা- শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থী শুধু বইয়ের পড়াই শেখে না; তাঁর আচার-ব্যবহার, কথা বলার ভঙ্গিসহ প্রায় সব কিছুই শিক্ষার্থীরা অনুসরণ-অনুকরণ করার চেষ্টা করে। তাই একজন শিক্ষকের খুব সতর্কতার সঙ্গে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকা উচিত। 
• অতিরঞ্জিত ও আড়ম্বরতা বিবর্জিত কঠোরতা- শিক্ষার্থীদের অবশ্যই শাসন করতে হবে; তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে সেই শাসন বা কঠোরতায় আড়ম্বরতা বা অতিরঞ্জিত কোনো আচরণ প্রকাশ না পায়। 
• শিক্ষার্থীদের ভুলের কারণে রোষান্বিত বা ঈর্ষান্বিত না হওয়া-  শিক্ষার্থীদের ভুলের কারণে কোনোভাবেই রোষান্বিত বা ঈর্ষান্বিত হওয়া উচিত নয়। তাহলে সেখানে ব্যক্তিগত আক্রোশ প্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়। 
• শিক্ষার্থীদের মাঝে ন্যায়বিচার বজায় রাখা- মানবিকতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের মাঝে অবশ্যই ন্যায়বিচার বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। বিচারের ক্ষেত্রে কখনোই পক্ষপাতিত্ব করা উচিত হবে না।    

৫. একজন আদর্শ শিক্ষক সর্বদা অভিভাবক, পরিবার এবং সমাজের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন
  
বিদ্যালয়ের পাশাপাশি সমাজে একজন ইতিবাচক ব্যক্তি হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি তৈরি করার জন্য শিক্ষকের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা থাকা জরুরি। পিতা-মাতা, অভিভাবক, পরিবার কিংবা সমাজ; সব জায়গাতেই পেশাগত ও ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমেই একজন শিক্ষক সবার মাঝে আদর্শ শিক্ষক হয়ে উঠতে পারেন। 

সুসম্পর্ক বজায় রাখতে শিক্ষকের করণীয়: 
• শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা বা অভিভাবকের প্রতি সম্মান এবং ভদ্রতা প্রদর্শন করার মাধ্যমে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। 
• শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং উন্নয়নকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তসমূহ নেয়ার সময় অভিভাবকের মতামতকে বিবেচনায় রাখা, শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করা বা অভিভাবকদের অভিযোগকে আমলে নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।  
• শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং সমাজের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।  
• শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশ, অবস্থান কিংবা পরিবার থেকে এসে থাকে; কাজেই এ বিষয়টি শিক্ষকগণ অনুধাবন করবেন। শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং সমাজের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। 

যদিও আদর্শ শিক্ষকের নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা বা মাপকাঠি নেই; তবু সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে শিক্ষকরা নিজেদের সম্পর্কে প্রাথমিক একটি ধারণা অর্জন করতে পারেন অথবা নতুন শিক্ষকরা নিজেদের আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য নিতে পারেন।  Jeffrey Glanz-এর গবেষণার উপর ভিত্তি করে তাঁর লেখা ‘Teaching 101: Classroom Strategies for the Beginning Teacher’-এ নতুন শিক্ষকদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ৮টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি প্রশ্নের তালিকা তৈরি করেছেন-   

১. আপনি যে বিষয়বস্তু শেখাচ্ছেন তার উপর আপনার কি সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে? 
২. আপনি কি শিক্ষাদান পদ্ধতি, শেখার পদ্ধতি এবং পাঠ্যক্রম পদ্ধতি সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন? 
৩. আপনি কি নিজেকে ভালোভাবে জানেন? 
৪. আপনি কি অপরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন? 
৫. আপনি কি বিচিত্র, চিন্তাভাবনামূলক প্রশ্ন করতে পছন্দ করেন?
৬. আপনি কি সবসময় নির্দেশনার কাজের পরিকল্পনা করেন?
৭. শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা এবং কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপনি কি সফল?
৮. আপনি কি ভালো যোগাযোগকারী? 

যদি আপনার উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয় তবে আপনি সঠিক পথেই আছেন, আর যদি ‘না’ হয় তবে চেষ্টা করুণ নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে।    




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
ঢাবির ক ও চ ইউনিটের ফল প্রকাশ - dainik shiksha ঢাবির ক ও চ ইউনিটের ফল প্রকাশ বাউবির ছাত্রত্ব বাতিল এমপি বুবলীর, চার সদস্যের কমিটি - dainik shiksha বাউবির ছাত্রত্ব বাতিল এমপি বুবলীর, চার সদস্যের কমিটি ঢাবিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সংঘর্ষে আহত ৩ - dainik shiksha ঢাবিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সংঘর্ষে আহত ৩ যে কারণে যুবলীগের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী জবি ভিসি মীজান - dainik shiksha যে কারণে যুবলীগের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী জবি ভিসি মীজান ছাত্রী হেনস্তা ঠেকাতে পুরুষ শিক্ষক বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত - dainik shiksha ছাত্রী হেনস্তা ঠেকাতে পুরুষ শিক্ষক বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ - dainik shiksha শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? - dainik shiksha কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রস্তুত - dainik shiksha ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রস্তুত ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত - dainik shiksha ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website