আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মচ্ছব

নূর মোহাম্মদ | অক্টোবর ২১, ২০১৭ | কলেজ

গত তিন দশকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে ৪৬৫ কোটি টাকা। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দু’মাসেই শতাধিক প্রতিষ্ঠান অডিট করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর পৌনে দুই কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম পেয়েছে। এ সময়ে ১৮টি কলেজ ও ৭৪টি স্কুলের অডিট রিপোর্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিয়েছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। সেখানে এ আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে।

ডিআইএ’র প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে ১১টি কলেজ ও ৩২টি স্কুলসহ মোট ৪৩টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ১৯ হাজার ২৮ টাকা। আর আগস্ট মাসে ৭টি কলেজ ও ৪২টি স্কুলসহ ৪৯টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আর্থিক অনিয়ম পেয়েছে ১০ লাখ ৩৩ হাজার ২০০ টাকা।

জানা গেছে, ১৯৮১-৮২ সাল থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট ৪৯ হাজার ১৫৬টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এতে বিধি বহির্ভূতভাবে ৪৬৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের তথ্য উদঘাটিত হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩০শে জুন পর্যন্ত ডিআইএ মোট ৭ হাজার ২২২টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে পরিদর্শন করা হয়। এ সময়ে ৯৮ কোটি টাকার বেশি অবৈধভাবে গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে এমপিও

গ্রহণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকের মৃত্যুুর পরও তার নামে বেতন উত্তোলন করে আত্মসাৎ, শিক্ষক নিয়োগ না দিয়েই এমপিও গ্রহণ, প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক নিয়োগসহ নানাভাবে ওই অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ডিআইএ যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক, প্রশাসনিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছেন তারা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে পিয়ার ইন্সপেকশন (সমজাতীয় পরিদর্শন), গণশুনানির মতো জন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ ছাড়াও বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার কাজ চলছে। এগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ডিআইএ উদঘাটন করেছে ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে। ওই বছর তারা ২ হাজার ৫৩৩টি পরিদর্শন রিপোর্ট সরকারের কাছে দাখিল করে। এতে তারা প্রতিষ্ঠানগুলির ৫৭ কোটি ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮১৬ টাকা লোপাটের চিত্র বের করে। সরকারি অর্থ লোপাটের তথ্য উদঘাটনের দ্বিতীয় বড় ঘটনা ধরা পড়ে এর পরের বছর ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষে। ওই বছর ৫৩ কোটি ৯১ লাখ ৯৮ হাজার ৯১৬ টাকার অনিয়ম ও অপচয় উদঘাটন করা হয়, যা সরকারি কোষাগারে জমাদানের নির্দেশনা ছিল। ২০০১ সালের পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিকসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ধরা পড়ার হার বেশি ছিল।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওই সময়ে তদন্ত অনেকটা নির্মোহভাবে হয়েছে। যে কারণে আর্থিক দুর্নীতি উদঘাটনের হার বেশি ছিল। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলির দুর্নীতি উদঘাটনের হার কমতে থাকে। দেখা গেছে, যেখানে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪৪ টাকার দুর্নীতি ধরা পড়ে, সেখানে পরের বছরই তা অর্ধেকে নেমে আসে। ওই বছর ১৮ কোটি ৯ লাখ ৪৬ হাজার ২৬৩ টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। এরপর ত্রুমান্বয়ে কমতে থাকে। একপর্যায়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকায়। অবশ্য ডিআইএ’র হিসেবে গেলো অর্থবছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি করে অর্থ লোপাটের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৪৮৩ টাকা। এর আগে নব্বইয়ের দশকের শেষে বা ১৯৮৯-৯০ সেশনে ডিআইএ সারা দেশে ২৩ কোটি ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৩১২ টাকার আর্থিক অনিয়ম ধরেছিল। তবে চলতি বছর থেকে আর্থিক দুর্নীতি ধরার পরিমাণ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনলাইনে মনিটরিং, পেয়ার ইন্সফেকশন, গণশুনানির মধ্যে কার্যত্রুম চালু করেছে। পেয়ার ইন্সফেনশন চালু হলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করেন ডিআইএ কর্মকর্তারা।

সৌজন্যে: মানবজমিন

মন্তব্যঃ ১১টি
  1. হাবিব, দিনাজপুর। says:

    বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ব্যাবস্থাপনাই বলে দেয় সেখানে আর্থিক সিদ্ধান্ত প্রধানের একক এখতিয়ার। সরকারের কোন আইন কানুন থাকলেও তা অকার্যকর। প্রতিষ্ঠানের উপার্জন যেন প্রধানের ব্যাক্তিগত সম্পদ। প্রধানরা যেন দূর্নীতির শিরমনি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই এ অবস্থা। অডিট আসলে সাধারণ শিক্ষকদের নিকট হতে মোটা অংকের চাঁদাবাজি করেন। সেখানেও প্রধানদের ভাগ থাকে। একজন নির্ভেজাল দূর্নীতিবাজকে মাথার উপর বসিয়ে একজন শিক্ষকের পক্ষে তার শিক্ষার্থীদেরকে আদৌ কি নৈতিকতা শেখানো সম্ভব? কাজেই সময় এসেছে নীতিমালায় স্বচ্ছতা এনে প্রধানদের লাগাম টেনে ধরার।

  2. মো: সাইকুল ইসলাম , সহকারী শিক্ষক, আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দরপুর ,গোলাপগঞ্জ, সিলেট । says:

    আমিও হাবিব সাহেবের মন্তব্যের সাতে একমত ।

  3. সমশেদ আলী, উপজেলা কাহারোল, দিনাজপুর। says:

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধাণ শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মের জন্য প্রথমত দায়ী।সহকারী শিক্ষকরা প্রধাণ শিক্ষকের আর্থিক অনিয়মের জন্য প্রতিবাদ করতে গেলে সহকারী শিক্ষকদের নানা হয়রানী সহ সাময়িক বহিস্কারে যেতে হয়।আবার প্রধাণ শিক্ষককে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে সহকারী শিক্ষকের সাময়িক বহিস্কার প্রত্যাহার করাতে হয়।প্রধাণ শিক্ষকদের এই আর্থিক অনিয়ম দুর করার জন্য সহকারী শিক্ষকদের ভুমিকা থাকা আবশ্যক।

  4. মো: আব্দুল কুদ্দুস says:

    আমি মনেকরি শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে বিদ্যালয়ের সমস্ত আয় সরকারি কোষাগারে জমা নেওয়া,আর যে সমস্ত কাজ অফিসিয়ালভাবে করতে হয় সেখানে যাবতীয় অনিয়ম দুর করে স্বচ্ছতা আনা যায়।

  5. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক says:

    প্রতিষ্ঠান প্রধানের নাম বলতে বেশী সাহসের দরকার নেই বাট সকল অপকর্মের মূল হোতা কমিটির সভাপতিগন তো সমাজের রুই কাতলা তাই তার নামটাই কেঊ মুখে আনলেননা। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তো সভাপতির হাতের পুতুল। পুতুলের দোষ দেয়ার মাঝে কোনো কৃতিত্ব নেই।

  6. হানিফ তালুকদার says:

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টানের আর্থিক দুর্নীতি রোধের একমাত্র সমাধান -জাতীয়করণ।

  7. Mahin says:

    Abdur Rashid ,Chief(SMC) of Mirpur High School Post- Harinarayanpur, Kumarkhali, Kushtia is going to recruit a new Headmaster soon by taking 20 lakh tk. as a bribe. He(R) has already taken 10 lakh Tk. from the fixed candidate. The rest amount of 10 lakh Tk. will be paid before the selection date.The selection (Exam+viva) date has not got yet but the regulation book has already been ready for selection by the Chief(SMC).The selection committee have already been managed by getting their bribe. The lowest quality candidate is going to be selected as a Headmaster by offering a big amount of money. it is a corruption, isn’t it?

  8. ranjit says:

    উক্ত ডিআইএ এর তদন্তে এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগবিহীিন ভুয়া অধ্যক্ষ ধরা পড়লে, প্রথমে তারা অনেক হুমকি-ধমকি দেয়, পরবতর্তীতে প্রমানিত ভুয়া অধ্যক্ষকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেখিয়ে উক্ত ভুয়া অধ্যক্ষের কাছেই রিপোর্ট পাঠায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ না থাকায় এমপিবঞ্চিত উক্ত প্রমানিত ভুয়া অধ্যক্ষ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহানগর এলাকায় বসে কলেজের যাবতীয় আয় নিজের পেটে নিয়ে আজও ইচ্ছামতো কমিটি গঠন করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, সামাজিক অনুষ্ঠানে উক্ত প্রমানিত ভুয়া অধ্যক্ষ নিজেকে অধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন।

  9. Asaduzzaman says:

    প্রধানরা মনে করে এটা তাদের বাপ দাদার সম্পদ

  10. দিলীপ সিকদার,সহকারী প্রধান শিক্ষক,গংগানগর আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ,শরীয়তপুর। says:

    এই দুর্নীতি দূরকরার উপায় জাতীয়করণ।

  11. দিলীপ সিকদার,সহকারী প্রধান শিক্ষক,গংগানগর আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ,শরীয়তপুর। says:

    হাবিব সাহেব ঠিক বলেছেন।

আপনার মন্তব্য দিন