আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


‘ক্রিয়েটিভ পদ্ধতি’ কী তাহলে একটি ব্যর্থ প্রজেক্ট?

মাছুম বিল্লাহ | ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ | মতামত

সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট( এসইএসডিপি) নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সম্প্রতি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয় আট বছর আগে পাঠদানের মানোন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও সরকারের অর্থায়নে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সৃজনশীল পদ্ধতি চালূ করা হয়। কিন্তু আট বছর পরে দেখা যায় প্রকল্পের প্রায় পুরো টাকাটিই বিফলে গেছে। কারণ ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী এখনও সৃজনশীল পদ্ধতি বুঝে উঠতে পারেনি। তারা এখনও কোচিং ও গাইড বই অনুসরণ করছে।শুধু তারা কেন শিক্ষকদের মাঝেও বিষয়টি নিয়ে ভীতি কাজ করছে।প্রাথমিক, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির বিভিন্ন বিষয়ে চালু হলেও শিক্ষকদের নামমাত্র তিনদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল যা আবার সবাইকে নয়। শিক্ষকরা তাই বিষয়টি না বুঝে নোট ও গাইড বই থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশ্ন করছেন। সৃজনশীলের এই অবস্থা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচচশিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালূয়েশন কমিটি, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই সৃজনশীল নিয়ে বেশ কয়েকটি সমীক্ষা পরিচালনা করে প্রায় একই ধরনের ফল প্রকাশ করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং সরকার থেকে যে হাঁকডাক দেয়া হচেছ যে,’ বাজার থেকে নোট ও গাইড বই পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যখন বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছেনা, এনসিটিবি কর্তৃক সরবরাহকৃত বইয়েও সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়ে তেমন বিষদভাবে কোন নির্দেশনা নেই তাই সবাই মোটামুটি নোট গাইড বই নির্ভর’ সৃজনশীল’ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। সরকারি পর্যায় থেকে এমন কোন বই সরবরাহ করা হয়নি যা পড়ে শিক্ষকগন তাড়াতাড়ি ক্রিয়েটিভ কোশ্চেন পদ্ধতি বুঝে যাবেন। তাই তাদের বাজারের বইই পড়তে হচেছ কারণ সেখানে কিছু শিক্ষকগন মিলে কিংবা কোন প্রকাশক ব্যবসার আশায় ভাল প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক কিংবা মেধাবী কিছু শিক্ষার্থী ধরে ক্রিয়েটিভ কোশ্চেন বানিয়েছেন, আর সেগুলোই সবাই অনুসরণ করছে। ক্রিয়েটিভ প্রশ্ন সবাই বুঝুক আর না বুঝুক পাসের হারের গতি বেড়ে গেছে অনেক অর্থাৎ পাবলিক পরীক্ষায় হাইব্রিড ফল আমরা দেখতে পাচিছ। আসলে প্রকৃত ঘটনা কি ঘটে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নজরুল অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে বলেন, ”সৃজনশীল প্রশ্ন কাঠামোয় প্রথম প্রশ্নটিকে বলা হয় ’জ্ঞানমূলক’। এর জন্য বরাদ্দ থাকে ১ নম্বর। যেমন বলাই ছোটগল্পের লেখক কে? এর উত্তর হবে: ’রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’। কোন পরীক্ষার্থী যদি ’রবিন্দ্রনাত টাকুর’ লেখে অথবা শুধ ’রবিন্দ্রণাত’ এ ধরনের বানানও লেখে, তারপরও তাকে সর্স্পূর্ন নম্বর অর্থাৎ ১এ ১ নম্বর দিতে হবে। এখানে আধা নম্বরও কাটা যাবে না। এমনই নির্দেশ কর্তৃপক্ষের। কারণ কী? সৃজনশীল ধারার উদগতারা বলছেন, পরীক্ষার্থীর ’ জ্ঞান’ আছে প্রশ্ন সম্পর্কে। পরীক্ষার্থী যেহেতু জানে লেখক কে, সেহেতু সে পূর্ন নম্বর পাওয়ার যোগ্য। প্রিয় পাঠক, আপনি কী বলেন? ’জ্ঞান মানে কি শুধু মুখে উচচারণ? ঠিকঠাকভাবে তা প্রকাশ করার ক্ষমতা নয়? যদি তা না হয়, তাহলে বাসার ময়না বা টিয়ে পাখিটিও ’ মহাজ্ঞানী; সেটাও ১এ ১ পেতে পারে! এই ময়না বা টিয়ে পাখির জ্ঞান দিয়ে কী করবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম?এরপর আছে ’ অনুধাবন’ ও ’প্রয়োগ’ পর্যায়। এটিও কাঠামোবদ্ধ । নির্দিষ্ট বাক্যের বেশি লেখা নিষিদ্ধ।পরের বা শেষ ধাপটির নাম ’ উচচতর প্রয়োগ দক্ষতা’। এটিও মোটামুটি নির্ধারিত। শুধু তাই নয়, এখন অনুচেছদে তো বটেই , রচনা বা প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রেও শব্দ উল্লেখ করে আয়তন বেঁধে দেওয়া হয়। অথচ কে না জানে, সাহিত্য শুধু ’বিষয়’ নয়, এর প্রকাশ ও। বরং বলা চলে’ প্রকাশই সাহিত্য।’ একই বিষয় নানাজন নানাভাবে লিখবে, এটাই কাম্য। আর এই প্রকাশের ভিন্নতায় শিক্ষার্থী তাদের স্বকীয়তা প্রদশর্ন করতে পারে, অতীতে তা-ই হয়েছে। ভবিষ্যতে যারা সাহিত্যে অবদান রাখবেন, তাঁরা ছাত্রজীবনে হাত পাকাবেন, এমনকি সাহিত্যের খাতাতেও যে ছাপ রাখবেন, এটাই তো প্রার্থিতা। এখন সাহিত্যে দেড়শ বা দুইশ শব্দের পরিধি বেঁধে দেওয়া হবে, আবার বলা হবে সৃজনশীলতা দেখাতে, এটি কি পরস্পরবিরোধী নয়? ”

বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা মূলত বানান ভুল হোক আর যাই হোক জ্ঞানমুলক ও অনুধাবনমূলক অংশদুটির উত্তরই করে থাকে। প্রয়োগ ও অনুধাবনমূলক অংশের উত্তর অনেকেই দেয়না। আবার কেউ কেউ প্রশ্নে যা লেখা আছে তাই তুলে দিয়ে আসে। এমনকি কেউ কেউ কোন গান কিংবা জাতীয় সংগীত লিখে আসে পরীক্ষার খাতায়। পরীক্ষক দেখে হোক আর না দেখে হোক মোটামুটি ১০এর মধ্যে ৮-৯ নম্বর দিয়ে দেন। এভাবে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত লিখে আসলেও দেখা যায় ’এ প্লাস’ পেয়ে যাচেছ। কতবড় সর্বনাশ আমরা করছি আমাদের এই তরুণ ও মেধাবী প্রজন্মের। সরকারী কর্মকর্তা বড় আমলাদের এসব বিষয় নিয়ে ভাবার সময় নেই। তাদের অনেকের সন্তানই এসব মিডিয়ামে পড়েনা, হয় বিদেশে কিংবা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে। তাছাড়া তারা চাকরি করেন। তাদের এত চিন্তার প্রয়োজন কি? মন্ত্রী এমপিরা জনগনের প্রতিনিধি। তাদেরকে জনগনের কথা, পার্টির কথা চিন্তা করতে হয়।অধিকাংশ মানুষই তো চাবে অল্প পরিশ্রম করে বিরাট ফল।সেখানে কেউ বাত্যয় ঘটাতে গেলে একটু ঝামেলা তো হবেই, সে ঝামেলা কে করতে যায়?
শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠদান আরও সহজবোধ্য করতে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং সবার সম-অংশগ্রহন নিশ্চিত করা। সম-অংশগ্রহন বিভিন্ন ক্ষেত্রে লক্ষ্য পূরণ হলেও সৃজনশীলে মানোন্নয়নে কোন পরিবর্তন হয়নি। সৃজনশীল পদ্ধতির চারটি ধাপ- জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগ ও উচচতর দক্ষতা মধ্যে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক বিষয়ের ওপর প্রশ্নের কিছু উত্তর দিতে পারে কিন্তু প্রয়োগ ও উচচতার দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৯.৭শতাংশকে প্রাইভেট পড়তে হয় ও গাইড বই অনুসরণ করতে হয়। এটি হয়তো কোন এলাকার স্যাম্পল। প্রকৃত চিত্র কিন্তু এর চেয়েও ভয়াবহ। আমরা যারা গ্রামে গঞ্জের স্কুল কলেজে ঘুরে বেড়াই তারা বাস্তব অবস্থাটি দেখে আসি। কিন্তু আমাদের কথা কে শোনে?

বেঞ্জামিন স্যামুয়েল ব্লুমের ’ ব্লুমস টেক্সোমনি’ থেকে নেয়া আমাদের এই সৃজনশীল পদ্ধতি। এটি মুলত স্ট্রাকচারড কোশ্চেন।ব্লুম শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানের জন্য মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রস্থাব করেন।প্রথমদিকে এর নাম ’ কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নই ছিল। পরে এটির নাম রাখা হয় ’ সৃজনশীল প্রশ্ন।’ যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল তা একেবারেই মুখ ধুবড়ে পড়েছে। আমরা পাবলিক পরীক্ষার ফল দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই, সাথে যোগ করি অনেক বিশেষণ , কিন্তু বাস্তবে কি ঘটনা ঘটে চলেছে তার কোন খবর কেউ রাখছি না। শুধুমাত্র দু একটি স্থানে বিষয়টি ধরা পড়ে। যেমন উচচশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে ,কোন নিয়োগ পরীক্ষা যদি স্বচছ হয় তখন এ বিষয়গুলো টের পাওয়া যায় কি শিখছে আমাদের এ যুগের মেধাবী তরুণরা। বর্তমানে প্রচলিত এই সৃজনশীল প্রশ্ন সব বিষয়ে প্রযোজ্য কিনা তা ভেবে দেখেনি আমাদের কর্মকর্তাগন, নীতিনির্ধারকগন। সমস্ত বিষয়ে একই পদ্ধতি প্রয়োগ করছি। সাথে যোগ করছি উদ্দীপক। উদ্দীপক হবে মৌলিক, পাঠ্যপুস্তকে সরাসরি এটি থাকবে না। উদ্দীপক হিসেবে সরাসরি পাঠ্যপুস্তকেরকোনঅংশ/অনুচেছদ ব্যবহ্রত হবে না।উদ্দীপকের ভাষা হবে আকর্ষণীয়, সহজে বোধগম্য এবং যতদূরসম্ভবসংক্ষেপিত।অপ্রয়োজনীয় শব্দ/বাক্য পরিহার করতে হবে।উদ্দীপক পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে এবংবিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে রচিত হবে। পাঠ্যপুস্তকের কোন একটি অধ্যায়ের আলোকে অথবা পাঠ্যপুস্তকের একাধিক অধ্যায় সমন্বয় করেও উদ্দীপক তৈরি করা যাবে। উদ্দীপক প্রণয়নের সময় দক্ষতার স্তরসমূহকে বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতি নির্বাচন করতে হবে । এসব বিবেচনায় রেখে গ্রাম-গঞ্জের ক’জন শিক্ষকের পক্ষে এ ধরনের উদ্দীপক তৈরি করা সম্ভব? ফলে প্রায় সবাই নোট ও গাইডবই মুখী।তাহলে এ কেমন সৃজনশীলতা হলো? সৃজনশীলতা আসলে বলে কয়ে হয়না। সৃজনশীলতা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে হয়না। সৃজনশীলতা শিক্ষার্থীরা ভেতরকার সুপ্ত শক্তিকে প্রকাশ করার মাধ্যম, সৃজনশীলতা শিক্ষার্থীর কল্পনামক্তিকে প্রসারিত করে। উদ্দীপক ছাড়া কি সৃজনশীলতা হয়না?

একটি উদাহরণ দেয়া যাক। রাংলাদেশের রাজধানীর নাম কি? উত্তর ঢাকা। কিংবা ঢাকা প্রথম কবে রাজধানী হয় ১৬১০ সালে। কিংবা ঢাকা এ পর্যন্ত কতবার রাজধানী হওয়ার গৌরব অর্জন করে? উত্তর: তিনবার। এগুলো সবই জ্ঞানমূলক প্রশ্ন। শিক্ষার্থীরা ঢাকার ওপর কিছু পড়াশুনা করলে এ উত্তরগুলো জানবে। দ্বিতীয় একটি প্রশ্ন যদি তাকে করা হয় তাহলে হয়তো এ রকম হতে পারে। বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকার অবস্থান কোথায়। উত্তর, দক্ষিণ, মধ্য, পূর্ব কিংবা পশ্চিমে। শিক্ষার্থীদের একটু চিন্তা করতে হবে কাজেই এটি অনুধাবনমূলক। ঢাকা সিটির অনেকগুলো ভাল দিক আছে , আবার বেশ কিছু খারাপ দিক আছে। এই বিষয়টি নিয়ে প্রয়োগ মূলক প্রশ্ন করা হয় একটি উদ্দীপকের মাধ্যমে। সেখানে হয়তো বলা হয় যে, আবির বরিশাল শহর থেকে গত গ্রীষ্মকালীন বন্ধে তার চাচার বাসা ঢাকায় বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে সে মীরপুর চিড়িয়াখানা যাওয়ার পথে অনেক কিছু দেখেছে। সে যেসব খারাপ দিকগুলো দেখেছে সেগুলো তার শহরের কোন কোন বিষয়ের সাথে তুলনীয়। এটি ঠিক প্রয়োগ করা বুঝায় না। কাছাকাছি হয়। উচচতর দক্ষতার ক্ষেত্রে সে কি লিখবে। প্রচলিত বইয়ে যেসব প্রশ্ন দেখা যায় তাতে উচচতর দক্ষতা প্রকাশ করার জন্য উপযুক্ত প্রশ্ন খুব কমই পাওয়া যায়। কিন্তু তাকে এসব উদ্দীপক না দিয়ে যদি সরাসরি বলা হয় যে, ঢাকার যে বর্তমান অবস্থা সুযোগ সুবিধা বা সমস্যা। এগুলোর অবস্থা আগামী দশ বছরে কি হতে পারে। যুক্তি সহ তোমার মত উপস্থাপন কর। এটি কী সৃজনশীল নয়?

কিন্তু তাকে যদি বলা হয় যে, ঢাকার যাজনজট, পরিবেশ দুষণ ও অপরাধের কারণগুলো তোমার কাছে কি কি মনে হয়। এগুলো দুর করার জন্য তুমি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের, নাগরিকদের এবং সর্বোপরি নীতিনির্ধারকদের জন্য কি কি সাজেশন, উপদেশ দিতে পার। এটি করতে হলে, একজন শিক্ষার্থীকে অন্যান্য অনেক বই পড়তে হবে, পত্রিকা পড়তে হবে, খবর দেখতে হবে। তার ভাষা উন্নত হতে হবে। তার কল্পনার জগতকে প্রসারিত হতে হবে। তার পর সে লিখতে পারবে। এখানে কাঠামোর কোন প্রয়োজন নেই, উদ্দীপকের কোন প্রয়োজন নেই। এটি সমাজ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে। কিন্তু ঢাকা নিয়ে যদি সাহিত্যিক কোন লেখা হয়, কোন রচনা লিখতে বলা হয়। তাহলেও কিন্তু প্রায় এই ব্যপারগুলোই চলে আসবে কিন্তু বর্তমানের প্রচলিত চারটি কাঠামোতে ফেলার বিষয়টি অন্যরকম । আমরা আমাদের মেধাবী তরুণদের অযথা হয়ারানির মধ্যে ফেলেছি, অযথাই তাদের কল্পনার জগতকে সীমিত করে ফেলেছি। অযথাই তার নিজের ব্যাখ্যার জায়গাটিকে বেঁধে দিয়েছি। কেন এটি করলাম?

আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা কাঙ্খিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে কিনা তা দেখার জন্য ২০১১ সাল থেকে বাংলা ও গণিতে তাদের দক্ষতার একটি পরিমাপ করা হচেছ। ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (এনএসএ) নামের এই কার্যক্রম প্রতি দুই বছর অন্তর হয়। তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বাছাই করে তাদের দক্ষতার পরিমাপক পদ্ধতিটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ২০১১ সালের সমীক্ষায় দেখা যাচেছ, পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ ৬৭শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে কাঙ্খিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছেনা। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৫শতাংশ, আর ২০১৫ সালে দেখা যাচেছ পঞ্চম শ্রেণির কাঙ্খিত গাণিতিকি দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী। তার মানে ওরা কিছুই শিখছে না। –মুনীর হাসান, সাধারন সম্পাদক, গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। ( প্রথম আলো-২৫নভেম্বও,২০১৭)

শিক্ষাক্ষেত্রে সত্যিকার মানোন্নয়ন ঘটাতে হলে সাময়িক বৈদেশিক সাহায্য বা প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে নতুন নতুন প্রজেক্ট তৈরি করা আর বোধ হয় ঠিক হবেনা । কারণ এইসবর প্রকল্পের টাকা দিয়ে কিছু সুবিধাবাদীদের ঘন ঘন বিদেশে যাওয়ার পথ সুগম করাটাই হয় মুখ্য উদ্দেশ্য। যাদের জন্য এই অর্থ, যে উদ্দেশ্যে এই অর্থ খরচ করার কথা তার কোনটিই তো অর্জিত হচেছনা যা উপরোক্ত প্রতিবেদন বলে দিচেছ। তাহলে এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে কি হবে। এস ইএসডিপি ২০১৪ সালে শুরু হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরে তা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু শোনা যাচেছ এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে। এজন্য নাকি বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে অর্থায়নও করেছে। কিন্তু কাদের জন্য? কিসের জন্য? নিশ্চয়ই অনেক আমলা আরও অনেক দেশ ঘোরার সুযোগ পাবেন আর আমাদের গ্রাম-গঞ্জের শিক্ষার্থীরা ’ সৃজনশীল’ নামক গোলকধাঁধাঁয় আটাকাই পড়ে থাকবে। অবস্থাদৃষ্টে তাই মনে হচেছ।

 

লেখক: মাছুম বিল্লাহ, লেখক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত।

মন্তব্যঃ ৪টি
  1. Md Jowel Rana says:

    আপনাকে ধন্যবাদ ।সঠিক কথা বলার জন্য ।

  2. ননী গোপাল দাস says:

    এ দেশে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্তার প্রচলন করে বৃটিশরা এদের উদ্দ্যেশ্য ছিল তাদের কিছু করনীক তৈরী করা। এ জাতীকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করার কোন ইচ্ছা যেমন তাদের ছিল না তেমনি আজ অবদি কোন সরকারও এবিষয় আন্তরিক হয়নি, কারন এদেশের কোন বড় রাজনৈতিক নেতা কিম্বা আমলাদের সন্তান এদেশে সাধারন শিক্ষায় অধ্যয়ন করে এরকম খুব কমই জানা যায়।তাই তারা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা চালায় এবং বিদেশ থেকে আনা ঋণের টাকায় বিদেশ ভ্রমন ও এসি রুমে বসে সেমিনার করে জাতীকে দিবা সপ্ন দেখিয়ে নিজেদের ভবিষৎ গড়ে।

  3. jobayerahmed says:

    বাস্তবতা নির্ভর।।।।।।। ✌

আপনার মন্তব্য দিন