প্রতারক চক্রের খপ্পরে প্রাইমারী শিক্ষক ও দফতরি নিয়োগ! - স্কুল - Dainikshiksha


প্রতারক চক্রের খপ্পরে প্রাইমারী শিক্ষক ও দফতরি নিয়োগ!

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

রীতিমতো প্রতারকদের খপ্পরেই পড়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রনালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেই মাঠ পর্যায়ে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে প্রতারক চক্র। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রতারকদের তৎপরতার পর এবার দফতরিদের চাকরি স্থায়ী করা নিয়েও প্রতারণার তথ্য পেয়েছে খোদ মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতির বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করে মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতারকদের থেকে সাবধান। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত  প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন বিভাষ বাড়ৈ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,  মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সরকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়ে প্রতারকদের মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় হয়ে ওঠার প্রমাণ পেয়েছে। পরিস্থিতির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেনকে অবগত করেছেন কর্মকর্তারা। প্রতিমন্ত্রী অপরাধীদের বিষয়ে দ্রুত শক্ত অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকেও সতর্ক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দালাল ও প্রতারক থেকে সতর্ক থাকতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি চাকরি দেয়ার নামে কারো সঙ্গে অর্থ লেনদেন না করতেও সতর্ক করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন স্বাক্ষরিত এ সতর্ক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, কোন কোন মহল/ব্যক্তি নানাভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আবেদনকারীদের অবৈধ পন্থায় চাকরি দেয়ার প্রস্তাব বা আশ্বাসে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, আবেদন যাচাই শেষে প্রার্থীদের কাছে অনলাইনে প্রবেশপত্র প্রেরণ, পরীক্ষা কেন্দ্রের সিট বিন্যাস, একাধিক সেট প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশসহ সতর্কতামূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতারণার মাধ্যমে বা অনৈতিকভাবে অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের প্রতারণা বা প্রলোভনে না পড়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেলে স্থানীয় থানায় গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে কদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগে এমন অপতৎপরতার মধ্যেই দফতরির চাকরি স্থায়ী করিয়ে দেয়ার নামে প্রতারকদের সক্রিয় হয়ে ওঠার তথ্য পেয়েছে মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবারই এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগে (অস্থায়ী) আর্থিক লেনদেন চলছে বলে অভিযোগ পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর্থিক লেনদেন না করতে তাই সতর্কতা জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, দেশের সব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। এ পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের জন্য সম্প্রতি নীতিমালা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, এ পদে নিয়োগ দেবে উপজেলা শিক্ষা কমিটি। আগে এই পদে নিয়োগ দিতে সংসদ সদস্যের সুপারিশ লাগত।

অভিযোগ আছে, সংসদ সদস্যরা যখন সুপারিশ করতেন তখনও অসাধু চক্রের দুর্নীতি চলত, চলত টাকার খেলা। এখন এ পদে নিয়োগের জন্য আর আর্থিক লেনদেন না করতে সতর্কতা জারি করেছে মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, পদটি সরকারের রাজস্ব খাতের কোন পদ নয়। এটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী পদ। এ মর্মে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, এ পদে নিয়োগের জন্য কোন কোন ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করা হচ্ছে। যেহেতু পদটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী এবং এটি রাজস্ব খাতের কোন পদ নয় সেহেতু এ পদে যারা নিয়োগ পাচ্ছেন তাদের চাকরি স্থায়ী হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

মন্ত্রনালয় আরও বলেছে, এ কারণে দফতরি কাম প্রহরী পদে চাকরি পাওয়ার জন্য কোন ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা কোন প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেয়া সমীচীন হবে না। এতে এ পদে চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিগ্রহীতা চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

আরও বলা হয়েছে, এমতাবস্থায় এ পদে নিয়োগ লাভের জন্য কোনরূপ আর্থিক লেনদেন না করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরামর্শ দেয়া হলো। উল্লেখ্য, বিগত সময়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেকে টাকা দিয়ে নিয়োগ পান, অনেকে আবার টাকা দিয়ে নিয়োগ না পেয়ে আদালতের দারস্থ হন, মামলা করেন। সারাদেশে এ সংক্রান্ত দুই শতাধিক মামলা রয়েছে।

প্রাথমিকে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের চিন্তা:  দেশের প্রতিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের ছুটিকালীন সময় ও শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে এমন চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এ লক্ষ্যে একটি প্রস্তাবনাও তৈরি করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আকরাম-আল-হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে যারা প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী তাদেরকে গুণগত শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হলে এটা অর্জন করা সম্ভব হবে না। প্রশিক্ষণ ছাড়াও শিক্ষকরা নানা ধরনের ছুটিতে থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সঙ্কট থাকে। পাঠদান নিশ্চিত করতে এটি আপদকালীন ২০ শতাংশ রিজার্ভ টিচার নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা।

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি-২০১৮’র তথ্যানুযায়ী সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫২৯ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে পুরাতন ৩৮ হাজার ৯১৬ ও নতুন জাতীয়করণকৃত স্কুল ২৬ হাজার ৬১৩টি। এসব স্কুলে শিক্ষক রয়েছেন তিন লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ শিক্ষক এক লাখ ২৫ হাজার ৫৭ ও নারী শিক্ষক দুই লাখ ২৩ হাজার ৮১০ জন। পুরাতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতকরা ৬৮ দশমিক শূন্য ২ ভাগ নারী শিক্ষক ও নতুন সরকারী স্কুলে এ হার ৫৬ দশমিক শূন্য চার ভাগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা, বিনামূল্যে বই বিতরণ, দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা, উপবৃত্তিসহ নানা কর্মসূচী নেয়ার ফলে প্রায় শতভাগ শিশুই বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। ঝরে পড়ার হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। কিন্তু শিক্ষক সঙ্কটের কারণে গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না।




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
এমপিওভুক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন - dainik shiksha এমপিওভুক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ - dainik shiksha মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ মারধরে অসুস্থ হলে আবরারকে অন্য রুমে নিয়ে গিয়ে পেটাই : রবিন - dainik shiksha মারধরে অসুস্থ হলে আবরারকে অন্য রুমে নিয়ে গিয়ে পেটাই : রবিন কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? - dainik shiksha কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? ৪২ শতাংশই অন্য চাকরি না পেয়ে শিক্ষকতায় এসেছেন - dainik shiksha ৪২ শতাংশই অন্য চাকরি না পেয়ে শিক্ষকতায় এসেছেন ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত - dainik shiksha ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website