আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


প্রাথমিকে ধর্ম শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি পাস

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য | জানুয়ারি ১, ২০১৬ | প্রাথমিক সমাপনী

Praimari 250চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫২ ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।

গত বছরের তুলনায় প্রাথমিক সমাপনীতে পাসের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ ও ইবতেদায়িতে শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে।

গত বছর প্রাথমিকে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৯২ ও ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এবার ৯১ হাজার ২২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।আর কেউ পাস করতে পারেনি এমন প্রতিষ্ঠান ১৪৮টি।

এবার দুটি সমাপনীতে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৮১ হাজার ৪৫৩ জন। এর মধ্যে প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন, অপরদিকে ইবতেদায়িতে পেয়েছে পাঁচ হাজার ৪৭৩ জন।

গত বছর মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৩০ হাজার ৮৫২। এর মধ্যে প্রাথমিকে দুই লাখ ২৪ হাজার ৪১১ জন, অপরদিকে ইবতেদায়িতে পেয়েছিল ছয় হাজার ৪৪১ জন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

এর আগে সকালে গণভবনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ হস্তান্তর করেন।

তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেহেতু পঞ্চম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মত পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তাই তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি।

অনেকটা উদার হয়েই উত্তরপত্রে নাম্বার দেয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী এক উপজেলার শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পাশের অন্য উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। এতে শিক্ষকরা এক ধরনের ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের নম্বর দিয়েছেন। এতেও পাসের হার বেড়েছে।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে উদারতা দেখানো হয়নি। বরং প্রাথমিক সমাপনীর সিলেবাস ছোট। এরমধ্যে আগের বছরের পরীক্ষায় যে প্রশ্ন আসবে পরের বছরের পরীক্ষায় সেই প্রশ্ন আসবে না।

ফলে শিক্ষক এবং অভিভাবকরা সহজেই সাজেশন্স তৈরি করতে পারেন। এই সাজেশন্স থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করে অনায়াসেই পরীক্ষা পাস করে।

আর বিষয়ভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার প্রাথমিক সমাপনীতে সবচেয়ে বেশি পাস করেছে ধর্ম শিক্ষায় ৯৯.৯১ শতাংশ। আবার ইংরেজিতে কিছুটা দুর্বল ৯৯.১৮ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীর এই দুটি সমাপনী পরীক্ষায় ৩১ লাখ তিন হাজার ৩৭২ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাস করেছে ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪০ জন।

প্রাথমিকে মোট পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৭৪ জন। অপর দিকে ইবতেদায়িতে অংশগ্রহণ করেছে দুই লাখ ৬৪ হাজার ১৩৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে দুই লাখ ৫১ হাজার ২৬৬ জন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন চার হাজার ৪১০ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চার হাজার ২৬২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

ইবতেদায়িতে ১২৩ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১১৩ জন। পাসের হার ৯১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। প্রাথমিকে এবার দেশসেরা স্কুল হয়েছে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।

প্রাথমিকে সর্বোচ্চ পাসের হারের দিক থেকে ৭ বিভাগের মধ্যে রাজশাহী (পাসের হার ৯৯ শতাংশ) ও ৬৪ জেলার মধ্যে এবারও মুন্সীগঞ্জ (পাসের হার ১০০ শতাংশ) শীর্ষে রয়েছে।

৫০৯ উপজেলার মধ্যে ২৩ উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে। সর্বনিম্ন পাসের হার সিলেট বিভাগে (পাসের হার ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ)। বরগুনা জেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন ৯৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন ৮২ দশমিক ৭১ শতাংশ।

ইবতেদায়িতেও ৭ বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগ পাসের হারে (পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ) শীর্ষে রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন (৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ)। ৯২টি উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে।

সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় পাসের হারে সবার নিচে অবস্থান করছে। এ উপজেলায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গত ২২ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ নভেম্বর। ২০০৯ সালে প্রথম প্রাথমিক সমাপনী শুরু হয়। ইবতেদায়ি সমাপনী শুরু হয় আরো এক বছর পর।

সেই অনুযায়ী সপ্তমবারের মতো প্রাথমিক সমাপনী ও ষষ্ঠবারের মতো ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা ফল প্রকাশিত হলো।

প্রাথমিকে ৯১ হাজার প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস : প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এবার ৯১ হাজার ২২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর কেউ পাস করতে পারেনি এমন প্রতিষ্ঠান ১৪৮টি। এই পরীক্ষায় গতবার ৮০ হাজার ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করে।

আর ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল করেছিল। এই হিসাবে এবার শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১১ হাজার ২০৯টি। আর শতাভাগ ফেল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে পাঁচটি। প্রাথমিক সমাপনীতে এবার ৯৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন এবং ইবতেদায়িতে পাঁচ হাজার ৪৭৩ জন। এবার প্রাথমিক সমাপনীতে ৮৩ হাজার ৩৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে।

আর ১০৬টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে ইবতেদায়িতে সাত হাজার ৭৯১টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে এবং ৪২টি মাদ্রাসার কেউ পাস করতে পারেনি।

১৪৮টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে না পারার কারণ উদঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।

প্রাথমিকে মেয়েরা এগিয়ে : প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে। অংশগ্রহণ করা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১২ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৫ ও ছাত্রী ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৩ জন।

গড় পাসের হারের দিক থেকেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রদের পাসের হার ৯৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

তবে ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ছাত্রদের সংখ্যা বেশি। এ পরীক্ষায় এক লাখ ৩৫ হাজার ৫৮ জন ছাত্র ও এক লাখ ২৯ হাজার ৭৬ জন ছাত্রী অংশ নিয়েছে।

তবে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে আছে। ছাত্রদের পাসের হার ৯৫ দশমিক ০৯ ও ছাত্রীদের পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।

পাসের হারে শীর্ষে রাজশাহী বিভাগ : প্রাথমিকে সর্বোচ্চ পাসের হারের দিক থেকে ৭ বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী। এ বোর্ডে পাসের হার ৯৯ শতাংশ।

এ ছাড়া পাসের হার বরিশালে ৯৮ দশমিক ৩০, খুলনায় ৯৮ দশমিক ৯৭, ঢাকায় ৯৮ দশমিক ৭৪, চট্টগ্রামে ৯৮ দশমিক ৪১, সিলেটে ৯৬ দশমিক ৭৯ ও রংপুরে ৯৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

অপর দিকে ইবতেদায়িতেও পাসের হারে সেরা রাজশাহী। এ বিভাগে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এ ছাড়া বরিশালে ৯৭ দশমিক ৮৫, খুলনায় ৯৬ দশমিক ২২, ঢাকায় ৯৪ দশমিক ২১, চট্টগ্রামে ৯৩ দশমিক ৯৩, সিলেটে ৯০ দশমিক ০১ ও রংপুরে ৯৭ দশমিক ২১ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি পাস ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় : প্রাথমিক সমাপনীতে বিষয়ভিত্তিক ফলে সবচেয়ে বেশি পাস করেছে ধর্ম এবং নৈতিক শিক্ষায়। এ বিষয়ে পাসের হার ৯৯.৯১ শতাংশ।

আবার ইংরেজিতে কিছুটা দুর্বল ৯৯.১৮ শতাংশ। এছাড়া বাংলায় পাস করেছে ৯৯.৭৪, গণিতে ৯৯.৩৬, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ে ৯৯.৭৮ এবং প্রাথমিক বিজ্ঞানে পাস করেছে ৯৯.৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি পাস : প্রাথমিক স্তরে ১৬ ধরণের বিদ্যালয়ে পাঠদান করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাসের হার হয়েছে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে, ৯৯.৯৭ শতাংশ। অন্যান্য বিদ্যালয়ে পাসের হার পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে ৯৯.৬৯, ব্র্যাক পরিচালিত বিদ্যালয়ে ৯৯.৬৬, উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৯.৩৬, কিন্ডারগার্টেনে ৯৯.৩৬, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৯.১৭, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৮.৮০, অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৮.৩৭, ১৫০০ বিদ্যালয় স্থাপন ৯৮.৩২, রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৭.৬২, নতুন জাতীয়করণ হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৭.৫৭, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়ে ৯৭.২০, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৬.৫৪, নন রেজি.বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৬.১৮ এবং শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৫.১৮ এবং আনন্দ স্কুলে ৯১.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

ইংরেজি ভার্সনে খুলনা ও বরিশাল এবং রংপুর যৌথভাবে শীর্ষে : প্রাথমিক সমাপনীতে ইংরেজি ভার্সনে ৭ বিভাগের মধ্যে যৌথভাবে শতভাগ পাস করেছে রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ।

বিভাগ দুটিতে পাসের হার শতভাগ। এছাড়াও রাজশাহী বিভাগে পাসের হার ৯৯.৪৭ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে পাসের হার ৯৯.৭৭, চট্টগ্রামে ৯৯.৮৭ এবং সিলেট বিভাগে ইংরেজি ভার্সনে ৯৯.২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

ইংরেজি ভার্সনে সারাদেশে ৫০টি জেলার বিভিন্ন স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ানো হয়। এরমধ্যে ৪৫ জেলার ইংরেজি ভার্সনের স্কুলে শতভাগ পাসের হার হয়েছে।

ফল ভালো করেছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা : এবারের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের ফল ভাল হয়েছে বলে প্রকাশিত ‘ফলাফলের সারসংক্ষেপ’এ উল্লেখ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৫ এর ফলাফলের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, সারাদেশে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ডিআরভুক্ত ৪ হাজার ৬৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এ বছর ৪ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ২৬২ জনই উত্তীর্ণ হয়েছে।

মোট পাশের হার ৯৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪ হাজার ৪১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৩১১ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৯৯ জন ছাত্রী। সারাদেশে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্রদের পাসের হার ৯৬ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৯৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

পরীক্ষায় সবচেয়ে ভাল ফল করেছে খুলনা বিভাগের পরীক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। মোট ৫৭৮ জন পরীক্ষার্থী এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২১ জন ছাত্র ও ২১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ঠিক একইভাবে ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৫ এর ফলাফলের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, সারাদেশে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ডিআরভুক্ত ১৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এ বছর ১২৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

তাদের মধ্যে ১১৩ জনই উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৯১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ জন ছাত্র এবং ৬৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্রদের পাশের হার ৯০ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় রাজশাহী বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ বিভাগে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সারাদেশে এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়নি কোনো পরীক্ষার্থী।


আপনার মন্তব্য দিন