জ্ঞানের উৎকর্ষই শেষ কথা - মতামত - Dainikshiksha


জ্ঞানের উৎকর্ষই শেষ কথা

ড. মাহবুব উল্লাহ্ |

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেল। এ নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে নতুন একটি রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলের হিসাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়। সরকার গঠন করতে হলে দলটিকে অন্য কোনো দল অথবা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমর্থন অর্জন করতে হবে। দলটি হল প্রখ্যাত ক্রিকেটার ইমরান খানের নেতৃত্বে গঠিত পাকিস্তান তেহরি-ই-ইনসাফ।

দল গঠনের পর দীর্ঘ ২২ বছর ইমরান খানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। ইমরান খান নিজে পাঁচ পাঁচটি আসনে জয় লাভ করেছেন। তিনি প্রাথমিক ফলাফল দেখে জাতির উদ্দেশে কিছু বক্তব্য রেখেছেন।

একজন কলাম লেখকের কাছে নির্বাচনের টাটকা খবরের ওপর কিছু বিশ্লেষণ হাজির করা অনেকেরই প্রত্যাশা। পেশাদার কলাম লেখক বলতে যা বোঝায় সেই ধরনের কলামিস্ট আমি নই। পেশাগত দিক থেকে আমি একাডেমিক।

তাই প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ না করে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা বিশ্লেষণ হাজির করা আমার চরিত্রের সঙ্গে যায় না। সুতরাং কথা দিচ্ছি সাধ্যমতো জেনে বুঝে বিষয়টির ওপর কোনো এক সময়, সম্ভব হলে আগামী সপ্তাহে লেখার চেষ্টা করব।

আপাতত দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর নয়, এমন একটি বিষয়ই লিখব বলে ভেবেছি।

২৭ জুলাই ২০১৮ বণিক বার্তার লিড নিউজ: মৌলিক জ্ঞান নেই, তবু বিজ্ঞানের শিক্ষক। এ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘পাঠ্যবইয়ে লেখা সিএলটু। এর রাসায়নিক নাম ক্লোরিন। আর শিক্ষক পড়াচ্ছেন সিওয়ানটু।

অষ্টম শ্রেণীতে বিজ্ঞানের পাঠ দিতে এমন ভুল শেখাচ্ছিলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কোনটির স্থিতিস্থাপকতা বেশি- লোহা না রাবারের? এ প্রশ্নে একজন শিক্ষকের প্রথমবারের উত্তর- লোহা।

পরক্ষণেই বললেন, ‘না না, লোহা নয়, রাবারেরই স্থিতিস্থাপকতা বেশি।’ প্রশ্নগুলো ছিল রসায়ন বিজ্ঞানের ওপর। ইংরেজিতে ছোট হাতের এল লেখাটি অনেকটা ইংরেজি ওয়ানের মতো দেখায়। এজন্যই হয়তো শিক্ষক পড়াচ্ছিলেন ‘সিওয়ানটু’।

যেহেতু আলোচ্য শিক্ষকের বিজ্ঞানের কোনো জ্ঞান নেই, অথবা অত্যন্ত নড়বড়ে, সে কারণেই শিক্ষক দিনের পর দিন ছাত্রদের ভুল শিখিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কী দৈন্যদশা, এ থেকেই অনুমান করা যায়।

সরকারের লোকেরা অহর্নিশি বলে চলছেন, বাংলাদেশকে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করছেন। এক্ষেত্রে তাদের সাফল্য ৮০ শতাংশেরও বেশি। অন্য দেশ থেকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ক্রয় করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

তবে এ প্রযুক্তিকে সার্বিকভাবে আয়ত্ত বা আত্মস্থ করার জন্য উচ্চতর গণিতে পারঙ্গম হতে হয়। পদার্থ বিজ্ঞানেও পারঙ্গমতা অর্জন করতে হয়।

আমরা যদি আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের এসব মৌলিক জ্ঞানে চৌকস করে তুলতে না পারি তাহলে একদিকে যেমন এ প্রযুক্তি আত্মস্থ করা সম্ভব হবে না, অন্যদিকে তেমনি এ প্রযুক্তিকে আরও অগ্রসর করে নেয়া সম্ভব হবে না।

এরকম হতাশাব্যঞ্জক উক্তির জন্য অনেকেই হয়তো রুষ্ট হবেন। তারা বলবেন, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা কি গণিত অলিম্পিয়াডের মতো প্রতিযোগিতায় শিরোপা অর্জন করছেন না?

কিংবা নতুন নতুন কম্পিউটার প্রোগ্রাম ও সফটওয়্যার আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন না? আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের দেশে এ ধরনের সাফল্যের হার কি অতি সামান্য নয়?

আমরা কি আরও অনেক বেশি ভালো করতে পারতাম না? কম্পিউটার প্রযুক্তি অনেকদূর এগিয়ে গেছে। এখন এ প্রযুক্তির চমক দেখা যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের ক্ষেত্রে।

এই ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের দেশে স্বনামধন্য বিজ্ঞানীর সংখ্যা কত? বাংলাদেশের কোনো কোনো নাগরিক বিদেশের মাটিতে বসে এসব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দেশে ফিরলে তাদের এ কাজের সাফল্য শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে, তাই তারা বিদেশেই থেকে যাওয়া পছন্দ করছেন।

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারগুলোতে এ ধরনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার পরিবেশ খুবই উদ্দীপনাময়, এরকম পরিবেশের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা অনেকদূর এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশেও দু’একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হার্ভার্ড-এমআইটি থেকে পিএইচডি করা কিছু শিক্ষক আছেন, তারা নিঃসন্দেহে খুবই প্রতিভাবান। তাই যদি না হতো তাহলে এমন সব নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা সম্ভব হতো না।

কিন্তু তাতে কী হয়েছে? দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তারা কতটুকু নতুন ও মৌলিক গবেষণা করতে পারছেন, সেটাই প্রশ্ন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাবে দেশে ফেরার পর এদের আউটপুট শূন্যের কোঠায়।

কেন এই নৈরাশ্যজনক অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে? প্রথম কথা হল, প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখানে নেই। দ্বিতীয়ত গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুবই সামান্য অর্থ বরাদ্দ করে। তারও চেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জ্ঞানচর্চায় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই।

এখানে কেউ যদি নতুন কোনো চিন্তা-ভাবনা করে তাহলে সেটা যাচাই করার জন্য কিংবা এর দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার জন্য অন্য কাউকে পাওয়া যায় না। এ ধরনের চ্যালেঞ্জবিহীন পরিস্থিতি জ্ঞানচর্চার জন্য কিংবা নতুন জ্ঞান উৎপাদনের জন্য মোটেও সহায়ক নয়।

পৃথিবীর ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে আফটার লাঞ্চ সেমিনার নিত্যদিনের কাজের অন্তর্গত। এরকম আফটার লাঞ্চ সেমিনার কোনো আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে হয় না। ৭-৮ জন অধ্যাপক এক টেবিলে মিলিত হয়ে যার যার চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার বিষয়গুলো অন্য সহকর্মীদের সামনে পেশ করেন।

জমে ওঠে গভীর তাত্ত্বিক অথবা বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা। এরকম আলোচনার মধ্য দিয়েই জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ উঠে আসে। জ্ঞানের ভাণ্ডার হয় আরও সমৃদ্ধ এবং আরও প্রসারিত।

আমার নিজের ব্যক্তিগত একটি হতাশার কাহিনী পরিবেশন করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আমি অধ্যাপনা করতাম, তখন আমি আমার কলিগদের অনুরোধ করতাম, চলুন আমরা সপ্তাহের একটি দিন রিডিং সেমিনারের জন্য বাছাই করে নেই।

এ সেমিনারে নতুন কোনো গবেষণা-প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে হবে না। প্রত্যেকে যে যার মতো নতুন কিছু পড়েন, তা গবেষণা জার্নালের আর্টিক্যাল হোক অথবা নতুন কোনো গ্রন্থ হোক, তা পাঠ করার পর কে কী জেনেছেন বা বুঝেছেন সেটাই রিডিং সেমিনারে উপস্থাপন করা হবে।

উপস্থাপনের পর এক কাপ গরম কফি পান করতে করতে সবাই মিলে সেটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করব। এ ধরনের রিডিং সেমিনারের সুবিধা হল, যৌথ অংশীদারিত্বের ফলে সবাই কম বেশি নতুন জ্ঞানে সমৃদ্ধ হবে।

নতুন জ্ঞান খোঁজার পরিশ্রমও অনেকটা লাঘব হবে। একজনের পাঠ অন্য দশজনকে সমৃদ্ধ করবে, আলোকিত করবে। এরকম সেমিনারের আরেকটি বড় সুফল হল, জ্ঞানের ক্ষেত্রে কী অগ্রগতি হচ্ছে তার সঙ্গে পরিচিত হওয়াও সহজসাধ্য হবে।

অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমার এ প্রচেষ্টা কখনই সাফল্যের মুখ দেখেনি। আমরা অনেকেই মনে করি যথেষ্ট বিদ্যাচর্চা করা হয়েছে। অধিকতর চর্চার আর কোনো প্রয়োজন নেই।

এর একটি বড় কারণ একাডেমিক পদোন্নতির জন্য এদেশে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ক্ষমতার রাজনীতির চর্চা করতে অতি উৎসাহ লক্ষ করা যায়।

কারণ তরক্কির জন্য এটাই সহজ পন্থা। জ্ঞানচর্চার মধ্যে যে আনন্দ আছে এবং এর ফলে যে মানসিক পরিতৃপ্তি পাওয়া যায় তার সঙ্গে অন্য কোনো আনন্দের তুলনা করা যায় না।

এ মহৎ আনন্দের উপলব্ধি যদি আমাদের মতো লোকদের মধ্যে থাকত, তাহলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোর চেহারা অন্য রকম হতো। জ্ঞানের দিক থেকে জাতির বুনিয়াদ হতো অনেক বেশি মজবুত।

এদিক দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের বিদ্যানুরাগীরা অনেকদূর এগিয়ে গেছেন। হাল আমলে অবশ্য বিজেপি সরকার তার নিজস্ব আইডিয়োলজিক্যাল হেজিমনি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অবাধ জ্ঞানচর্চার অনেক ক্ষতি করছে। আমাদের দেশেও অনুরূপ প্রয়াস লক্ষ করা যায়।

বণিক বার্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞান শিক্ষকদের নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান না থাকার তথ্য পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

এসব গবেষক আন্তরিক অভিনন্দনের যোগ্য। মাধ্যমিক স্কুলের যেসব শিক্ষক নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে তাদের অনেকেই ১২ বছরের বেশি সময় ধরে অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করছেন, বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়ে কোনো জ্ঞান ছাড়াই।

কয়েক বছর আগে পিএইচডি গবেষণার সময় বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নন-সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষক দ্বারা বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদানের বিষয়টি গবেষকের নজরে আসে। এর প্রকৃতি ও প্রভাব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সম্প্রতি এ গবেষণার ফলাফল হাতে এসেছে।

গবেষণায় যেসব বিষয় উঠে এসেছে, তা খুবই ভয়াবহ। বিদ্যালয়গুলোয় পাঠদান পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে শিক্ষক নিজেই অনেক বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা না রেখেও ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন।

আবার কিছু বিষয়ে শিক্ষকরা নিজেরাই ভুলের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া পাঠদান পদ্ধতিও ঠিকমতো অনুসরণ করা হচ্ছে না। এসব যে কত সর্বনাশা ব্যাপার তা ভেবেও কূল পাওয়া যায় না।

কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদের কথাকেই বেদবাক্য বলে মেনে নেয়। এর ফলে ভুল শেখানোর ফল যে কত ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের না হয়েও মাধ্যমিক শ্রেণীর বিজ্ঞান পড়াচ্ছেন এমন ১৪ জন শিক্ষকের ২৮টি ক্লাস পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা। তাদের পর্যবেক্ষণে নন-সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের বিজ্ঞান শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা ও অজ্ঞতার চিত্র ফুটে আসে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, এমনকি কলেজগুলোতে বিজ্ঞানের বিষয়গুলো পড়ানোর মতো যোগ্য শিক্ষকের খুবই অভাব আমাদের দেশে। সাধারণভাবে বলা যায়, মৌলিক বিজ্ঞান পাঠ করার জন্য উৎসাহী শিক্ষার্থীও কমে যাচ্ছে।

ফলে স্কুল কলেজের জন্য ভালো বিজ্ঞান শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। দালান-কোঠার মতো অবকাঠামোর চেয়ে শিক্ষার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল শিক্ষক। ভালো শিক্ষকের কাছে পাঠ নিলে ছাত্রছাত্রীরাও উন্নতমানের জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

সাধারণভাবে বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে গণিতের প্রতি অবহেলা লক্ষ করা যায়। অথচ গ্রিক দার্শনিকরা বলেছেন, গধঃযবসধঃরপং রং ঃযব সড়ঃযবৎ ড়ভ ধষষ ংপরবহপবং. আজকাল অধিকাংশ উচ্চতর জ্ঞানের বিষয়ের জন্য গণিত অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ইতিহাস ও ভাষা বিজ্ঞানের মতো বিষয়েও গণিতের ব্যবহার হচ্ছে ব্যাপকভাবে।

সুতরাং গণিতকে অবহেলা করে আধুনিক যুগে জ্ঞানের কোনো ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব নয়। যেসব বিষয়গুলোকে সফট সায়েন্স মনে হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রেও গণিতের ব্যবহার অনিবার্য। যেমন ভূগোল ও প্রাণবিজ্ঞান।

অথচ বাংলাদেশে পাস কোর্সে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব গণিত পাঠ না করেই। ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য যোগ্য শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো রয়েছে শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণের দুষ্ট প্রভাব।

বিজ্ঞান শিক্ষার অবস্থা আলোচনা করা হল। কিন্তু ভাষা শিক্ষারই বা অবস্থাটি কী? এক্ষেত্রেও যোগ্য শিক্ষকের দারুণ ঘাটতি। দেশে হাজার হাজার স্কুল-কলেজ হয়েছে। হয়েছে প্রায় দু’শর মতো সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যোগ্য শিক্ষকের বড় অভাব। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো দুর্বল বলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোও দুর্বল। আবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো দুর্বল হওয়ার ফলে কলেজগুলোও দুর্বল।

দুর্বলতার দুষ্টচক্রের মধ্যে পড়ে গেছে আমাদের গোটা শিক্ষাব্যবস্থা। ভালো শিক্ষকের ঘাটতির ফলেই শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য দিনে দিনে ম্লান হয়ে পড়ছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার(?) দিতে গিয়ে প্রযুক্তির অন্য ধাপগুলোকে অবহেলা করা হচ্ছে। অথচ প্রযুক্তি একটি কম্পোজিট বিষয়। এর কোনো স্তরকে অবহেলা করে অন্য স্তরে ভালো কোনো ফল পাওয়া যাবে না।

বিদেশ থেকে কিছু গেজেট আমদানি করলেই প্রযুক্তি নিজে থেকেই মগজে ঢুকে যায় না। এর জন্য প্রয়োজন একটি সর্বাত্মক প্রয়াস। জ্ঞানের কোনো শাখাকে অবহেলা করে একটি জাতি সভ্য হয়ে উঠতে পারে না।

তবে বোধহয় গণিত শাস্ত্রে পারঙ্গমতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শোনা যায় গণিতের ক্ষেত্রে চীনারা এক নম্বর অবস্থানে চলে গেছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে রাশিয়া।

সুতরাং আগামীতে এরকম দেশগুলোই যে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে বসবে, তাতে যথার্থতা আছে বৈকি। আমরা যতদিন বুঝব না যে, জ্ঞানই শক্তি, ততদিন জাতি হিসেবে আমরা দুর্বল থেকে যাব।

শিক্ষা ও জ্ঞানকে অবহেলা করে উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থানের দাবি অন্তঃসারশূন্য হয়ে থাকবে। রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, তাদের এই নির্মম সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে। জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে গুণগত উৎকর্ষের কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

 

সৌজন্যে: যুগান্তর




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষার ফল ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ - dainik shiksha এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষার ফল ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ ১ জুলাই থেকে পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট কার্যকরের আদেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের - dainik shiksha ১ জুলাই থেকে পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট কার্যকরের আদেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজয় দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নির্দেশ - dainik shiksha বিজয় দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নির্দেশ স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী - dainik shiksha স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী বদলে যাচ্ছে বাংলা বর্ষপঞ্জি - dainik shiksha বদলে যাচ্ছে বাংলা বর্ষপঞ্জি ২০ হাজার টাকায় শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিক্রি করতেন তারা - dainik shiksha ২০ হাজার টাকায় শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিক্রি করতেন তারা অকৃতকার্য ছাত্রীকে ফের পরীক্ষায় বসতে দেয়ার নির্দেশ - dainik shiksha অকৃতকার্য ছাত্রীকে ফের পরীক্ষায় বসতে দেয়ার নির্দেশ আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু - dainik shiksha আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি - dainik shiksha নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রকল্প! - dainik shiksha শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রকল্প! দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website