আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


বই বিতরণে টাকা আদায় করে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | জানুয়ারি ৩, ২০১৬ | বই

সরকারি বই বিতরণের টাকা আদায়ের অভিযোগের প্রমান পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের তাঁতখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে বিদ্যালয় পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. আনিছুর রহমান মিঞা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই স্কুলে নতুন বই দেওয়ার জন্য ১২ শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠে। গত শুক্রবার থেকে সারা দেশে বই বিতরণ শুরু হলেও এ বিদ্যালয়ে ৫ জানুয়ারি বই দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (বর্তমানে বরখাস্ত) রইসউদ্দীন গতকাল শনিবার টাকা নেওয়ার দায় চাপান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ওপর।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বারী এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পরিচালনা কমিটির সদস্য গাজী সেলিম এবং এস এম মাহবুব আলম, তাঁরা দুজনে সিদ্ধান্ত নিয়ে এ টাকা নিচ্ছেন।’

গাজী সেলিম এবং এস এম মাহবুব আলম জানান, এ বিদ্যালয়ে তিনজন বেসরকারি শিক্ষক, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং একজন আয়া রয়েছেন। এই পাঁচজনের বেতন সরকার দেয় না। তাঁদের বেতনের জন্য তহবিল (ফান্ড) গঠনের লক্ষ্যে গত অভিভাবক দিবসে পরিচালনা পরিষদ ও অভিভাবকেরা মিলে নতুন বই দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ কারণে ওই টাকা নেওয়া হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা মাহফুজা বেগম জানান, অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল হককে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে টাকা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পান এবং ১ জানুয়ারি বই উৎসবের দিন বই বিতরণ না করার প্রমাণ পায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজ সকালে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে বিদ্যালয় পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আনিছুর রহমান মিঞা জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অন্য কোনো বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য দিন