মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতায় ১৮ মাস ধরে উপবৃত্তি পাচ্ছে না ১৬ লাখ শিক্ষার্থী - স্কুল - Dainikshiksha


মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতায় ১৮ মাস ধরে উপবৃত্তি পাচ্ছে না ১৬ লাখ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক |

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতায় ১৬ মাস ধরে উপবৃত্তি বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী। শুধু তাই নয়, বিলুপ্ত সেকায়েপ প্রকল্পের অধীন ২৫০ উপজেলার প্রায় ১২ হাজার মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসার এই বিপুল শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টিউশন ফি-ও আদায় করা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা।  

দৈনিক শিক্ষার অনুসন্ধানে জানা যায়, সেকায়েপের অধীনস্থ প্রায় ১৬ লাখ শিক্ষার্থীকে ১৮ মাস ধরে উপবৃ্ত্তির টাকা দেয়া হচ্ছে না। সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি একসেস এন্ড এনহ্যান্সমেন্ট প্রকল্পের (সেকায়েপ) মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে। ঝরেপড়া রোধ, ছাত্রীদের বাল্যবিয়ে বন্ধ, প্রত্যন্ত অঞ্চলের আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে সরকার সেকায়েপ প্রকল্পের অধীনস্থ ২৫০টি উপজেলার প্রায় ১২ হাজার মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসার ১৭ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি, বিনামূল্যের বই, পাবলিক পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা ও বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ দিয়ে আসছিল। এছাড়া প্রকল্পভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শিক্ষার্থী সংখ্যার বিপরীতে কিছু টাকা দেয়া হতো, যার অধিকাংশই শিক্ষকরা পেতেন। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এই শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির কী হবে তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এ অবস্থায় স্কুল ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করছে। সারা বছর তারা বিনাবেতনে পড়ে আসছে। কিন্তু হঠাৎ উপবৃত্তির টাকাও বন্ধ, আবার স্কুল থেকে টিউশন ফি চাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।   

একাধিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, কোনো সফল প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট চালু রাখতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবগত করতে হয়। কিন্তু প্রকল্পের পিডি বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে বেশি সময় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে কোনো ভূমিকাই নেননি। বরং তদবির করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিয়েছেন। মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালকও উপবৃত্তি চালু রাখতে কোনো ভূমিকা নেননি। এই দুই কর্মকর্তার উদাসীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি বঞ্চিত।

জানতে চাইলে ব্রহ্মণবাড়িয়ার একাধিক শিক্ষক দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তারাও কিছু বলতে পারেননি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে দেড় বছর, আজ পর্যন্ত নতুন প্রকল্পেরও কোনো খবর নেই। যদি নতুন প্রকল্প চালু না হয়, তবে আমরা টিউশন ফি নিতে বাধ্য হবো।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, উপবৃত্তি প্রকল্পের ফলে দেশে আজ শিক্ষার হার এত বেশি। ঝরেপড়া রোধ, বাল্যবিয়ের হার কমানো, মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে উপবৃত্তির বিকল্প নেই।

তারা বলেন, সেকায়েপ প্রকল্পভুক্ত ১৬ লাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি না পেলেও প্রকল্প কর্মকর্তা ঠিকই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদায়ন পেয়েছেন। অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সিদ্ধান্ত না দিলে টিউশন ফি্ আদায় নিয়ে জটিল অবস্থার উদ্ভব হতে পারে। কারণ, অভিভাবকরা জেনে আসছেন বিনাবেতনে পড়ানোর কথা। হঠাৎ করে বেতন আদায় করলে তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল মাদ্রাসায় পাঠানো বন্ধ করে দিতে পারেন।   




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
করোনা : ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৯ - dainik shiksha করোনা : ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৯ গণপরিবহন বন্ধ থাকবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত - dainik shiksha গণপরিবহন বন্ধ থাকবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ দিন সময় রেখে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন রুটিন হবে - dainik shiksha ১৫ দিন সময় রেখে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন রুটিন হবে বিশ্ব এক হলেই শুধু করোনা মোকাবেলা সম্ভব : জাতিসংঘ - dainik shiksha বিশ্ব এক হলেই শুধু করোনা মোকাবেলা সম্ভব : জাতিসংঘ এপ্রিলেই আসছে ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহ - dainik shiksha এপ্রিলেই আসছে ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহ শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে - dainik shiksha শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মৃতদের শরীর থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ায় না : ডব্লিউএইচও - dainik shiksha মৃতদের শরীর থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ায় না : ডব্লিউএইচও শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতার ২০ শতাংশ অসহায় মানুষের কল্যাণে - dainik shiksha শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতার ২০ শতাংশ অসহায় মানুষের কল্যাণে ছুটি বাড়ল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত - dainik shiksha ছুটি বাড়ল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত টিভিতে পাঠদান : সারাদেশের শিক্ষকরাই সুযোগ পাবেন - dainik shiksha টিভিতে পাঠদান : সারাদেশের শিক্ষকরাই সুযোগ পাবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন please click here to view dainikshiksha website