আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


শিওরক্যাশের যাতনা থেকে মুক্তি চান শিক্ষকরা

মো. মাসুদুর রহমান | আগস্ট ১৩, ২০১৭ | মতামত

১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গবন্ধু একযোগে সাইত্রিশ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। এর মধ্যে মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য আই সি টি বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করা হয়। দেওয়া হয় শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ।

সব শিশুই যাতে শিক্ষার আওতায় আসে সেজন্য শতভাগ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়। ইতোপূর্বে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করা হতো ব্যাংকের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত উপবৃত্তি কার্ডে তথ্য সংযুক্ত করে বিতরণ করা হতো এই উপবৃত্তির অর্থ। এভাবে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের জুন মাস পর্যন্ত উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হয়েছিল।

২০১৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই থেকে ডিসেম্বর এই ছয়মাসের এক কিস্তির অর্থ প্রদান করা হয় রুপালী ব্যাংকের শিওরক্যাশের মাধ্যমে। তাই প্রয়োজন হয়েছিল প্রতিজন সুবিধাভোগীর জন্য শিওরক্যাশের একাউন্ট খোলার। রুপালী ব্যাংক শিওরক্যাশের একাউন্ট খুলতে শিক্ষকদেরকে কাজে লাগিয়েছেন। দেখা গেছে, শিক্ষকরা শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রেখে ৪/৫ দিন ধরে এক নাগারে এই শিওরক্যাশের একাউন্ট খোলার ফরম পূরণ করছেন। এর পরে আছে টপশিট তৈরি ও সংশোধন। এ এক মহা কর্মযজ্ঞ। অত:পর বিতরণ করা হয়েছিল জুলাই-ডিসেম্বর কিস্তির উপবৃত্তির টাকা।
শিওর ক্যাশের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদানে অনেক বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়। ২০ থেকে ২৫ ভাগ অভিভাবক এখন পর্যন্ত গত ছয় মাসের টাকা মোটেও পাননি। আবার গত কয়েকদিন থেকে শুরু হয়েছে নতুন বিড়ম্বনা। ভুলে ভরা শিওর ক্যাশের তথ্য আপডেট করতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে শ্রম দিয়ে সেই তথ্য নির্দিষ্ট ছকে সংযোজন ও সংশোধন করতে হয় তাদের। আবার দু’এক দিন পর পর নতুন নতুন ফরম্যাটে তথ্য প্রদান, যেন এক বিরক্তিকর অবস্থা। এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যের জন্য শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা কিছুই বলতে পারেন না। এভাবে ছোটাছুটি আর হয়রানির শিকার হতে হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

বহুবছর যাবৎ শিক্ষকগণ শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম বহির্ভুত কিছু কাজে যুক্ত। যেমন- ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আদমশুমারি, অর্থনীতি শুমারি, কৃষিশুমারি, মৎস্যজীবী শুমারি, বিস্কুট বিতরণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম ইত্যাদি। অথচ শিক্ষকদেরকে শ্রেণিতে পাঠদানে ব্যস্ত থাকার কথা।

সারাদেশে যখন দাবি উঠছে পাঠদান বহির্ভূত কাজ থেকে বিরত রাখার। ঠিক সেই সময়ে বোঝার ওপর শাকের আটির মতো শিক্ষকগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে শিওরক্যাশের তথ্য পূরণ যা শিক্ষকদের জন্য সত্যি এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণা। তারা মুক্তি পেতে চান এই যাতনা থেকে।

মো. মাসুদুর রহমান : শিক্ষক, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। 

মন্তব্যঃ ২৩টি
  1. সালেহ আহমদ,বিয়ানী বাজার ,সিলেট । says:

    আনেক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ নেই, কোথাও ল্যাপটপ ব্যবহারের মতো শিক্সক নেই ।এমতাবস্থায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী দোকান থেকে কাজ করান ।শিক্ষকদের অনেক টাকা খরচ হয়,অথচ সারা বছরে সেই পুরোনো ১০০০/- টাকা কন্টিজেন্সি । তা থেকে আবার ভ্যাট কর্তন । কন্টিজেন্সিটা আরেকটু বাড়িয়ে দিলে হতো না?

  2. আফতাব উদ্দিন আহমেদ says:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিওর ক্যাশ আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংক তাদের কার্যকলাপ একই ধরনের। সকল কার্যকলাপ শিক্ষকদের করে দিতে হয়। তারপর শতকরা ৩০% ছাত্র-ছাত্রী উপবৃত্তির টাকা পায়না। ব্যাংকের সাথে অভিভাবকরা যোগাযোগ করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংক থাকে বিদ্যালয় থেকে ৩০/৪০ কিলোমিটার দূরে ফলে ইচ্ছা থাকলেও যোগাযোগ করা যায়না। ফলে উপবৃত্তি না পাওয়া ছাত্র/ছাত্রীরা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের যায়গা নাই, দেখারও কেউ নাই। কর্তৃপক্ষীয় বিষয়টা ক্ষতিয়ে দেখবেন কী?

  3. জাহাংগীর কবির. নাজিরপুর কলেজ, পিরোজপুর says:

    শিক্ষকদের ক্লাশ করানোর দরকার কি? প্রাইমারী স্কুলের পাশে একটা শিওরক্যাশ ব্যাংক খুলে দেওয়া হউক যেখানে স্কুলের মাষ্টাররা সবাই ব্যাংকার হয়ে যাবে আর বাচ্চাদের প্রতি মাসে একশত করে টাকা দিবে! পড়ানোর দরকারটা কি?

  4. মোঃ নজরুল ইসলাম, সহ: শিক্ষক, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ। says:

    আর কোন কাজটি করতে পারলে আমরা স্বস্তি খুজে পাব।
    একটা কথা আছে যা আজ মনে পড়ল – “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। “

  5. শাহীন কামাল says:

    কাজের সঠিক কোনো দিকনির্দেশনা নেই।। যখন যা মনে হচ্ছে তাই করছে ।

  6. এইচ,কে রায়হান-নওগাঁ says:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিওর ক্যাশ আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংক তাদের কার্যকলাপ একই ধরনের। সকল কার্যকলাপ শিক্ষকদের করে দিতে হয়। তারপর শতকরা ৩০% ছাত্র-ছাত্রী উপবৃত্তির টাকা পায়না। ব্যাংকের সাথে অভিভাবকরা যোগাযোগ করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংক থাকে বিদ্যালয় থেকে ৩০/৪০ কিলোমিটার দূরে ফলে ইচ্ছা থাকলেও যোগাযোগ করা যায়না। ফলে উপবৃত্তি না পাওয়া ছাত্র/ছাত্রীরা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের যায়গা নাই, দেখারও কেউ নাই। কর্তৃপক্ষীয় বিষয়টা ক্ষতিয়ে দেখবেন কী? শিওর ক্যাশ এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক এই দুটোর কার্‍যক্রম বন্ধ করা হউক।
    অভিভাবক বৃন্দ

  7. কৃষ্ণ চন্দ্র বালা, প্রধান শিক্ষক, ৯৫ নং জলিরপাড় সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, মুকসুদপুর,গোপালগঞ্জ। says:

    যন্ত্রনা দায়ক শিওর ক্যাশ থেকে মুক্তি চাই।

  8. md rezaul karim says:

    আসলেই আমাদের এ কাজে অনেক সময় ব্যয় হয়।

  9. md rezaul karim says:

    ঠিকই বলেছেন।

  10. মোঃ মিলন হোসেন says:

    শুধু শিউরক্যাশই নয়৷ বিদ্যালয়ের পাঠদান বর্হিভূত সকল প্রকার কাজ থেকে শিক্ষকদের বিরত রাখা হোক৷

  11. জাকির says:

    আমাদের কলেজে ছয় জন ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ এর শিক্ষার্থীর একাউন্টে ১ম ও ২য় কিস্তির উপবৃত্তি জমা পড়েনি। অথচ তার সহপাঠীরা টাকা তুলে খরচ করে ফেলেছে। অভিযোগ করার মত কোন জায়গা নেই। কেন টাকা আসেনি প্রতিষ্ঠানও জানেনা, আবার ব্যাংকও জানেনা। শিক্ষার্থীরা যাবে কোথায়??????

  12. কল্যাণ says:

    তবু ভাল। কৃষি জরিপ, শিশু জরিপ, জেলে জরিপ, বাঁধ নিমান, রিলিফ বিতরন, কৃমির ঔষধ বিতরন,ভোটর তালিকা প্রনয়ন ও হালনাগাত, বিস্কুট বিতরন ও রেকড সংরক্ষণ, আরো অনেক কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

  13. জিয়াউর রহমান says:

    অভিযোগের যায়গা নাই, দেখারও কেউ নাই। কর্তৃপক্ষীয় বিষয়টা নিজও জানেনা মনেহয় । শিক্ষক এবং অভিভাবক উবয়ের গলার কাঁটা শিওউরকেশ ।

  14. মোঃ আখতারুজ্জামান says:

    মতামতটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার জন্য কতৃপক্ষের মনযোগ আকষন করছি।

  15. মোঃ শামীম উদ্দিন মোল্যা says:

    ঠিক কথাই বলেছেন বাবা মা অতটা শিক্ষার আলোর মুখ না দেখতে পেয়ে যখন যা সামনে বেধেছে সেখানেই দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন নাম তাও আবার সংশোধন যোগ্য আবার জন্ম সনদ ও এই বাবা-মা এর জাতীয় পরিচয় পত্রে অমিল থাকায় ইউনিয়ন পরিষদসহ নির্বাচন অফিসের মত জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে সে এক রেসের ময়দান মনে হচ্ছে আমরা এর জন্য আরো কিছু সময় পেতে পারি কি সব কিছু সঠিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার জন্য?

  16. মোঃ সহিদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক,হাতীবান্ধা,লালমনিরহাট। says:

    শিওরক্যাশের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ,নিঃসন্দেহে একটি ভাল দিক।তবে-এই কাজটি বাস্তবায়নের আগে ২টি কাজ নিশ্চিত করার প্রয়োজন ছিল। (১)সকল বিদ্যালয়ে ল্যাবটপ ও এবিষয়ে দক্ষ শিক্ষক থাকা। (২) শিওরক্যাশ থেকে অভিভাবকের মোবাইলে টাকার ম্যাসেস পাঠানোর ০৭দিনের মধ্যে সংশিলিষ্ট বিদ্যালয়ে শীট প্রেরণ করা এবং সমস্যা হলে নিকটস্থ শাখায় সমাধানের ব্যবস্থা করা।

  17. হরিপদ চন্দ্র বসুনিয়া says:

    বাস্তব সম্মত এবং অপ্রিয় সত্য কথা বলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  18. মো: হাফিজুর রহমান says:

    শিক্ষার্থীর নাম, পিতার নাম, মাতার নাম ও মোবাইল নম্বর বসিয়ে শিওরক্যাশের ফরম পুরণ করতে যদি শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হয়ে, তবে পাঠদান করার কিভাবে শিক্ষকরা? পাঠদান বাদ দিয়ে বা পাঠদান ফাকি দিয়ে শিক্ষকরা যখন ভোটার সংগ্রহ কাজে ব্যস্ত থাকে তখন শিক্ষদের বেশ ভালই লাগে, কারণ ফরম প্রতি তো ৫০ টাকা।

  19. Foysal says:

    bhalo kaje bada asbey… ata abaro proman hoilo ai poster maddune….r sikhok dertu kharap lagbei.tader to barti incom bondu hoia gese.akhon tadere to kharap lagbe sorkarer koti koti taka baicha gese.ja tara dorniter maddume nitu.jar poriman anomanic 200koti…ja potreka theke jante parse

  20. md firojur rahman says:

    মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলুর অবস্থা একই, ছাএ /ছএীদের অভিযোগের পাহাড়” তাই পূর্বেরঅবস্থায় ফিরেযাওয়া উচিৎ।

  21. Enayet says:

    Only solution is Meghna Bank Tap n Pay

আপনার মন্তব্য দিন