পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তোড়জোড় শুরু - ভর্তি - Dainikshiksha


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তোড়জোড় শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক |

এ বছর থেকেই দেশের সব স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। সমবৈশিষ্ট্যের বিচারে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও গুচ্ছবদ্ধ করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও মেডিকেল কলেজের আদলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। একাধিক সূত্র দৈনিক শিক্ষাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

ইতোমধ্যে সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের নিয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বৈঠক করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান তারা।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ভিসিদের নিয়ে এ বৈঠকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা যোগ দেন। ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন এবং অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পরীক্ষা গ্রহণের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ, এ সংক্রান্ত কারিগরি দিক, প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় সব ভিসিই অভিন্ন পরীক্ষায় ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে একমত পোষণ করেছেন।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের বৈঠকেও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সাব-কমিটির সদস্যরা যোগ দেন। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় গুচ্ছবদ্ধ করে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপারে নীতিমালা করার ব্যাপারে সদস্যরা মত দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। গুচ্ছ ভর্তির বিষয়ে কমিটি করা হয়েছিল ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের নানা প্রান্তে ছুটতে গিয়ে তারা আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়েন। গত ১০ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘আমি জানি কিছু বড় বিশ্ববিদ্যালয় নানা কারণে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতা করছে।

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষাটি খুবই জরুরি। এতে হয়রানি এবং অর্থের অপচয় কমবে। আমি শুনি ছেলেরা রাতে মসজিদে ঘুমিয়ে পরীক্ষা দেয়। মেয়েরা কোথায় গিয়ে থাকবে?’ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিত করতে পারি, তাহলে কেন অন্য ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিত করতে পারব না? আমি আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সহযোগিতা দেবে। আলাদা ভর্তি পরীক্ষার ওপর কয়েক বছর আগে গবেষণা চালায় বিশ্বব্যাংক পরিচালিত উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ)।

 

সেখানে বলা হয়েছে, প্রতি মৌসুমে ভর্তি পরীক্ষা দেয়া, কোচিংসহ আনুষঙ্গিক খাতে একজন শিক্ষার্থীর গড়ে ৯৬ হাজার টাকা খরচ হয়। অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থীর এ অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয় না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে নেয়া হলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। সবশেষ গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর এ বিষয়ে ভিসিদের ডেকে নির্দেশনা দেন। সময়ের স্বল্পতার অজুহাতে গত বছরও তা চালু করা হয়নি।

এর আগে গত বছর ১৪ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে প্রধান করে কমিটি করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, ‘সমন্বিত ভর্তির কাজটি  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই করবে। আমাদের (কমিটি) কাজ ছিল তাদের সহায়তা করা। কাজটি এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ কমিটি করেছে। আশা করছি, এ বছরই অভিন্ন পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কাজ সম্পন্ন করা যাবে।’

আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা। এর এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। সে হিসাবে মাত্র ৩ মাস আছে ভর্তি মৌসুমের।

উল্লেখ্য, তৎকালীন মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে ভর্তি পরীক্ষা সংস্কারে ভিসিদের নিয়ে বৈঠক করেন। গুচ্ছ ভর্তি শব্দটি ব্যাপক আলোচিত হলেও কোনও অগ্রগতি হয়নি।

এরপর শিক্ষা উপদেষ্টা আইয়ুব কাদরী এবং ড. হোসেন জিল্লুর রহমান যথাক্রমে ২০০৭ ও ২০০৮  ভর্তি পরীক্ষায় সংস্কারে ভিসিদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানেও গুচ্ছভিত্তিক ভর্তির প্রস্তাব দেয়া হলে বেশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব হওয়ার শঙ্কা ব্যক্ত করেন।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ ইস্যুতে ভিসিদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় অসম্মতি জানায়। তবে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভিসিদের সভায় গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

এছাড়া মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একাধিকবার সব ভিসিদের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার অনুরোধ করেছেন। 




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
এইচএসসিতে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ - dainik shiksha এইচএসসিতে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ আলিমে পাস ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ২ হাজার ৫৪৩ জিপিএ-৫ - dainik shiksha আলিমে পাস ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ২ হাজার ৫৪৩ জিপিএ-৫ জিপিএ-৫ সাড়ে ৪৭ হাজার - dainik shiksha জিপিএ-৫ সাড়ে ৪৭ হাজার বেসরকারি চাকরিজীবীরাও ফ্ল্যাট পাবে : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha বেসরকারি চাকরিজীবীরাও ফ্ল্যাট পাবে : প্রধানমন্ত্রী একাদশে ভর্তিকৃতদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে - dainik shiksha একাদশে ভর্তিকৃতদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যেভাবে এইচএসসির ফল সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো - dainik shiksha যেভাবে এইচএসসির ফল সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো স্কুল-কলেজ খোলা রেখে বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার নির্দেশ - dainik shiksha স্কুল-কলেজ খোলা রেখে বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার নির্দেশ অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লো - dainik shiksha অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লো ঢাবির ভর্তির আবেদন শুরু ৫ আগস্ট, পরীক্ষা ১৩ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha ঢাবির ভর্তির আবেদন শুরু ৫ আগস্ট, পরীক্ষা ১৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website