ঢাবি’র ভিসি নিয়োগ - মতামত - Dainikshiksha


ঢাবি’র ভিসি নিয়োগ

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। কি হচ্ছে, কবে হচ্ছে- এই প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। বিষয়টি প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী ও দুই হাজারের বেশি শিক্ষক ছাড়াও সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভোটাভুটি এবং সিনেটে তিন সদস্যের প্যানেল চূড়ান্ত হলেও বরাবরের মতো আসল সিদ্ধান্তটি আসবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে। বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের বর্জন এবং ক্ষমতাসীন নীল দল সমর্থিত প্যানেলের ভোটে প্রাথমিকভাবে তিনজনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে ইতোমধ্যে। অবশ্য এটা সত্য যে, সামরিক সরকারের আমল থেকে রাজনীতির প্রভাব এড়িয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার রেয়াজ খুব একটা দেখা যায় না। শনিবার (১০ আগস্ট) জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

ধোঁয়াশার প্রসঙ্গটি এই কারণে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়াটির তালিকার ক্রমানুসরণ নিয়ে গোড়াতেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, উপাচার্য নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের প্যানেল মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। কারণ বর্তমান উপাচার্য নিয়ম ভেঙ্গে একক সিদ্ধান্তে প্যানেলের এক নম্বরে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সরকার সমর্থিত নীল দলসহ সিনেট সদস্যরা। একদিন আগে দলীয় ফোরামে নির্বাচিত ক্রমতালিকা পাল্টে উপাচার্য নিজের নাম এক নম্বরে রেখেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই নীল দলের শিক্ষক প্রতিনিধি ও রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধিরা উপাচার্য প্যানেল মনোনয়নে ভোটাভুটিতে যায়। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ সামাদ। তিনি ৪২ ভোট পেয়েছেন। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ৩৬ ভোট এবং ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল পেয়েছেন ৩০ ভোট। কিন্তু তালিকায় ড. সামাদ সর্বোচ্চ ভোট পেলেও মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো তালিকায় তাকে দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে। তার মানে সর্বোচ্চ ভোটধারীর নাম চলে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। নির্বাচনের ফলাফলের ধারাক্রম বজায় না রাখার কারণ কি তা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়নি বা পত্রপত্রিকায় আসেনি।

আমরা মনে করি, কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল ধারাক্রম ঠিক রেখে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বিতর্কমুক্ত রাখা। কারণ, সাধারণ প্যানেলভুক্ত তিন শিক্ষকের মধ্যে অন্য কোন বিশেষ কারণ না থাকলে রাষ্ট্রপতি সাধারণত এক নম্বরে থাকা শিক্ষককেই উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে থাকেন। ফলাফলে এই ধরনের দৃষ্টান্ত যে উদ্দেশ্যমূলক তা সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের মানমর্যাদার সঙ্গে সত্যিই বেমানান। স্মর্তব্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুসরণ করে থাকে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়। আসলে রীতি ভেঙ্গে নীতি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদটি মর্যাদা এবং সম্মানের। তাই যে নির্বাচন হলো তার প্রতি আস্থা ও স্বচ্ছতা থাকা সমীচীন ছিল।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসাবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালীর ভাষা, স্বাধীনতাসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার। বাঙালীর প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয় তথা ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের নেতৃত্ব ও অবদান আজ ইতিহাসের অংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গণতন্ত্রের সূতিকাগারে এহেন অনিয়মের কারণে এবং বৃহত্তর গোষ্ঠিস্বার্থের বিপক্ষে সংকীর্ণ ব্যক্তি স্বার্থের দিকটি প্রাধান্য দেয়ায় একজন জনপ্রিয় শিক্ষক তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন- সেটা কাম্য হতে পারে না। জাতির প্রত্যাশা, জাতির অহংকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞ আচার্য ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিশ্চয়ই বিষয়টি সুবিবেচনায় নিয়ে ভিসি পদে নতুন নিয়োগ দান করে জনমনের ধোঁয়াশা দূর করবেন।




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
করোনায় আরও ৩৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ৯৪৯ - dainik shiksha করোনায় আরও ৩৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ৯৪৯ দৈনিক শিক্ষায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর : তথ্য গোপন করে নেয়া অনুদানের টাকা ফেরত - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর : তথ্য গোপন করে নেয়া অনুদানের টাকা ফেরত আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে বন্যা দুর্গত এলাকায় স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার নির্দেশ - dainik shiksha আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে বন্যা দুর্গত এলাকায় স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার নির্দেশ পরীক্ষা ছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রমোশনের সিদ্ধান্ত হয়নি : শিক্ষা মন্ত্রণালয় - dainik shiksha পরীক্ষা ছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রমোশনের সিদ্ধান্ত হয়নি : শিক্ষা মন্ত্রণালয় একাদশে শিগগিরই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha একাদশে শিগগিরই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে : শিক্ষামন্ত্রী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধের পরিকল্পনা নেই : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধের পরিকল্পনা নেই : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী স্কুলছাত্রের মৃত্যুতে পরোক্ষ দায়ী সেই যুগ্মসচিব নৌঅধিদপ্তরের মহাপরিচালক - dainik shiksha স্কুলছাত্রের মৃত্যুতে পরোক্ষ দায়ী সেই যুগ্মসচিব নৌঅধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ হতে পারছেন না প্রভাষকরা: রুলের জবাব দেয়নি সরকার - dainik shiksha অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ হতে পারছেন না প্রভাষকরা: রুলের জবাব দেয়নি সরকার শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে লেখা আহ্বান - dainik shiksha শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে লেখা আহ্বান বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক - dainik shiksha বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে - dainik shiksha শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website