আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


গোদাগাড়ীর শিক্ষা কর্মকর্তা জেলে

রাজশাহী প্রতিনিধি | নভেম্বর ১৪, ২০১৭ | স্কুল

সমাপনী বৃত্তির ফল জালিয়াতির অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাখি চক্রবর্তীকে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় রোববার বিকেলে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।

এর আগে সকালে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন রাখি চক্রবর্তী। এ সময় বিচারক আকতার উল আলম তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৪০ শিক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে বৃত্তি পাইয়ে দেন কর্মকর্তারা। বিষয়টি ফাঁস হলে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে অভিভাবক মহল। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ২১ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ নগরীর রাজপাড়ায় থানায় মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই গ্রেফতার হন মামলার প্রধান আসামি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম। খবর পেয়ে আত্মগোপন করেন মামলার অন্য দুই আসামি তৎকালীন বোয়ালিয়া প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তী ও কম্পিউটার অপারেটর সোনিয়া খাতুন।

আত্মগোপনে থেকে গত ২৩ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন রাখী চক্রবর্তী। ২০১৬ সালে রাখী চক্রবর্তীকে গোদাগাড়ী উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। উচ্চ আদালতের জামিন শেষে রোববার আদালতে হাজির হন তিনি। ওই মামলায় গত ১১ সেপ্টেম্বর আবুল কাশেম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

এর আগে বৃত্তি জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। সত্যতা পাওয়ায় ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। সাময়িক বরখাস্ত করা হয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেমকে।

তবে গত ৮ আগস্ট প্রত্যাহার করা হয় সেই আদেশ। এরপর তাকে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করে অধিদফতর। আবুল কাশেমের বাড়ি রাজশাহী নগরীর ভদ্রা এলাকায়।

নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন আবুল কাশেম। ঘুষ না দেয়ায় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে শিক্ষকদের। একই অভিযোগ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও।

কিন্তু অনিয়ম করেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে বৃত্তি পাওয়া ৪০ শিক্ষার্থীর ফল বাতিল করা হয়। তাদের স্থলে নতুন ৪০ জনকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। আরও ২২ জনের সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। সেই সঙ্গে বৃত্তি বাতিল করা এই ৪০ শিক্ষার্থীকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে বৃত্তি বাবদ উত্তোলিত অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে জমা করতে বলা হয়।

মন্তব্যঃ ৩১টি
  1. শাহ্ আলম খাঁন অধ্যক্ষ, বারভাগ আলিম মাদ্রাসা ,বাঘরপড়া,যশোর । says:

    রাখি চক্রবর্তীকে স্থায়ী ভাবে জেলখানায় রেখে দিলে ভাল হয় ,তা না হলে আবার এই অপকর্মটি করবে।

  2. Bishnu Chandra Modak প্রভাষক,সুন্দরগঞ্জ কারিগরী বাণিজ্যিক কলেজ, গাইবান্ধা। says:

    অন্যায় করা উচিত হয়নি।

  3. আমজাদ says:

    শিক্ষাবিভাগের সকল দূর্নীতিবাজ ও নকল সনদে চাকরি নেওয়া দেরকে খুজে বের করে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে, তাহলের শিক্ষার মান বাড়বে।

  4. মো: এমরান আলী, প্রভাষক, পরিসংখ্যান , আবদুল মতিন খসরু মহিলা কলেজ, ব্রাহ্মনপাড়া, কুমিল্লা। says:

    বৃত্তি পাইয়ে দেওয়াটা বড় অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিচার করা উচিৎ।

  5. চুর তো চুরই , এদেরকে হাত কেটে দেওয়া উচিত। পিবিহাইস্কুল এন্ড কলেজ, গোয়াইনঘাট, সিলেট। সহঃশিঃ ব্যঃশি।

  6. শ্রদ্ধার সাথে দুদকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণকরে বলছি, আপনারা ডানে বামে চোখ রাখুন। সহঃশিঃ ব্যঃশিঃ। পিবিহাই স্কুল, গোয়াইনঘাট।

  7. বাপন কুমার বসু says:

    জনাব শাহ আলম খান সাহেব রাখি চক্রবর্তীকে স্থায়ী ভাবে জেলখানায় রাখলে যদি ভাল হয় তবে আবুল কাশেম এর কি হওয়া উচিত সেটা তো বলবেন।

  8. বাপন কুমার বসু says:

    জনাব শাহ আলম খান, আবুল কাশেম এর জন্য কি ব্যবস্থা সেটা বলবেন না? যশোরে বাঘারপড়া আছে কিনা আমার জানা নেই ।

  9. মোঃ হবিবর রহমান, প্রভাষক, পরিসংখ্যান, দিনাজপুর। says:

    শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক – তার উপর যাদেরই অবস্থান – প্রধান শিক্ষক, সুপার, অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে উপরে যতদূরেই যাবেন সবারই একটাই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য কিভাবে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদেরকে শোষণ করা যায়, কিভাবে টাকা কামানো যায় তার নিত্যনতুন কৌশল আবিষ্কার করা। শিক্ষায় মহাসংকট বলতে এখন এটাই। এখান থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে গোটা শিক্ষা ব্যাবস্থা নৈতিকতা তো ইতিমধ্যে অনেকটাই হারিয়েছে, মহাবিপর্যয় অনিবার্য।

  10. Md.Abdul Malek says:

    unprecedented punishment should be given.

  11. মোঃ মিলন হোসাইন says:

    এধরনের অপরাধ কঠোর ভাবে দমন করা দরকার৷ শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউই নিরাপদ নয়৷ শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিরাপত্তার বিষয়টিকে আরও বেশী গুরুত্ব দেওয়া উচিত৷

  12. স্বপন রায় says:

    অভিযোগ নয়,সারাদেশের জেলা বা উপজেলা পর্যায় দুদক যদি অভিযান চালায় তাহলে এ কুশি লবের খোঁজ পাওয়া যাবে। এদের জন্যে যে কত কোমল মতি শিশুমনে আঘাত করা হয়েছে কেউ কি তার হিসাব রেখেছে।।

  13. মোশতাক আহাম্মদ সহকারি শিক্ষক, খলিল পুর উচ্চ বিদ্যালয়,দেবিদ্বার, কুুমিল্লা। says:

    মানু্ষ এত নিচে নেমে গেলে সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থা থাকবে না।

  14. মোশতাক আহাম্মদ সহকারি শিক্ষক, খলিল পুর উচ্চ বিদ্যালয়,দেবিদ্বার, কুুমিল্লা। says:

    মানু্ষ এতটা নিচে নেমে গেলে তো হবে না।

  15. মোশতাক আহাম্মদ সহকারি শিক্ষক, খলিল পুর উচ্চ বিদ্যালয়,দেবিদ্বার, কুুমিল্লা। says:

    খুব খারাপ।

  16. মোহা: এনাম says:

    আপনার মন্তব্য : ওনিও সম্ভবত এভাবে পাশ করে এ পর্যন্ত এসেছেন !

  17. Araf says:

    এ ভাবেই বদলাতে হবে এই জাতি কে

  18. মোঃশরিফুল ইসলাম,প্রভাষক,ব্যবস্থাপনা বিভাগ,গ্রামপাংগাসি ডিগ্রি কলেজ,রায়গঞ্জ,সিরাজগঞ্জ says:

    অপরাধের বিচার হওয়া উচিৎ।

  19. রবিউল ইসলাম says:

    প্রত্যেক উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা অফিসে এই রকম হাজারো শিক্ষা কর্মকর্তার দেখা মিলবে। এই জন্য দুদকের কার্যক্রম আরও সমপ্রসারণ করা উচিত।

  20. বাহারুল ইসলাম says:

    অন্যায়কারী যেই হোক বিচার
    হওয়া উচিত।

  21. Nazmul says:

    কারাগারে যতই রাখুক,আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যাবে ।

  22. মাহবুব লিমন says:

    যে ৪০ জন কোমলমতি শিশু, জীবনের প্রারম্ভেই কোনকিছু বুঝে ওঠার
    আগেই এই অপকর্মের শিকার হল, এই দায়ভার কে নিবে??? মাননীয় সরকারের কাছে আকূল আবেদন এই অপকর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে উপযুক্ত দেওয়া হউক।

  23. ashraful alam says:

    যে দেশে মেধার থেকে টাকার মূল্যায়ন বেশি হয় সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটাটায় স্বাভাবিক। যেখানে এক অর্ডারে নিম্ন মেধার লোকেরা সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখেন তারা প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়ে গেছেন, সেখানে রাখি চক্রবতীদের দোষ দিয়ে কি কোন লাভ আছে, বরং এরাই সমাজের আদর্শ হওয়া উচিৎ।

  24. মোঃ আবদুল মান্নান। শ্যামগঞ্জ বাজার,ময়মনসিংহ। says:

    অপরাধীর অপরাধের বিচার। আর এভাবে বিচার হলে ঘোষ-দূর্নীতি এত বাড়ত না।

  25. মোঃ সায়েদুর রহমান says:

    এসব দুর্নীতিবাজদের কঠিন শাস্তি হওয়া জরুরী।

  26. Bipro das Biswas says:

    অপরাধ প্রমানিত না হওয় পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা উচিত নয়।

  27. অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ্‌ says:

    উচিৎ শিক্ষা হোক শিক্ষা কর্মকর্তার।

  28. মো: কামাল উদ্দিন says:

    চাকুরী থেকে বরখাস্ত করুন। জাতিটাকে শেষ করে ফেলল এরা।

আপনার মন্তব্য দিন