এমপিওভুক্ত হচ্ছেন সেকায়েপ শিক্ষকরা - এমপিও - Dainikshiksha


এমপিওভুক্ত হচ্ছেন সেকায়েপ শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

সেকায়েপ ও সেসিপ প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ ছয় হাজারের বেশি শিক্ষককে এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর জন্য সরকারের কত টাকা ব্যয় হবে, তা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে জানাতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাক্সেস এনহ্যান্সমেন্ট (সেকায়েপ) এবং সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) আওতায় নিয়োগকৃত অতিরিক্ত শ্রেণিশিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে গত ১১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সেকায়েপ ও সেসিপ প্রকল্পের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিকরণের সম্ভাব্য শর্তাবলি ও আর্থিক সংশ্লেষসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে গত ২৮ আগস্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রকল্প দুটির নিয়োগকৃত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সম্ভাব্য শর্তাবলি ও আর্থিক সংশ্লেষসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সবুজ আলম দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট)  জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে  চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা ও উপজেলাভিত্তিক নিয়োগকৃত সেকায়েপের অতিরিক্ত শ্রেণিশিক্ষক এবং সেসিপ প্রকল্পের রিসোর্স টিচারদের তালিকার হার্ড কপি এবং সফট কপি আগামি তিন কার্যদিবসের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে সেকায়েপ প্রকল্পটি চালু করা হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৪শ’ ৮০ কোটি টাকা। দুর্গম ৬৪টি উপজেলার দুই হাজার ১১টি স্কুলে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে ছয় হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ‘সেকায়েপ’ প্রকল্পে এসিটি কম্পোনেন্টটি যুক্ত হয়, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ফিরিয়ে আনা, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে নেওয়া লক্ষ্যে অভিভাবকদের সমন্বয় সভা, অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে কোচিং বাণিজ্য, বাল্য বিবাহ ও শিশুনির্যাতন বন্ধসহ নানা ধরণের ইতিবাচক কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত শ্রেণিশিক্ষকদের (এসিটি) প্রচেষ্টা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে। এই কম্পোনেন্টে প্রায় ৫,২০০ এসিটি শিক্ষক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুই হাজার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।

অপরদিকে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) প্রকল্পে রিসোর্স টিচার (আরটি) পদে ১ হাজার ৪৪৩ জন রয়েছে। গত বছর অস্থায়ী ভিত্তিতে এসব শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সেকায়েপ প্রকল্পটির মেয়াদ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে গত ৮ মাস  প্রায় ৫২০০ এসিটি পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমপিওভুক্তির দাবিতে এবছরের শুরু থেকে কয়েক দফা বাংলাদেশ এসিটি শিক্ষক অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এ প্রকল্পের শিক্ষকরা ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।

এদিকে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাক্সেস এনহ্যান্সমেন্ট (সেকায়েপ) প্রকল্পের শিক্ষকরা। এ প্রকল্পের শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ অতিরিক্ত শ্রেণিশিক্ষক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৌশিক চন্দ্র বর্মণ এবং  সাধারণ সম্পাদক  মোঃ মামুন হোসেন দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে বলেন, দেরিতে হলেও এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। এ জন্য আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সে সঙ্গে আশা করছি. দ্রুততম সময়ের মধ্যে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শেষ করে সরকার আমাদের মানবেতর জীবনযাপনের অবসান ঘটাবেন।




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
‘শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণ সুবিধার তহবিল বন্ধ করে পেনশন চালু করতে হবে’ - dainik shiksha ‘শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণ সুবিধার তহবিল বন্ধ করে পেনশন চালু করতে হবে’ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা ১০ মে - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা ১০ মে এসএসসির ফল ৫ বা ৬ মে - dainik shiksha এসএসসির ফল ৫ বা ৬ মে চাঁদা বৃদ্ধির পরও ২১৬ কোটি টাকা বার্ষিক ঘাটতি : শরীফ সাদী - dainik shiksha চাঁদা বৃদ্ধির পরও ২১৬ কোটি টাকা বার্ষিক ঘাটতি : শরীফ সাদী একাদশে ভর্তির নীতিমালা জারি, আবেদন শুরু ১২ মে - dainik shiksha একাদশে ভর্তির নীতিমালা জারি, আবেদন শুরু ১২ মে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website