ডিসেম্বরের স্মৃতি : মুহম্মদ জাফর ইকবাল - মতামত - দৈনিকশিক্ষা


ডিসেম্বরের স্মৃতি : মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মুহম্মদ জাফর ইকবাল |

ডিসেম্বর মাসটা অন্যরকম। কখনোই হয়নি যে, ডিসেম্বর মাস এসেছে আর একাত্তরের সেই বিস্ময়কর জাদুকরী দিনগুলোর কথা স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে ওঠেনি। মাঝেমধ্যেই মনে হয়, আমরা কী অসাধারণ সৌভাগ্যবান একটি প্রজন্ম, আমরা এবং শুধু আমরা ডিসেম্বর মাসের সেই বিজয় দিবসের অবিশ্বাস্য আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছি। মাঝেমধ্যেই কেউ কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে, আপনার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন কোনটি? শুধু দিনটি নয়, আমি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্তটি পর্যন্ত বলে দিতে পারি। ১৬ ডিসেম্বর যখন আমি প্রথম প্রকাশ্যে জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারিত হতে শুনেছিলাম, সেটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্ত।

সেই অবিশ্বাস্য আনন্দময় মুহূর্তের পর আমরা যখন একে অন্যের দিকে তাকিয়েছিলাম, তখন আমাদের সবার চোখে ছিল অশ্রু। আনন্দের অশ্রু নয়, গভীর বেদনার অশ্রু। কারণ একাত্তরের সেই বাংলাদেশে আমরা সবাই আমাদের কোনো না কোনো আপনজনকে হারিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ ছিল গভীর আত্মত্যাগ, অবিশ্বাস্য বীরত্ব এবং বিশাল একটি অর্জন। কিন্তু সবার ওপরে সেটি ছিল আমাদের সবার নাড়িছেঁড়া ক্রন্দনের ইতিহাস। এই দেশের মাটির মতো পৃথিবীর আর কোনো দেশ তাদের বক্ষে এত বেদনা ধারণ করেছে কি-না, আমি জানি না।

একাত্তর দেখেছে, সে রকম মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে খুব দ্রুত কমে আসছে। আর কয়েক বছর পর সে রকম মানুষের সংখ্যা হবে একেবারে হাতেগোনা কয়েকজন। এই দেশের নতুন প্রজন্ম তখন আর কারও কাছ থেকে সেই ইতিহাসটুকু কারও কণ্ঠে নিজের কানে শুনতে পাবে না। তখন তারা কি কখনও কল্পনা করতে পারবে- এই দেশের মানুষ পাকিস্তানি মিলিটারি এবং তাদের পদলেহী রাজাকার-আলবদরের হাতে কী অবিশ্বাস্য নৃশংসতার ভেতর দিয়ে গেছে?

২.

আমার মনে আছে, আমার একজন আমেরিকান বন্ধু সত্তরের দশকের শেষদিকে বাংলাদেশে এসেছিল। এখানে বেশ কিছুদিন থেকে সে আবার আমেরিকা ফিরে আমাকে একটা বিস্ময়কর কথা বলেছিল। সে বলেছিল, তোমাদের দেশের গণহত্যাটি এত ভয়ংকর, এত নৃশংস ও এত অবিশ্বাস্য যে, বেশ কয়েক বছর পর সেটি আর কেউ বিশ্বাস করবে না। আমি তার কথা সেদিন বিশ্বাস করিনি। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে ফিরে এসে দেখি, এই দেশেই যুদ্ধাপরাধীর দলটি সগর্বে বসবাস করছে। বাইরের পৃথিবী নয়, আমার দেশেই যুদ্ধাপরাধীর দল 'একাত্তরে কোনো ভুল করিনি'- ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভাগীদার হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে অস্বীকার করে এই দেশে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না- এই সহজ সত্যটিকে আমরা এখনও পুরোপুরি কার্যকরী করতে পারিনি। আমার মাঝেমধ্যে জানার ইচ্ছা করে, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধটি কি শুধু কিছু তথ্য, কিছু ইতিহাস, নাকি তারা সেটি হৃদয় দিয়ে ধারণ করতে পেরেছে? যদি না পেরে থাকে, সেটি হবে আমাদের অনেক বড় ব্যর্থতা।


৩.

ডিসেম্বর মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধটি দর্শক হিসেবে আমাদের অনেকের নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিত্র বাহিনী যুদ্ধ ঘোষণার পর গভীর রাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আক্রমণ শুরু হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান দিয়ে আকাশে গুলি করছে, আমরা সবাই আকাশে সেই গুলির নকশা দেখেছি। পৃথিবীর যে কোনো দেশে যখন বিমান আক্রমণ হয়, তখন সাইরেনের তীব্র শব্দে দিজ্ঞ্বিদিক প্রকম্পিত হয়। সব মানুষ তখন প্রাণ রক্ষা করার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে থাকে। ডিসেম্বরের প্রথমদিকে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাইরেন শুনে কেউ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যায়নি। এক ধরনের উল্লাস নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল! শুধু তাই নয়, দিনের আলো ফোটার পর ঢাকা শহরের বিল্ডিংয়ের ছাদে মানুষ আর মানুষ! সাইরেনের শব্দ শুনে কেউ পালিয়ে যাচ্ছে না; ছাদে দাঁড়িয়ে যুদ্ধবিমানের ডগ ফাইট দেখছে! পৃথিবীর কতজন মানুষ সত্যিকার যুদ্ধের সময় আক্রান্ত শহরের ছাদে দাঁড়িয়ে আনন্দ উল্লাস করতে করতে যুদ্ধবিমানকে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ করতে দেখেছে? যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস হতে দেখেছে? পাইলটদের প্যারাসুটে নামতে দেখেছে? এ রকম বিচিত্র যুদ্ধ নিশ্চয়ই পৃথিবীর খুব বেশি জায়গায় হয়নি।

একেবারে প্রথম কয়েক দিনের ভেতর বাংলাদেশের পুরো আকাশ মিত্র বাহিনীর দখলে চলে আসার পর শুরু হয়েছিল আরও বিচিত্র একটি যুদ্ধ। সেটি হচ্ছে বেতার তরঙ্গের যুদ্ধ। রেডিওতে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্য একটি এবং শুধু একটি বার্তা! সেই বার্তাটি হচ্ছে :'হাতিয়ার ডাল দো।' বাংলায় নিশ্চয়ই তার অর্থ- 'অস্ত্র সমর্পণ করো' কিংবা সোজা কথায়- 'আত্মসমর্পণ করো।' একটি কথা কতবার কতভাবে উচ্চারণ করা যায়, আমরা তার নমুনা দেখেছিলাম। আমাদের কাছে সেটি ছিল প্রায় কৌতুকের মতো। কিন্তু খাঁচায় আটকে থাকা ইঁদুরের মতো পাকিস্তান বাহিনীর কাছে সেই বার্তাটি ছিল নিশ্চয়ই এক ভয়ংকর বার্তা। সেগুলো নিশ্চিতভাবে তাদের নার্ভের দফারফা করে ফেলেছিল। শুধু যে রেডিওতে আত্মসমর্পণ করার কথা বলেছিল, তা নয়। আকাশ থেকে ক্রমাগত লিফলেট ফেলা হচ্ছিল। যুদ্ধের একেবারে শেষদিকে আমি যাত্রাবাড়ীতে একটা পরিবারের সঙ্গে ছিলাম। সেই পরিবারে অনেক শিশু বাচ্চা। যখন যুদ্ধ পুরোমাত্রায় চলছে তখন একেবারে কানের কাছে গোলাগুলির শব্দ, শেলিংয়ের শব্দ। বাইরে কারফিউ; কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। তখন বাসার সামনে একটি ট্রেঞ্চ কাটা হলো। যখন শেলিংয়ের শব্দ অসহ্য মনে হয়, তখন বাচ্চাগুলোকে নিয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে ট্রেঞ্চে বসে থাকি।

তারপর ১৬ ডিসেম্বর একটি অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখতে পেলাম। সেনাবাহিনী, তাদের কনভয়, তাদের ট্যাঙ্ক নিয়ে ফিরে আসছে। কাউকে বলে দিতে হয়নি, তাদের মাথা নিচু করে হেঁটে যেতে দেখেই আমরা বুঝে গেছি- তারা এখন পরাজিত, নিঃশেষিত। তখন আমি একটি করুণ দৃশ্য দেখেছিলাম। সেই দৃশ্য কখনও ভুলতে পারব না। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে ফিরে যাচ্ছে অসংখ্য বিহারি পরিবার। ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত পুরুষ, রঙিন কাপড় পরা নারী, বিভ্রান্ত কিশোর-কিশোরী এবং ভীত-আতঙ্কিত শিশু। তাদের জীবনে যে অমানিশা নেমে এসেছিল, তারা কি কখনও সেখান থেকে বের হতে পেরেছিল? পৃথিবীতে যুদ্ধ থেকে বড় নিষ্ঠুরতা কি আর কিছু আছে?

৪.

ডিসেম্বরের ১৭ তারিখ ভোরবেলা আমি একা একা ঢাকা শহরে হেঁটে বেড়িয়েছিলাম। মানুষের আনন্দের এ রকম স্বতঃস্ম্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ আর কখনও দেখা যাবে কি-না আমি জানি না। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের আনন্দ-উল্লাস। মুক্তিবাহিনী, স্বাধীন বাংলার পতাকা এবং জয় বাংলা স্লোগান। হেঁটে যেতে যেতে মাঝেমধ্যেই চোখ সরিয়ে নিতে হয়েছিল। পথেঘাটে এখানে-সেখানে মানুষের মৃতদেহ। কিছু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ড, কিছু সদ্য ঘটে যাওয়া রাজাকার-আলবদর কিংবা বিহারিদের ওপর নেওয়া প্রতিশোধ। একাত্তরে এ দেশের মানুষ যেভাবে মৃতদেহ দেখে অভ্যস্ত হয়েছিল, আর কিছুতে সে রকম অভ্যস্ত হয়েছিল কি-না, আমার জানা নেই।

হেঁটে হেঁটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এসে দেখি, একটা খবরের কাগজ বিক্রি হচ্ছে। দেশ মুক্ত হওয়ার পর প্রথম পত্রিকা। দুই পৃষ্ঠার পত্রিকা; কিন্তু সেটা খুলেই মনটা ভার হয়ে গেল। সেখানে আমি প্রথম জানতে পারলাম, বিজয়ের শেষ মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর বদর বাহিনী এ দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে গেছে। বধ্যভূমিতে তাদের অনেকের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, অনেকে এখনও নিখোঁজ। তখনও আমরা জানতাম না, তাদের কেউ আর বেঁচে ফিরে আসবে না। বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে প্রতিহিংসার এ রকম ভয়ংকর রূপ কি কেউ কখনও চিন্তা করতে পারে?

আমার মাঝেমধ্যেই ভাবনা হয়, আমাদের নতুন প্রজন্মকে কি  আমরা জানিয়ে যেতে পেরেছি, কত মূল্য দিয়ে আমরা এই স্বাধীনতাকে কিনেছি?

 

মুহম্মদ জাফর ইকবাল : লেখক ও শিক্ষাবিদ




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
২০২০ খ্রিষ্টাব্দের কলেজের সংশোধিত ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের কলেজের সংশোধিত ছুটির তালিকা ঢাবির ৬৭ শিক্ষার্থী আজীবন ও ২২ জন সাময়িক বহিষ্কার - dainik shiksha ঢাবির ৬৭ শিক্ষার্থী আজীবন ও ২২ জন সাময়িক বহিষ্কার চীন থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ৬ ফ্রেব্রুয়ারির আগে ফিরতে পারবে না :  স্বাস্থ্যমন্ত্রী - dainik shiksha চীন থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ৬ ফ্রেব্রুয়ারির আগে ফিরতে পারবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরস্বতী পূজার ছুটি ৩০ জানুয়ারি, আদেশ জারি - dainik shiksha সরস্বতী পূজার ছুটি ৩০ জানুয়ারি, আদেশ জারি যশোর বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান মোল্লা আমির হোসেন - dainik shiksha যশোর বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান মোল্লা আমির হোসেন শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ পেলেন ৬৭৬ প্রার্থী - dainik shiksha শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ পেলেন ৬৭৬ প্রার্থী প্রজনন শিক্ষায় ক্লাসে ‘শাহানা’ কার্টুন প্রদর্শনের নির্দেশ - dainik shiksha প্রজনন শিক্ষায় ক্লাসে ‘শাহানা’ কার্টুন প্রদর্শনের নির্দেশ চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রদীপ চক্রবর্ত্তী - dainik shiksha চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রদীপ চক্রবর্ত্তী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ হচ্ছে না : সংসদে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ হচ্ছে না : সংসদে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এমপিওর তালিকায় থাকা স্বাধীনতাবিরোধীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন হবে: শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha এমপিওর তালিকায় থাকা স্বাধীনতাবিরোধীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন হবে: শিক্ষামন্ত্রী ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে প্রতারণা : এনটিআরসিএর অ্যাকশন শুরু - dainik shiksha ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে প্রতারণা : এনটিআরসিএর অ্যাকশন শুরু এমপিওভুক্ত হচ্ছে আরও ৫৫৬ মাদরাসা - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছে আরও ৫৫৬ মাদরাসা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচবেন যেভাবে - dainik shiksha করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচবেন যেভাবে ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার নম্বর বণ্টন - dainik shiksha ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার নম্বর বণ্টন জুনিয়র দাখিল স্তরের বিষয় কাঠামো প্রকাশ - dainik shiksha জুনিয়র দাখিল স্তরের বিষয় কাঠামো প্রকাশ ইস্টার্ন, সাউথ ইস্ট ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা - dainik shiksha ইস্টার্ন, সাউথ ইস্ট ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা নতুন ঠিকানায় মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর - dainik shiksha নতুন ঠিকানায় মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এসএসসি পরীক্ষার সংশোধিত রুটিন - dainik shiksha এসএসসি পরীক্ষার সংশোধিত রুটিন ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা ২০২০ খ্র্রিষ্টাব্দে মাদরাসার ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্র্রিষ্টাব্দে মাদরাসার ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন please click here to view dainikshiksha website