ক্লাসে ফিরেছেন ভিকারুননিসার ছাত্রীরা, আন্দোলন স্থগিত - কলেজ - Dainikshiksha


ক্লাসে ফিরেছেন ভিকারুননিসার ছাত্রীরা, আন্দোলন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক |

শিক্ষকদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাসে ফিরেছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীরা। নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার(৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় বৈঠকে বসেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা। তারপরই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আনুশকা ও অধরা বিকেল সাড়ে ৪টার পর সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকরা আমাদের কথা দিয়েছেন। যেগুলো পূরণ করা সম্ভব সেগুলো শিক্ষকরা পূরণ করবেন। আর যেগুলো আইনি বিষয়, সেগুলো আইনের মাধ্যমে সমাধান হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।

তারা বলেন, আমরা শিক্ষকদের আশ্বাসে আস্থা রেখেছি। শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব এবং ক্লাসে ফিরে যাব।

সহপাঠীকে ‘আত্মহত্যার প্ররোচনায়’ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিন বুধবার ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো অধ্যক্ষসহ বাকি শিক্ষকদের পদত্যাগের লিখিত আদেশ প্রকাশ করা, আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া, স্কুলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা, কথায় কথায় টিসির ভয় দেখানো বন্ধ করা, মানসিক সুস্থতার জন্য মানসিক চিকিৎসক দিয়ে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং গভর্নিং বডির সকল সদস্যকে অপসারণ করা।

এসব দাবি আদায়ের বিষয়ে আনুশকা ও অধরা বলেন, আমরা আমাদের ছয় দফা দাবি লিখিত আকারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দিয়েছি। যেগুলো বাস্তবায়ন করা যায় শিক্ষকরা সেগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেগুলো তারা বাস্তবায়ন করবেন। আমাদের ১ ও ৫নং দাবি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট। এগুলো শিক্ষকদের আওতার বাইরে। আমরা মন্ত্রণালয়ে লিখিত দিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

শিক্ষার্থীদের ৬নং দাবিটি ছিল গভর্নিং বডির সকল সদস্যকে অপসারণ। এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার বৃহস্পতিবার বলেন, প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনে আমি পদত্যাগ করতে রাজি আছি।

অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেন, ‘পদত্যাগের বিষয়টি আমরা গভর্নিং বডির সভায় তুলব। এটা সদস্যদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, তারা পদত্যাগ করবেন কিনা?’

নিজের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে আমি পদত্যাগ করতে রাজি। তবে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের মাধ্যমে স্কুল ও কলেজকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নিতে দু’একদিনের মধ্যে গভর্নিং বডি সভায় বসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ছয়টি দাবির মধ্যে প্রথম চারটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে আছে। দুটি দাবি সময়সাপেক্ষ বিষয়। আমরা আগেও বলেছি, অরিত্রীর ঘটনার জন্য আমরা মর্মাহত। আমরা গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে এমন ঘটনার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।’

সোমবার দুপুরে অরিত্রীর আত্মহত্যার পর মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল তার সহপাঠীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই ঘটনায় অরিত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় বুধবার রাতে গ্রেফতার হন হাসনা হেনা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেন এবং তাদের ছয় দফা দাবি লিখিত আকারে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন অরিত্রী। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অরিত্রীর আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তারা বাবা দিলীপ অধিকারী বলেছিলেন, অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রী মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের সামনে আমাকে অনেক অপমান করেন। এই অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রী।

ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত ১০টায় রাজধানীর পল্টন থানায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলা দায়ের করেন অরিত্রীর বাবা।

 




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সুপারিশপ্রাপ্তদের করণীয় - dainik shiksha প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সুপারিশপ্রাপ্তদের করণীয় দুর্নীতিবাজরা সাবধান হয়ে যান: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha দুর্নীতিবাজরা সাবধান হয়ে যান: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অর্ধাক্ষর শিক্ষকরা সিকিঅক্ষর শিক্ষার্থী তৈরি করছেন: যতীন সরকার - dainik shiksha অর্ধাক্ষর শিক্ষকরা সিকিঅক্ষর শিক্ষার্থী তৈরি করছেন: যতীন সরকার অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে যা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে যা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ১৮১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু - dainik shiksha ১৮১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন ২০ ফেব্রুয়ারি - dainik shiksha স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন ২০ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ - dainik shiksha প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website