প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষাবান্ধব সরকারের অর্জন - মতামত - Dainikshiksha


প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষাবান্ধব সরকারের অর্জন

মো. গাজীউল হক চৌধুরী |

১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু যুগান্তকারী দু:সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারই  ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেন। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, পাশাপাশি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারিকরণ করে চলেছেন। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে ইতিবাচক বহিঃপ্রকাশ। 

২০১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণির মর্যাদা বেতন স্কেল সাথে সাথে সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেলে উন্নীত করেন। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীত করার বিষয়টি বর্তমান সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন আছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরেও প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখাশোনা বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কেউ ছিল না। বর্তমানে সরকার ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ করেছেন। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলছে। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিশু শিক্ষার্থীদের আর্কষণীয় ও উন্নত পাঠের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের মানসম্মত পাঠদানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এক বছরের সি ইন এড প্রশিক্ষণ কোর্স পরিবর্তন করে দেড় বছরের ডিপিইন. এড কোর্স চালুর মাধ্যমে যুগোপযোগী উন্নত পাঠদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পূর্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫+ বয়সের শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার কোন সুযোগ ছিল না। বর্তমান সরকার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকর্ষণীয় ও মনোরম পরিবেশে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি চালু করেন। ৩৭ হাজার প্রাক প্রাথমিক শিক্ষককে শিশু মনোবিজ্ঞানসহ প্রাক প্রাথমিক পাঠদানে বিশেষজ্ঞ করে তুলেছেন।

পূর্বে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্ধেক নতুন আর অর্ধেক পুরাতন বই দেওয়া হতো। বছরের পর বছর পুরাতন বই দেয়ার ফলে বইয়ের ভেতরে অনেক পাতার অস্তিত্ব পাওয়া যেত না। বর্তমান সরকার ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রাক প্রাথমিক, ইবতেদায়ি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত আকর্ষণীয় রঙয়ে বই ছাপাসহ পুরো বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই প্রদান করছেন। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি ও মাদরাসায় বিনামূল্যে বই দেওয়া হতো না। ১ জানুয়ারি সারাদেশে বই বিতরণে ঐতিহাসিক সাফল্য সারাবিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে।

শিক্ষক সংকট নিরসনে পুল প্যানেল শিক্ষকসহ লক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগ করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা ও ধরে রাখা। এই কঠোর বাস্তবতা মোকাবেলায় সরকার সারাদেশে শতভাগ উপবৃওি চালু করেছেন। সমস্যার গভীরতা উপলব্ধি করে শতাধিক উপজেলায় পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট শিক্ষার্থীদের খাওয়ানোর মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদার পাশাপাশি ক্ষুধা নিবৃও করার কাজ করে যাচ্ছেন। সকল শিশুকে দুপুরে মায়ের হাতের রান্না করা খাবার টিফিন বক্সে আনার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর শিশু বান্ধব মিড ডে মিল কর্মসূচি সফল হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী পাঠের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ নানা সহপাঠ্ কার্যক্রমে সর্বদা উদ্বুদ্ধকরেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব দল গঠন করা হয়েছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনে প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

২০১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নিয়মিতভাবে প্রতিবছর স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মেয়েরা আজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিশ্বে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। দেশের বিদ্যালয়বিহীন এলাকার ১ হাজার ৫০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। চঊউচ-২ এর আওতায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। চঊউচ-২ ঢাকা শহরের বিদ্যালয়গুলোর সৌন্দর্যবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। 

বেশ কিছু বিদ্যালয়ে শিশুদের সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। বিদ্যালয় পর্যায়ে স্লিপ ফান্ডের বরাদ্দ ৪০ হাজার টাকার স্থলে বৃদ্ধি করে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রতিবছরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বড় ও ক্ষুদ্র ধরনের মেরামত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়াসহ ইন্টারনেট ডিভাইস চালু করা হয়েছে।  

সমাপনী পরীক্ষা মেধাবৃওির সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশাল উদ্যোগ ও সফলতা বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। শিক্ষা ও শিক্ষকদের যে সকল প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি তা শীঘ্র পূরণ হবে আশাবাদী। শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের সকল পদক্ষেপ দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য প্রাথমিক শিক্ষকসহ শিক্ষা পরিবারের সকলকে আহ্বান জানাই। 

শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে তরান্বিত হবে। শিক্ষার উন্নয়ন দেশের উন্নয়ন। এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দেশের সাধারণ মানুষের সাথে শিক্ষা পরিবারের সকলের কাম্য।




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
ববির রেজিস্ট্রারের নৈতিক স্খলন, কাজে যোগদানের ব্যর্থ চেষ্টা - dainik shiksha ববির রেজিস্ট্রারের নৈতিক স্খলন, কাজে যোগদানের ব্যর্থ চেষ্টা আইনি জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রকাশ পেছালো - dainik shiksha আইনি জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রকাশ পেছালো কোচিংয়ে লিপ্ত উইলসের ৩০ শিক্ষকের নাম - dainik shiksha কোচিংয়ে লিপ্ত উইলসের ৩০ শিক্ষকের নাম রকেটের জটিলতায় উপবৃত্তিবঞ্চিত রাজশাহীর শত শত শিক্ষার্থী - dainik shiksha রকেটের জটিলতায় উপবৃত্তিবঞ্চিত রাজশাহীর শত শত শিক্ষার্থী স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে না - dainik shiksha স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে না প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ শুরু - dainik shiksha প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ শুরু ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া শিক্ষার খবর সবার আগে পেতে ‘দৈনিক শিক্ষা ব্রেকিং নিউজ’ ফেসবুক পেজে লাইক দিন - dainik shiksha শিক্ষার খবর সবার আগে পেতে ‘দৈনিক শিক্ষা ব্রেকিং নিউজ’ ফেসবুক পেজে লাইক দিন please click here to view dainikshiksha website