উচ্চমাধ্যমিকে আইসিটি শিক্ষা: ভুল ও বিভ্রান্তির গোলকধাঁধা - আইসিটি - দৈনিকশিক্ষা


উচ্চমাধ্যমিকে আইসিটি শিক্ষা: ভুল ও বিভ্রান্তির গোলকধাঁধা

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

বইয়ের নির্দেশনা মতো নির্দিষ্ট সফটওয়্যার প্রোগ্রাম লিখলে বাংলাদেশ শব্দটি  ১০ বার দেখানোর কথা কিন্তু দেখায় ১২ বার।  কম্পিউটারে দুটি সংখ্যার গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক (গসাগু) নির্ণয়ের প্রোগ্রাম লিখলে ভুল ফল আসে।  এরকম হাজারো ভুল আর বিভ্রান্তিতে ভরা পাঠ্যবই পড়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যাকরণ শিখছে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।  ভুলভাল শিখেই তারা পরীক্ষা দিচ্ছে।  বুধবার (২৯ জানুয়ারি) প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন মিসবাহ্ উদ্দিন।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, আইসিটি বিষয়ে বাজারে এমন বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থাগুলোর ১৯ টি পাঠ্যবই আছে।একটি বইয়ের প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের শিরোনামে বলা আছে, এটা ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর যোগফল নির্ণয়ের প্রোগ্রাম। কিন্তু প্রোগ্রামটি চালালে যোগফলের বদলে আসছে গুণফল। আরেকটি বইয়ের শিরোনামে লেখা বৃত্তের ক্ষেত্রফল নির্ণয়, অথচ প্রোগ্রামটি হচ্ছে বর্গের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের। অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার নির্ণয়ের প্রোগ্রাম চলেই না।

 আইসিটির আরেকটি বইয়ের উদাহরণে ওয়েবপেজ লেখার এইচটিএমএল (হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ) কোডে আছে, পটভূমির রং (ব্যাকগ্রাউন্ড কালার) সবুজ।  অথচ পাশে ফলাফল বা আউটপুটের পাতায় ছবিটিতে রংটি নীল।  একইভাবে অন্যত্র লাল হয়ে গেছে সবুজ।  আবার কোডের টাইটেলে আছে ‘স্টুডেন্ট ফোরাম, কিন্তু ফলাফলের ছবিতে দেখাচ্ছে সিস্টেক ডিজিটাল’।  এখানেই শেষ নয়, কিছু বিষয়ে একেক পাঠ্যবই একেক রকম তথ্য দিচ্ছে, যেটা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে।


আরও পড়ুন: উচ্চমাধ্যমিকের আইসিটি : অনুমোদনহীন দুর্বোধ্য বইয়ের বোঝা

উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) শুধু বাংলা ও ইংরেজি বই প্রকাশ করে । অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে এনসিটিবি শর্ত বেঁধে দিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনীর পাণ্ডু লিপি নেয়।  সেগুলো মূল্যায়ন করে পাঠ্যবই হিসেবে অনুমোদন দেয় । গতকাল প্রকাশিত ধারাবাহিকের প্রথম পর্বের যেমনটা দেখা গেছে, প্রতিটি বই অনুমোদনের শর্ত ভেঙে বেরোচ্ছে। বই বইগুলো ঢাউস, কঠিন, এবং বোর্ড-নির্ধারিত মূল্যের কয়েক গুণ বেশি।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোঃ ফরহাদুল ইসলামের মতে, বইয়ের ভুলভাল থাকার মূল কারণ লেখকদের নিষ্ঠার অভাব।  তিনি আরো বলেন অতিরিক্ত কাজের চাপে এনসিটিবি মান নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে পারছে না।  আইসিটির বই গুলোর লেখকরা সিএসই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, কেউবা পিএইচডি করেছেন।  এদিকে এনসিটিবি বইগুলো মূল্যায়নের ৭ জন কলেজশিক্ষকের যে প্যানেল করেছিল, তাদের একজন ছাড়া অন্য কেউ এ বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেননি।  তবে তারা যে মূল্যায়ন করেছেন, চালু আছে তার অবৈধ বর্ধিত সংস্করণ। 

ভুল চিহ্ন, ভুল যুক্তি

বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার মতো আইসিটির বিষয়বস্তু হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির ভাষা এর রয়েছে নিজস্ব ব্যাকরণ চিহ্ন দিয়ে গড়া সংকেত বা কোড । প্রতিটি সংকেতের রয়েছে আলাদা অর্থ । প্রচলিত আইসিটি বইগুলোতে মোটাদাগে দুই ধরনের ভুল আছে। চিহ্নের ভুল ও যুক্তির ভুল। ছাপার ভুলতো আছেই।

সংকেতে ভুল চিহ্ন বসতে পারে, আবার চিহ্নের বিন্যাস বা সিনটেক্সে ভুল হতে পারে। চিহ্ন বা সংকেতে ভুল করলে কম্পিউটার প্রোগ্রাম চলে না।  আর এক ধরনের ভুল হলো যুক্তির ভুল।  অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়ার মতো যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রোগ্রামটি লেখা হয়নি।  যুক্তির ভুল করলে কম্পিউটারে প্রোগ্রাম চলে, তবে আউটপুট বা ফল ভুল আসে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রেই মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং। বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা শেখা সহজ হয়ে যায় সি প্রোগ্রামিং আয়ত্তে থাকলে। আইসিটির অধ্যায়ের বিষয়বস্তু সি প্রোগ্রামিং । অধ্যায়টি পড়লে ভবিষ্যতে আইসিটি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনার ভিত্তি পাকা হওয়ার কথা।  অথচ অধিকাংশ পাঠ্যবইয়ে অধ্যায়টিতে সবচেয়ে বেশি ভুল আছে।  

ভুলের আরও কিছু নমুনা; সাধারণত  সংকেতে একেকটি লাইনের শেষে সেমিকোলন (;)  দিতে হয়।  আবার একই কাজ বারবার করতে হলে প্রোগ্রামিং এর বন্ধন এর মধ্যে শর্ত উল্লেখ করে সংকেত ব্যবহার করা হয়।  একে বলে লুপ। ফর (for)ও হোয়াইল (while) নির্দেশনা দিয়ে শুরু হওয়া লুপের লাইনে সেমিকোলন(;) দেওয়া যায় না।  যেটা ভুল। অক্ষরপত্র প্রকাশনীর বইয়ে এমন ভুল চোখে পড়েছে।  ইফ (if) শর্ত দেয়া লাইনের পরও সেমিকোলন দিয়ে ভুল হবে।  এমন ভুল দেখা গেছে সিস্টেক পাবলিকেশন্সের  বইয়ে।
 
প্রোগ্রাম এর ধাপগুলো প্রবাহ চিত্র বা ফ্লো-চার্ট এঁকে দেখানো হয়।  এছাড়া ধাপগুলো বর্ণনাও থাকে, যাকে বলে অ্যালগরিদম লেকচার পাবলিকেশন, অক্ষরপত্র প্রকাশনী, সিস্টেক পাবলিকেশন, হাসানবুক  হাউসসহ অধিকাংশ প্রকাশনীর বইয়ে দুটি পূর্ণসংখ্যার গসাগু নির্ণয়ের প্রবাহ চিত্র ও  অ্যালগরিদম ভুল লেখা আছে। এর প্রোগ্রামের নিদের্শনাতেও ভুল লেখা আছে।  তিন ক্ষেত্রেই ভুলটা যুক্তির।  সফট্ওয়ারে প্রোগ্রামটি লিখলে তা ভুল ফল দেয়। 

সিস্টেক পাবলিকেশন এর বইয়ের অধিবর্ষ নির্ণয়ের প্রোগ্রামে চিহ্নের ভুল আছে। বিভিন্ন বইয়ের এমন উদাহরণ আছে, যেখানে প্রোগ্রামের শিরোনামর এক,  অ্যালগরিদম অন্য, আবার হয়তো প্রবাহচিত্রও ভিন্ন।  একটি বাদে বাজারের সব বইয়ে সি প্রোগ্রামিং  অধ্যায়ে  কোন  না কোন ভুল আছে।  ইন্টারনেটে যেসব ওয়েবসাইট আছে, এর প্রতিটি একাধিক ওয়েব পাতার সমষ্টি।  ওয়েবপাতা তৈরির মৌলিক ভাষা হচ্ছে হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ (এইচটিএমএল)। আইসিটি বইয়ের চতুর্থ অধ্যায় এ ভাষা শেখানোর জন্য।  অধ্যায়টির নাম ওয়েব ডিজাইন পরিচিতি ও এইচটিএমএল। এখানে ওয়েবপাতার কোডে পটভূমি বা লেখার ফন্টের রংয়ের যে বিবরণ আছে, পাশে ওয়েবপাতাটির ছবির সঙ্গে তা মেলে না। অন্তত ছয়টি বইয়ে এমনটা দেখা গেছে।

হাসান বুক হাউসের বইয়ে কয়েকটি উদাহরনে এইচটিএমএল কোডে সমাপনী চিহ্ন নেই।  ফলে ওই কোড দিয়ে কাঙ্খিত পাতা তৈরি করা যাবে না। কোডের শিরোনাম আর ফলাফল বা আউটপুটের শিরোনামে গরমিলের অনেক উদাহরণ আছে। বাজারের সব বইয়ের এ অধ্যায়ের কোডগুলোতে কোনো না কোনো ভুল আছে। 

ওপরে যেমন দেখানো হয়েছে, চতুর্থ আর পঞ্চম অধ্যায়েই সবচেয়ে বেশি ভুল। তবে অন্য অধ্যায়গুলোতেও যথেষ্ট ভুল আছে।  তৃতীয় অধ্যায়ে, যেমন সার্কিট আঁকাসহ যুক্তির ভুল আছে অনেক বইয়ে।
 
রাজন শাহা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রেকৌশল (সিএসই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারে পড়াশোনা করছেন।  তিনি বিভাগের ভালো প্রোগ্রামার হিসেবে পরিচিত। রাজন বলেন, ‘এইচএসসিতে পড়ার সময় বইয়ের কোডগুলো করে দেখতে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। এখন বুঝতে পারছি, আদতে অনেক ভুল ছিল।

নানা মুনির নানা পদ

‘অনুমোদিত’ ছাপ্পা মারা পাঠ্যবই ১৯টি। কলেজগুলো তার মধ্য থেকে বেছে নেই। কিছু বিষয়ে একেক বই একেক তথ্য দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে । বইগুলোর ছয় অধ্যায়ের প্রতিটিতে এ রকম বিভ্রান্তির উপাদান ছড়িয়ে আছে। 

উপাত্তভান্ডারে একটি সারণিভুক্ত উপাত্তের  সঙ্গে অন্যান্য সারণিভু্ক্ত উপাত্তের সম্পর্ককে ডেটাবেইস রিলেশন বলে। লেকচার পাবলিকেশনের আইসিটি বইয়ে ষষ্ঠ অধ্যায়ে আছে, ডেটাবেজ রিলেশন তিন ভাগে ভাগ করা যায়।  হাসান বুক হাউসের বইয়ে আছে, এ সম্পর্ক তিন ধরণের হয়। কিন্তু সিসটেক পাবলিকেশনের বই বলছে ডেটাবেজ রিলেশন চার রকম। 

সিলেটের মুরারিচাঁদ(এমসি) কলেজের শিক্ষার্থী সাজিদ সাফায়েত হোসেন একেক বইয়ে একেক তথ্য বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘ পরীক্ষায় এমন প্রশ্ন আসলে আমরা কিভাবে বুঝব প্রশ্নটি কোন বই থেকে করা হয়েছে? আমরা কি জ্যোতিষী যে গণনা করে বলব, অমুক বই থেকে প্রশ্ন করেছে, তাই তিন প্রকার? তমুক বই থেকে প্রশ্ন করেছে, তাই চার প্রকার? 

এমন বিভ্রান্তির কথা মেনে নিয়েছে এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক সন্তোষ কুমার ঢালী। তিনি বলেন,  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনামতো আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এনসিটিবি নিজে বই প্রকাশ করবে। তাঁর আশা, তখন বিভ্রান্তি দূর হবে।

মান্ধাতার আমলের

আজ থেকে ১০ বছর আগে সি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোড লেখার জন্য যে সফটওয়্যার চলত, তার নাম টার্বু সি। সেটাতে কাজ সম্পাদনের প্রক্রিয়া বা ফাংশনও ছিল ওই সফটওয়্যার এর সঙ্গে মানানসই। এখন প্রোগ্রামাররা কোডব্লকসের মতো শক্তিশালী সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। অথচ আইসিটি বইয়ে টার্বু সি সফটওয়্যার মাথায় রেখে প্রোগ্রাম লেখা হয়েছে। 

 বাংলা সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকার সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও দলনেতা হিসেবে কাজ করছেন মাহবুবুর বর তালহা।  তিনি বলেন, আইসিটি বই গুলো প্রোগ্রামিং করার জন্য যেসব সফটওয়্যার অনুসরণ করেছে,  সেগুলো কমবেশি এক যুগের পুরানো। চলতি সফটওয়্যারে এসব বইয়ে অনেক প্রোগ্রাম চলে না।  আবার কিছু সংকেত না দিলেও চলে।
প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়া, ভুলে আর বিভ্রান্তিতে ভরা এই বইগুলো পড়ানোর জন্য উপযুক্ত শিক্ষক থাকলে শিক্ষার্থীরা তবু হয়তো রক্ষা পেত;  কিন্তু এ বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব প্রকট।




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আব্দুস সালাম - dainik shiksha ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আব্দুস সালাম শিক্ষক নিয়োগ কমিশন আইনের খসড়া প্রস্তুত - dainik shiksha শিক্ষক নিয়োগ কমিশন আইনের খসড়া প্রস্তুত আটকে যাচ্ছে তৃতীয় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (ভিডিও) - dainik shiksha আটকে যাচ্ছে তৃতীয় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (ভিডিও) এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের তিন প্রস্তাব - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের তিন প্রস্তাব জাল নিবন্ধন সনদে এমপিওভুক্তি : প্রভাষক-অধ্যক্ষের বেতন বন্ধ - dainik shiksha জাল নিবন্ধন সনদে এমপিওভুক্তি : প্রভাষক-অধ্যক্ষের বেতন বন্ধ মাদরাসার স্বীকৃতি ও বিভাগ খোলার প্রস্তাব মূল্যায়নে মন্ত্রণালয়ের কমিটি - dainik shiksha মাদরাসার স্বীকৃতি ও বিভাগ খোলার প্রস্তাব মূল্যায়নে মন্ত্রণালয়ের কমিটি ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত - dainik shiksha ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জালসনদেই ৭ বছর এমপিওভোগ! - dainik shiksha জালসনদেই ৭ বছর এমপিওভোগ! কবে কোন দিবস, কীভাবে পালন, নতুন নির্দেশনা জারি - dainik shiksha কবে কোন দিবস, কীভাবে পালন, নতুন নির্দেশনা জারি please click here to view dainikshiksha website