প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলেও আসেননি শিক্ষক - স্কুল - Dainikshiksha


প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলেও আসেননি শিক্ষক

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি |

কর্দমাক্ত রাস্তা, ঝুঁকিপূর্ণ খেয়া পার হয়ে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে শতাধিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও শিক্ষক না থাকায় ক্লাস না করেই তাদের ফিরে যেতে হয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার (১৬ মে) এ ঘটনা ঘটেছে। এতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ শিক্ষকরা যদি স্কুলেই না আসে তাহলে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠিয়ে কী হবে?

উপজেলার আলোচিত এ বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে বছরের প্রথম থেকে ক্লাস চললেও শিক্ষা অফিস থেকে একমাত্র শিক্ষক মো. আবুল কাসেম কে ১২ দিনের আইসিটি প্রশিক্ষণে পাঠানোর কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোন তদারকি ও বিকল্প শিক্ষক পদায়ন না করে বিদ্যালয়ের একমাত্র নিয়মিত শিক্ষককে প্রশিক্ষণে পাঠানোকে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ভুল বলে মন্তব্য করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা।

একাধিক অভিভাবক জানান, বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ছিলো স্কুল তালাবদ্ধ। সোয়া ১১টার পর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন মোল্লা তালাবদ্ধ স্কুলের অফিস কক্ষ খুলে বসেন। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ক্লাস রুম তালাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ছিলো স্কুলের বাইরে। তখনও কোন
শিক্ষক আসেননি। বেলা সাড়ে ১২টার পর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সব ছাত্র-ছাত্রীকে ছুটি দিয়ে বিদ্যালয়ে তালাবদ্ধ করে চলে যায়। সরকারি কোন ছুটি না থাকলেও শুধু শিক্ষা অফিস ও শিক্ষকদের ভুলে বুধবার এ বিদ্যালয়ে কোন পাঠদান হয়নি।

জানা যায়, ১৫৫ জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করলেও নিয়মিত ক্লাস করছেন এক শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন বরখাস্ত। সহকারি শিক্ষক জহিরুল ইসলাম জানুয়ারি থেকে পটুয়াখালী পিটিআইতে। অপর শিক্ষক আরিফুর রহমানের বেতন বন্ধ থাকায় সেও স্কুলে অনিয়মিত। একমাত্র শিক্ষক মো. আবুল কাসেম বছরের প্রথম দিন থেকে বিদ্যালয়ে একাই নিয়মিত ক্লাস করলেও বুধবার সে ১২ দিনের প্রশিক্ষণে যাওয়ায় গোটা স্কুলে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে ক্লাস হবে না আগে জানিয়ে দিলে তাদের কষ্ট করে দুই-তিন মাইল দূর থেকে বৃষ্টিতে ভিজে আসতে হতো না। আর এই স্কুলে এমনিতেই ক্লাস হয় না। শুধু রোল ডেকে বাসায় পড়া দিয়ে ছুটি দিয়ে দেয়। তাদের বইয়ের প্রথম অধ্যায়ও এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি। কেন ক্লাসে পড়ায় না জানতে চাইলে জানায়, স্কুলে তো স্যার নাই। একজন স্যার। অন্য এক স্যার মাঝে মাঝে আসে। ঠিকমতো ক্লাসই হয় না।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন মোল্লা দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে জানান, তিনি ভেবেছিলেন এক শিক্ষক প্রশিক্ষণে গেলেও অপর শিক্ষক আসবেন। এজন্য বিদ্যালয় খুলে বসেছিলেন। কিন্তু তিনিও না আসায় সব শিক্ষার্থীকে ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। আর আজ থেকে স্কুল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল খুলবে জুন মাসের ১৯ তারিখ। তাই হয়তো অন্য শিক্ষক আসেনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল বাসার  দৈনিক শিক্ষা ডটকমকে জানান, ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণে পাঠানো হলেও অন্য শিক্ষকের ক্লাস করার কথা। কিন্তু সে যদি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আজ (বুধবার) যে বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়নি বিষয়টি জানেন না তিনি। তাকে কেউ অবহিত করেনি। বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেবেন এবং ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর - dainik shiksha সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর অনলাইনে এমপিও আবেদন শুরু - dainik shiksha অনলাইনে এমপিও আবেদন শুরু ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে - dainik shiksha ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দাখিল আলিম পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ - dainik shiksha দাখিল আলিম পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website