আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


বাপা ও বেনের সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী

প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে সমুদ্রসম্পদ আহরণ করা যাচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ৯, ২০১৬ | সমুদ্রবিদ্যা

Muhid-250অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তিন বছর হল সমুদ্রে ভারত ও মিয়ানমারের কাছ থেকে পাওয়া এক লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার ওপর আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে বিশাল ওই এলাকার সম্পদ আহরণ করা যাচ্ছে না। ওই এলাকার সুফল পাচ্ছি না আমরা। শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আয়োজিত দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রের সম্পদ জরিপের জন্য সরকারি কয়েকটি সংস্থাকে জাহাজ কিনতে বলেছি। কিন্তু কোনো সংস্থার কাছ থেকে সাড়া পাইনি।’ তিনি বলেন, সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে ধরনের জ্ঞান এবং প্রযুক্তি থাকা দরকার, তা আমাদের নেই। সরকারি সংস্থাগুলো সে ধরনের প্রযুক্তি এখনও আয়ত্ত করতে পারেনি। ফলে সমুদ্রসম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। এসব দিকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে মালদ্বীপ ও থাইল্যান্ড।

মুহিত বলেন, সমুদ্রসম্পদ আহরণে দুটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়া জরুরি। প্রথমত সমুদ্র সম্পদবিষয়ক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। এ জনশক্তি শুধু সরকারি পর্যায়েই নয়, ব্যক্তি এবং বেসরকারি খাতেও হতে পারে। দ্বিতীয়ত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থাগুলোর দক্ষতা বাড়ানো। এ দুটি কাজ করা গেলে সমুদ্রসম্পদ আহরণ সহজ হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সমুদ্রসম্পদ আহরণে থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপের কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের উন্নতি হোক এটা সবাই চায়। কিন্তু প্রকৃতিকে ধ্বংস করে নয়। বাপার সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল করতে দীর্ঘদিন ধরে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাইনি। তিনি বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন চাই, সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রও চাই। তবে সেটা সুন্দরবন থেকে একটু দূরে হলে তো সমস্যা নেই।

দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন, সুন্দরবন, চিংড়িসহ বিভিন্ন খাতের মোট ৮২টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। আজ সম্মেলনের শেষদিন।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিবের সঞ্চালনায় ‘বাংলাদেশের উপকূল ও সামুদ্রিক পরিবেশবিষয়ক’ শিরোনামের এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ। এছাড়া বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক বেনের বৈশ্বিক সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম, বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন প্রমুখ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।


আপনার মন্তব্য দিন