কুবিতে টিভি রুম ও মসজিদে রাত কাটাতে হয় শিক্ষার্থীদের - বিশ্ববিদ্যালয় - দৈনিকশিক্ষা


কুবিতে টিভি রুম ও মসজিদে রাত কাটাতে হয় শিক্ষার্থীদের

কুবি প্রতিনিধি |

কলেজ শেষ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পা বাড়ান শিক্ষার্থীরা। নতুন পরিবেশে এসে তারা প্রথমেই থাকার জায়গা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। নিরাপত্তা ও আর্থিক সংকটের কারণে সবাই চান বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতে। তবে হলে মিলছে না বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ। এতে ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া। শিক্ষার্থীদের শুরুতে থাকতে হয় গণরুমে। আর প্রতিটি গণরুমে গড়ে ৩০ জন পর্যন্ত বাস করতে হয়। অনেক সময় রাতে ঘুমানোর জায়গা না পেয়ে রাত কাটাতে হয় টিভি রুমে কিংবা হলের মসজিদে। এসবের প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা গণরুমে উঠেছেন প্রায় ১১ মাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কয়েক মাস পর সিট পাওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক বছর হতে চললেও সিটের দেখা পাচ্ছে না তারা। এর মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা আসছেন। এর আগে কাজী নজরুল ইসলাম হলে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের কয়েক শিক্ষার্থীকে নতুন ব্যাচের সঙ্গে গণরুমে থাকতে হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন ব্যাচ এলে সংকট প্রকট আকার ধারণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২০৫ নম্বর রুম। যেখানে ছয় শিক্ষার্থীর থাকার কথা, সেখানে গাদাগাদি করে থাকছেন ২৫ জন। নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৪০ পর্যন্ত। শুধু এই একটি রুমই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আবাসিক হলে মোট আটটি রুমে এমন মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

কথা হয় বঙ্গবন্ধু হলের ২০৫ নম্বর রুমের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল আলমের সঙ্গে। পটুয়াখালী থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে এসেছেন তিনি। ফয়সাল জানান, নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ শুরুতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়েছে তার। গণরুমের জীবন নিয়ে বলেন, কখনও রাতে রুমে এসে দেখতাম আমার জায়গায় কোনো সহপাঠী ঘুমিয়ে আছে। এরপর বালিশ না পেলে কাঁথা নিয়ে বের হয়ে যেতাম। টিভি রুমের বেঞ্চে রাত কাটাতাম। রিডিং রুম না থাকায় লেখাপড়া করতেও কষ্ট হয়েছে। রুমের প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন ঘটত। এক রুমে ৩৫ জন ছিলেন বলে জানান এই শিক্ষার্থী।

গণরুমে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা হয় কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থী আজমির হোসাইনের সঙ্গে। হলের ১০৬ নম্বর রুমে তারা ১২ শিক্ষার্থী থাকেন। তিনি বলেন, গণরুমে প্রথম এসে ২৪ জন একসঙ্গে থাকতে হয়েছে। ফ্যানের পাখা নষ্ট থাকায় ঘুমাতে কষ্ট হতো। রিডিং রুম বা হলের মসজিদে রাত কাটাতে হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয় হাজার ৮১৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ৬৮৩ জন। চারটি আবাসিক হলে থাকছেন এই শিক্ষার্থীরা। আবাসিক হলগুলোর তিনটি ছাত্রদের আর একটি ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ। বর্তমানে তিনটি ছাত্র হলে আটটি গণরুম রয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম হলে দুটি গণরুমে থাকেন ১৩ জন করে ২৬ শিক্ষার্থী। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের দুটি রুমে ১৭ জন করে থাকেন ৩৪ শিক্ষার্থী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে চারটি গণরুমে থাকেন অন্তত ৭০ জন। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষে ও ক্লাস শুরুর সময় এ হলের এক রুমে ৩৫ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলে গণরুম ব্যবস্থা না থাকলেও সিট সংকট রয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট জিয়া উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম বলতে কিছু নেই। শিক্ষার্থীরা অনেক দূর থেকে এখানে পড়াশোনা করতে আসে। তাদের আর্থিক সমস্যা ও নিরাপত্তার অভাব থাকায় আবাসিক হলের কয়েকটি রুমে তারা গণরুমের মতো করে থাকে। হল প্রশাসন থেকে ইচ্ছা করলেই গণরুমের এ প্রথা বাদ দিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধান করতে কাজ করছি। এর মধ্যে নতুন একটি ছাত্রী হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। কাজগুলো শেষ হলে আবাসন সংকট অনেকটা কমে আসবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প নামে একটি মেগা প্রকল্প এসেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের সব সমস্যা কেটে যাবে।




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
মৃত শিক্ষককেও বদলি করল মন্ত্রণালয় - dainik shiksha মৃত শিক্ষককেও বদলি করল মন্ত্রণালয় please click here to view dainikshiksha website