মানসম্মত শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা - মতামত - Dainikshiksha


মানসম্মত শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা

ড. মিহির কুমার রায় |

সম্প্রতি উচ্চমাধ্যামিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পাসের হার ৬৬.৬১ শতাংশ, যা ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ছিল ৬৮.৯১ শতাংশ। এবারকার ফলাফলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো: শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি, শতকরা পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হ্রাস, পাসের হারে মেয়েদের উন্নতি, জিপিএ ৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের উন্নতি ইত্যাদি। পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় পাসের হারই মূখ্য বিষয় নয়, মানসম্মত শিক্ষাই বিবেচ্য বিষয়। আসলেও তাই। এইজন্য এই বছরের উচ্চমাধ্যমিক পাসের ফলাফলের শতকরা হার বিগত এক দশকের মধ্যে সর্ব্বনিম্ন হলেও তা সন্তোষজনক।

স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, প্রশ্নঁফাস রোধের উদ্দেশ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ায় পাশের হার কমলেও শিক্ষার মান বেড়েছে, যা বর্তমান সময়ের দাবি। আবার পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে শিক্ষার মানের বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত অর্থাৎ শিক্ষার মানের উন্নতি হলে পরীক্ষার ফলফলেও উন্নতি হবে। এজন্য আমরা আশা করি, পরবর্তী এইচএসসি পরীক্ষায় এর প্রতিফলন ঘটবে। এখন আসা যাক ফলাফলের পরবর্তী তথা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন নিয়ে আালোচনায়।

আমরা জানি, উচ্চ মাধ্যমিক হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যার ওপর নির্ভর করছে শিক্ষার্থীদের্ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের গতিপ্রকৃতি। তাই এখন  শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার যুদ্ধ। এবারকার ফলাফলে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষাথীদের সংখ্যা ত্রিশ হাজার কম বিধায় তাদের অনেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে যাবে। তবে বাকিদেরও আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। কেননা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মিলে শিক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী দেশে উচ্চ শিক্ষার আসন সংখ্যা ১৩ লাখেরও বেশি। তবে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে সরকারি খাতের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলো। এই সুযোগ যারা পাবে তারা কম খরচে উচ্চ মানের শিক্ষার সুযোগ পাবে। এই সরকারি কাঠমোতে যারা বঞ্চিত হবেন, তারাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য সুযোগ পাবে যা অনেকটা বা ক্ষেত্র বিশেষে ব্যয়বহুল।

উপর্যুক্ত পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, এইচএসসির পর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ কণ্টকমুক্ত করতে হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি সেখানকার টিউশন ফি যথাসম্ভব হ্রাস করতে হবে। এটা করা সম্ভব হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের এত হাহাকার থাকবে না। আর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তিপরীক্ষা নেওয়া হলে থাকবে না কোনো হয়রানি ও ভোগান্তি।

লেখক:  অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ডিন, সিটি ইউনির্ভাসিটি, ঢাকা  ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি,

সূত্র: ইত্তেফাক




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
অর্ধাক্ষর শিক্ষকরা সিকিঅক্ষর শিক্ষার্থী তৈরি করছেন: যতীন সরকার - dainik shiksha অর্ধাক্ষর শিক্ষকরা সিকিঅক্ষর শিক্ষার্থী তৈরি করছেন: যতীন সরকার ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খুন : গ্রেফতার ৩ - dainik shiksha ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খুন : গ্রেফতার ৩ অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে যা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে যা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী লাইব্রেরি সায়েন্সের পরীক্ষা শুরু রোববার - dainik shiksha লাইব্রেরি সায়েন্সের পরীক্ষা শুরু রোববার ইবতেদায়ি শিক্ষকদের অনুদানের চেক ছাড় - dainik shiksha ইবতেদায়ি শিক্ষকদের অনুদানের চেক ছাড় ভুয়া কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ করায় প্রধান শিক্ষককে লাখ টাকা জরিমানা - dainik shiksha ভুয়া কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ করায় প্রধান শিক্ষককে লাখ টাকা জরিমানা শিক্ষকরা পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে পারবেন - dainik shiksha শিক্ষকরা পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে পারবেন ১৮১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু - dainik shiksha ১৮১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু ২০২১ শিক্ষাবর্ষে বদলাচ্ছে প্রাথমিকের বই: প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha ২০২১ শিক্ষাবর্ষে বদলাচ্ছে প্রাথমিকের বই: প্রধানমন্ত্রী স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন ২০ ফেব্রুয়ারি - dainik shiksha স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন ২০ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ - dainik shiksha প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website