আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


পদ পেতে মরিয়া অছাত্র, বিবাহিতরা

জবি ছাত্রদলের কমিটি শিগগিরই

লতিফুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি | জানুয়ারি ৭, ২০১৬ | ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি

Ju-Jcdফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই কমিটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের যদি বাদ দেয়া হয় তাহলে আগের কমিটির মত নিষ্ক্রিয়ই থাকবে এমনটি জানিয়েছে জবি ছাত্রদলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঘোষিত সুপার ফাইভ কমিটির কারও ছাত্রত্ব ছিল না।

প্রায় এক যুগ আগে ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের ছাত্রত্ব শেষ হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের পদ পেতে ফের মরিয়া অছাত্র,ব্যবসায়ী, বিবাহিত ,ও পার্টটাইম নেতারা।

কিন্তু দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিয়ে, ছাত্রত্ব শেষ ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বছরের পর বছর অছাত্র , ব্যবসায়ী, বিবাহিত , পার্টটাইম নেতারা জবি ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।

ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ৪ সেপ্টেম্বর অছাত্র, ব্যবসায়ী, বিবাহিত, পার্টটাইম নেতা অপরিচিত ও বিতর্কিতদের নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঘোষিত সুপার ফাইভ কমিটি কেউই নিয়মিত ছাত্র নয়। ত্যাগী ও সংগ্রাামী নেতারা কমিটিতে পদ পায়নি বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদলের নেতাকমীরা। সুপার ফাইভ কমিটির সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল সাবেক জগন্নাথ কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এক যুগ আগে তার ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যায়। তিনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ওমর ফারুক মুন্না কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়ে চমক দেখিয়ে ছিলেন। তিনি সাবেক জগন্নাথ কলেজের ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষের রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ছাত্রদলের নেতৃত্বে তিনি আসতে পারেন এমনটা কেউই ভাবতে পারেননি।

নেতাকর্মীরা জানান, সক্রিয়ভাবে তিনি কখনো ছাত্রদল করেননি। এর আগের গঠিত চারটি কমিটি টিপু-সাত্তার, সাত্তার-পারভেজ, পারভেজ-খোকন, শাহীন-খলিল কমিটিতে ছিলেন না। এমনকি ছাত্রদলে তার সদস্যপদও নেই।কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজিব রহমান বর্তমানে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তিনি সাবেক জগন্নাথ কলেজের ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন সাবেক জগন্নাথ কলেজের ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র। সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম মোহসিন বিশ্বাস তিন্্িও অর্থনীতি বিভাগের ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবষের্র শিক্ষার্থী।তাদের তিনজনের ছাত্রত্ব শেষ হয় প্রায় ৭ বছর আগে। দীর্ঘ ৩ বছরের মধ্যে তারা পূর্ণাঙ্গ কমিট্ওি গঠন করতে পারেনি।

নতুন কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- বিবাহিত ও ২ সন্তানের জনক রফিকুল ইসলাম রফিক, বিবাহিত ও ১ সন্তানের জনক আসিফ রহমান বিল্পব, তামিরুল মিল্লাত যাত্রাবাড়ী শাখার শিক্ষার্থী ওমর ফারুক কাওছার, সিরাজুল ইসলাম ছারছিনা মাদরাসার শিক্ষার্থী, সাখাওয়াত হোসেন, শামীম হোসেন, জকির হোসেন উজ্জল, আব্দুল মান্নান, মিজানুর রহমান, ইব্রাহীম খলিল, মাহমুদুল হাসান রঞ্জু, আসিফ রহমান, রিয়াজ মোহাম্মদ এলিন, রাজীবুল ইসলাম সোহেল, আসাদুজ্জামান আসলাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন,‘শুধু কর্মী দিয়ে সংগঠন চালানো যায় না। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও কৌশলী নেতা। কিন্তু সুপার ফাইভের কমিটির র্কাও ছাত্রত্ব নেই, তারা ক্যাম্পাসে নিয়মিত আসে না। তাদের নিজস্ব ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাছাড়া তারা কেউ মাঠেও নামতেন না, এমনকি পদ পাওয়ার পর একজনকে কোন আন্দোলন সংগ্রামে দেখাই যায়নি।অথচ ছাত্রলীগের সাথে আতাত করে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য বহাল তবিয়েতেই ছিল।

সূত্র জানায়, এ বছওে আন্দোলনের উত্তাল সময়েও জবি ছাত্রদলকে কোন আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায় নি। এ ব্যর্থতার দায়ে বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার দাবি উঠেছে। নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও বিএনপি নেতাদের কাছে লবিং করছেন জবি ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। নতুন কমিটি হওয়ার গুঞ্জনে দীর্ঘদিন ধরে পদবঞ্চিত নেতারাও নড়েচড়ে বসেছেন।

এদিকে ছাত্রদল সূত্র জানিয়েছে,নতুন কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচ থেকে নেতা নির্বাচন করা হতে পারে। সে তালিকায় রয়েছেন- জাকির হোসেন খান উজ্জ্বল, আলেক্স আকন্দ, আবদুল মান্নান, সাঈদ ভুঁইয়া, আবুল খায়ের ফরাজি ও মিজানুর রহমান শরিফ। ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পদ পেতে ফের তৎপর হয়ে উঠছে ছাত্রদল নামধারী অছাত্র,ব্যবসায়ী, বিবাহিত ও চাকরিজীবী নেতাকর্মীরা। শুধু তাই নয় বর্তমান কমিটির নের্তাাও ফের পদ পেতে তৎপর হয়ে উঠেছে। নিয়মিত ছাত্র এবং ত্যাগী কর্মীদের দিয়ে কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রামের সাথে জড়িত থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মীরা।

এ বিষয় জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক আকরামুজ্জামান বলেন কমিটি গঠনের কাজ চলছে। যে কোনো সময়ে কমিটির ঘোষণা করা হতে পারে। নিয়মিত ছাত্র এবং ত্যাগী কর্মীদের দিয়ে জবি ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হবে।


আপনার মন্তব্য দিন