আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি | অক্টোবর ১২, ২০১৭ | বিবিধ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ‘ভিডিও প্রকাশের ভয়ে তিন মাস ধরে ধর্ষণের শিকার’ এক কিশোরী ‘আত্মহত্যা’ করেছে।

তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের কালারাম জোত গ্রামে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

নবম শ্রেণির ছাত্রী দিনমজুরের মেয়ে রহিমা আক্তার সোনিয়া তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ত।

স্থানীয় রাজন ও আতিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করছেন সোনিয়ার স্বজনরা।

সোনিয়ার মামা ফারুক অভিযোগ করেন, প্রায় ৩ মাস আগে সোনিয়া তার অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাজারে যাচ্ছিল। এ সময় সহায়তার কথা বরে রাজন মোটরসাইকেলে তুলে তাকে উপজেলা সদরে আতিকের বাসায় নিয়ে যায়।

আতিক

আতিক

“সেখানে রাজন তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় আতিক মোবাইল ফোনে

তা ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে আতিক ধর্ষণ করে।”

সোনিয়ার বরাত দিয়ে ফারুক বলেন, এরপর ওই দুজনই অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করা ও মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বার বার ধর্ষণ করে আসছিল।

রাজন রাজন রাজন হাসপাতালে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয়) চাকরি করে এবং আতিক স্থানীয় বাজারে ফ্ল্যাক্সিলোডের ব্যবসা ও বাংলালিংকের কাস্টমার কেয়ারে কাজ করে বলে ফারুক জানান।
ফারুক বলেন, “গত সোমবার সোনিয়া ঘটনাটি আমাকে ও তার মা সেলিনা বেগমকে জানায়। পরে আমরা রাজন ও আতিকের সঙ্গে কথা বলি।

“কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে কোচিং করতে যাওয়ার সময় সোনিয়াকে তারা আবার একই হুমকি দেয়। ওইদিনই বাসায় ফিরে সোনিয়া গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।”

রাজন

রাজন

সোনিয়ার বাবা জাহেরুল ইসলাম পাথর শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান।

জাহেরুল ইসলাম  বলেন, “বুধবার রাতে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে রাজন ও আতিকের নামে তেঁতুলিয়া থানায় মামলা করতে যাই; কিন্তু পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি। আসামিও ধরেনি।”

তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক নাজিমউদ্দিন বলেন, রাজন ও আতিক ব্ল্যাক মেইল করে সোনিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল। সোনিয়া সে পথ থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছিল।

“কিন্তু বার বার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে বাধ্য করেছে আত্মহত্যা করতে।”

আতিক আতিক পুলিশ এ ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তাদের প্রতিবেশী রওশনারা বেগম বলেন, “১৪ বছরের শিশুকে তারা ফুসলিয়ে বিপদে ফেলেছে। আমারও মেয়ে আছে। তারা আরও কোনো শিশুকে এমন করতে পারে।”

ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখানে ইতিপূর্বে এমন ঘটনা ঘটেনি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচার চাই। মেয়েটা চলে গেছে, কিন্তু উপযুক্ত বিচার পেলে দেশে আইন আছে বিচার আছে এ শান্তনাটুকু নিয়ে বাঁচতে পারব।”

তেঁতুলিয়া থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, সোনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে লাশের ময়নাতদন্ত রিপোট পাওয়ার পরে যথাযথভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্যঃ ১০টি
  1. মো: মকবুল হোসেন. সুজাতপুর নেছারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়.মতলব উত্তর.চাঁদপুর। says:

    সারা দেশে এমন ধর্ষণ,আত্মহত্যা প্রতিনিয়ত হচ্ছে। সঠিক ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অল্প বয়সে এই সব মেয়েদের জীবন দিতে হতনা। তাই বলবো তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হউক।যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করতে আর কেউ সাহস নাপায়।

  2. monir hossen says:

    Ei dhoroner lmpotder droto sathir aotay ana ucit.

  3. Md.Mahabubur Rahaman says:

    আপনার মন্তব্য
    ফাঁসি চাই।

  4. তাহের,সহকারী শিক্ষক,কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। says:

    দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আশা করছি।থানায় মামলা গ্রহণ না করায় অবাক হচ্ছি।

  5. সাহিনা আক্তার, আইসিটি শিক্ষক says:

    জানয়ারের ফাঁসি চাই।

  6. মোহা: এনামুল হক , সহকারী শিক্ষক , নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ৷ সুনামগঞ্জ ৷ says:

    আপনার মন্তব্য ফাঁসী চাই !

  7. পলাশ says:

    আপনার মন্তব্য
    ধর্ষকে্র লিঙ্গ ছেদন করা হোক

  8. স্বপন চন্দ্র সরকার says:

    ফাঁসি চাই

  9. অনাবিল রহমান says:

    আর কোনো কথাও নয় ! বিলম্বও নয় ! সরাসরি এই দুই জঘণ্য অপরাধির প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা দেশবাসী দেখতে চায় !

আপনার মন্তব্য দিন