আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


গাইড বই থেকে এইচএসসির প্রশ্ন করেও রক্ষা পাচ্ছেন শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ | এইচএসসি/আলিম

সরাসরি গাইড বই থেকে তুলে দিয়েছেন চলতি বছরের এইচএসসির প্রশ্ন। অনুসন্ধান ও তদন্তে প্রমাণিতও হয়েছে কিন্তু টিকিটিও ধরা যাচ্ছে না বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচজন শিক্ষকের। কারণ, তাদের পক্ষে নেমেছেন বি সি এস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব ও নো বিসিএস নো ক্যাডার স্লোগান দিয়ে কলেজ জাতীয়করণে বাঁধা সৃষ্টিকারী শিক্ষা ক্যাডারের কতিপয় কর্মকর্তা।

অপরদিকে, একই অভিযোগে অভিযুক্ত দশ বেসরকারি কলেজ শিক্ষকের এমপিও বন্ধ হচ্ছে।

গাইড বই থেকে হুবহু প্রশ্ন করার অভিযোগের তদন্ত শেষ করে আন্তশিক্ষাবোর্ড কমিটির প্রধান ও ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান গত অক্টোবর মাসে লিখেছেন, ‘এই শিক্ষকদের এই কাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি প্রচণ্ডরকম ক্ষুন্ন হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা যাচ্ছে।’ কিন্তু দৈনিকশিক্ষার অনুসন্ধানে জানা যায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ঢিলেমি করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। তথ্য গোপন করা হচ্ছে। ফাইল লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। সাংবাদিকদের তথ্য দিচ্ছে না মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা। অধিদপ্তর থেকে দৈনিকশিক্ষাকে জানানো হয়, ‘পিডিএস-এর সফটওয়্যার বিট্রে করছে তাই কোনো বি সি এস ক্যাডার কর্মকর্তার তথ্য দেয়া যাচ্ছে না।’ 

তিন সপ্তাহ আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক চিঠি পাঁচ শিক্ষকের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে। এর পরপরই তৎপর হয়েছেন অভিযুক্তরা। ইতিমধ্যে তাদের হাতেও পৌঁছেছে অভিযোগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থার চিঠি। এটা পেয়েই  তারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোল্লা জালাল উদ্দিনের দরবারে। শুনানীতে গিয়ে তদবির করে পাবেন রক্ষা। মোল্লা নিজে একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা হওয়ায় অভিযুক্তদের প্রতি স্বজনপ্রীতি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিসিএস শিক্ষকদের সমিতির মহাসচিব সাক্ষাত করেছেন মোল্লার সঙ্গে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বলা হয়েছে ‘এই পাঁচ শিক্ষক নিদোষ, সব দোষ এমপিওভুক্ত দশজন শিক্ষকের। কারণ, তারাই মূল প্রশ্ন কর্তা। বিসিএস শিক্ষকরা শুধু মডারেশন করেছেন।’

দৈনিক শিক্ষার হাতে থাকা তদন্ত প্রতিবেদন ও শাস্তির সুপারিশ করে ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যানের চিঠিতে বলা হয়, ‘চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের একটি বিষয়ে সরাসরি গাইড বই থেকে প্রশ্ন করেছন তারা। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্রও গাইড বই থেকে প্রণয়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।’

অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন ঝিনাইদহের সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমান, যশোরের সরকারি এমএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক এস এম তালেবুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার সাহা, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল মজন চৌধুরী এবং নাটোরের এনএস সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম।

বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে এই পাঁচ শিক্ষকের কাছে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, গাইড থেকে প্রশ্ন করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, রাজশাহী বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র বিষয়ের বহুনির্বাচনী অংশে ৮, ৯, ১০ ও ১১ নম্বর প্রশ্ন ও উদ্দীপকে হুবহু গাইড বই থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে।

অপরদিকে এমপিও বাতিল হচ্ছে  বিভিন্ন কলেজের দশজন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকের। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা  নিষিদ্ধ ঘোষিত নোট-গাইড থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। এছাড়াও মডারেশনের দায়িত্বও ঠিকভাবে পালন করেননি সংশ্লিষ্টরা। ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের  যশোর ও রাজশাহী বোর্ড প্রণীত এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের দায়িত্বে ছিলেন তারা। বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে তাদের এই দায়িত্বহীনতা। ৭ ই নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এই দশ শিক্ষকের এমপিও বাতিলের ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

গাইড বই থেকে বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন: ১০ শিক্ষকের এমপিও বাতিল

মন্তব্যঃ ১৮টি
  1. রব্বানী, প্রভাষক(গণিত), জামালপুর says:

    ভাই ওদের বিরুদ্ধে লিখে কি করবেন । ওরাতো ভিসিএস কেডার ।

    • মু আমজাদ হোসেন, সহঃ অধ্যাপক, ইংরেজি, কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, লক্ষ্মীপুর । says:

      শিক্ষামন্ত্রী নিজেই সেদিন বললেন, প্রাইভেট, কোচিং ইত্যাদি অনৈতিক কাজের জন্য বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি যাবে । আর সরকারি শিক্ষকদেরকে বদলি করা হবে । বিভাগীয় শাস্তির কথাও মৃদুস্বরে একবার উচ্চারন করেছেন তিনি । বিভাগীয় শাস্তিটি যে কেমন হয় তার নমুনাইতো এখানে দেখছি ।

      চাকরিচ্যুতি আর বদলি ! দন্ডের তারতম্য দেখুন ! আসল কথা হচ্ছে মন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকদেরকে স্বতন্ত্র বেতনস্কেল দেয়ার ওয়াদা এং নিজের অন্যান্য ব্যর্থতাকে আড়াল করতে বেসরকারি শিক্ষকদেরকে ক্রমাগত চাপের মধ্যে রাখতে চাচ্ছেন ।

  2. নাম:আবু কামাল' প্রভাষক-পারখিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ,আটঘড়িয়া,পাবনা। says:

    মনে হয় ট্রেনিং বিহীন শিক্ষা ক্যাডার । প্রকৃত ক্যাডারওট্রেনিং প্রাপ্ত হলে তো এমনটা হওয়ার কথা না। এ রকম ত্রুটি তো মন হয় বেসরকারি প্রতিষ্টানের শিক্ষদের হয়নি।

  3. এম,এ,মামুন says:

    বিসিএস এর এই শিক্ষা ক্যাডারের লোকজনের কাছে কি সবাই জিম্মি নাকি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এমন কোন গোপন বিষয় অাছে যে শিক্ষা ক্যাডারের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সব ফাঁস হয়ে যাবে?

  4. saif saifullah says:

    মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, যোগ্য ও মেধাবী ক্যাডার স্যারদের ব্যপারে আপনি কি বলেন? একই দোষে দুষ্ট হলে একই শাস্তি হওয়া উচিত নয় কি?

  5. rohan says:

    ওদের কিছু হলে সব অচল করে দেবে।

  6. জিয়াউর রহমান says:

    একজন মডারেটর কিভাবে নোট বই থেকে প্রশ্ন করলো। প্রশ্ন কর্তাকে না ধরে মডারেটরকে ধরে নোট বই থেকে প্রশ্ন করা বন্ধ করা যাবে না। কারণ মডারেটররা প্রশ্ন তৈরি করেন না শুধু সমন্বয় করেন। এভাবে মডারেটদের হেনস্থা করা হলে ভবিষ্যতে মডারেটর হিসেবে কেউ দায়িত্ত্ব পালন করবে না।

  7. শাকির says:

    রিপোর্টার বললেন, ‘ইতিমধ্যে তাদের হাতেও পৌঁছেছে অভিযোগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থার চিঠি।’
    তার মানে, বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছে। তাহলে রিপোর্টের শিরোনাম এই ভাবে দেওয়া হলো কী কারণে?! অপরাধী বা অভিযুক্ত যে বা যারাই হোন না কেনো, অবশ্যই উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধতো অপুরাধই, তার সাথে ক্যাডার-নন ক্যাডার কীভাবে জড়িত??!

  8. মোঃ হবিবর রহমান, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর says:

    গাইড বই থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল না কি তারা যে প্রশ্ন করেছিল তা গাইড বই কোম্পানীকে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করেছিল। গাইড বই কোম্পানি যদি অর্থের বিনিময়ে একাধিক প্রশ্নকর্তা বা মমডারেটরদের নিকট হতে প্রশ্ন সংগ্রহ করে গাইড বইয়ে বা কোন টেস্ট পেপারে সন্নিবেশিত করে কিছু প্রশ্ন তো হুবহু কমন থাকবেই। এতেই তো ব্যবসায় বাজিমাত। যাদের প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছিল এবং যাদেরগুলো আসেনি সকল প্রশ্নের তদন্ত হোক। আমার মনে হয় অনেক প্রশ্নই গাইড বইয়ের সংগে মিলে যাবে। ব্যাবসায়ীদের নেটওয়ার্ক বোর্ড এবং শিক্ষক পর্যন্ত বিস্তৃত থাকতে পারে। ঠিক ঔষধ কোম্পানিগুলো যেভাবে ব্যাবসার জাল বিস্তৃত করছে।

  9. রিফাত চৌধুরী, ইসলামপুর, জামালপুর। says:

    উনাদের তো সাত খুন মাফ। কিছুদিন পর আন্দোলন করে তারা বাংলাদেশের সংবিধান ও হয়তো নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেবে। সরকারও তাদের সামনে ভেজা বেড়াল।।

  10. simul tagore says:

    বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধে কে? বলুন তো এমন সাহস কার আছে? নেই

  11. রতন বাড়ৈ says:

    বি সি এস হলেইতো তাদের হনুমানের মত লেজ গজায়। আর এতেই তারা সাধারণের থেকে আলাদা হয় তাদের আবার দোষ ! যত দোষ নন্দ ঘোষ(বেসরকারী শিক্ষক) ।

  12. Anirban Bala, kadambari High School,madaripur. says:

    টাকা ঘুষ দিয়ে মডারেটর হয়েছে ঐ বি.সি.এস বাবুরা টাকার বিনিময়ে ক্যাডার হয়েছে । গাইড দেখে প্রশ্ন করবে না তো কি করবে? ওনাদের নাম ছড়াতে তা যেভাবে ছড়ায় !

  13. Md. Mahabbat Saifullah Bhuiyan says:

    সরকারি কলেজ বলে কথা। ভাগ্যিস MPO ভূক্ত নয়!

  14. মো কামাল উদ্দিন says:

    ওনারা কোটার বদৌলতে বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করেছেন বলে মনে হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে এক্টা বিপ্লবের অপেক্ষায় রইলাম।

  15. মোহাম্মদ আবদুর রহিম says:

    অন্যায় যদি একই হয় অন্যায়ের শাস্তি একই হওয়া উচিৎ । ক্যাডার গন অন্যায় করে পার পেয়ে যাবেন আর বেসরকারি শিক্ষকগন চাকুরী হারাবেন এটা কোন সভ্য জাতির আইন হতে পারে না ।

  16. Mir Mahmud Hossain, Shahid Smrity Degree College. says:

    ক্যাডার-বেশী কতা কইলে খবর আচে।

  17. Masud Mostafa Masud says:

    বেসরকারিদের তো দোষের শেষ নেই, তা ছাড়া জ্ঞান গরিমাও কম কিন্তু ক্যাডার বাহিনী তো আল্লাহর ফেরেস্তা, তাদের আবার দোষ কিসের? ক্যডারী ফাইল গায়েব করে বেসরকারি ফাইল চাঙ্গা করুন। কারণ ওরা বেসরকারি ।

আপনার মন্তব্য দিন