আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


শিক্ষিকা থেকে ভিখারি, জানাজানিতে তোলপাড়!

দৈনিক শিক্ষা ডেস্ক | নভেম্বর ১৪, ২০১৭ | বিবিধ

স্বাধীনচেতা স্বভাবের বিদ্যা ভারতের একজন সরকারি কর্মকর্তা। দক্ষিণ ভারতের কেরালার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে তার বসবাস। এক সকালে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে শহরের রেল স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন।

স্টেশনের বাইরে বন্ধুর জন্য অপেক্ষার সময় তার চোখ গেলো রাস্তার পাশে অবস্থানরত এক বৃদ্ধার দিকে। পরনের পোশাকটি জরাজীর্ণ। হাতে পলিথিন ব্যাগ, যাতে রয়েছে কয়েকটি খালি প্লাস্টিকের বোতল ও পুরনো একজোড়া কাপড়। রাস্তার পাশের একটি গাছ থেকে ফল ছিঁড়ে খাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

বৃদ্ধাকে দেখে শহরের আর দশটা ভিখারির মতোই লেগেছিল বিদ্যার কাছে। বিদ্যার মনে সহমর্মিতা জাগে। তিনি বৃদ্ধাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার কি ক্ষুধা লেগেছে’?

‘না’, সঙ্গে সঙ্গে জবাব বেরিয়ে আসে বৃদ্ধার মুখ থেকে। স্বীকার করতে না চাইলে কি হবে, তার মলিন মুখমণ্ডল ও ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য দেখলেই বোঝা যায় তিনি কতোটা ক্ষুধার্ত। বিদ্যা কাছাকাছি একটা খাবারের দোকান থেকে কিছু খাবার কিনে আনেন বৃদ্ধার জন্য।

নিজের ছাত্রীদের সঙ্গে সেই স্কুল শিক্ষিকাখাবার খাওয়ার সময় বৃদ্ধাটির সঙ্গে আলাপ চালানোর চেষ্টা করেন বিদ্যা। খেয়াল করলেন, বৃদ্ধার বাচনভঙ্গি বেশ মার্জিত। কথাবার্তায় শিক্ষার ছাপ। ফলে অতীত জীবন সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠলেন।

জানা গেলো, ভিখারির মতো ঘুরে বেরানো বৃদ্ধাটি একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। উত্তর কেরালার মালাপ্পুরাম জেলার একটি স্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষাদান করেছেন তিনি। বৃদ্ধার কাহিনী কতটুকু সত্য তা নিয়ে সংশয় থাকায় মোবাইল ফোন দিয়ে তার কিছু ছবি তুলে রাখেন বিদ্যা।

বৃদ্ধা যদি আসলেই স্কুল শিক্ষিকা হয়ে থাকেন, তবে তার কোনো না কোনো ছাত্র-ছাত্রী তাকে অবশ্যই চিনতে পারবেন। এই ভেবে বৃদ্ধার ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করেন। ফলাফল পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। বৃদ্ধার কয়েকজন পুরনো ছাত্র-ছাত্রী চিনে ফেলেন ছবিটা, এ তো আমাদের ছোটবেলার ভালসা ম্যাডাম!

পুরনো ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যার সহযোগে আবার খুঁজে বের করেন তাকে। তারা সবাই গৃহহীন ভালসা ম্যাডামের জন্য শেল্টারের ব্যবস্থা করতে আগ্রহী। শহরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে তার থাকার ব্যবস্থা হয়ে যায়।

ভালসার আত্মীয়-স্বজনকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে পুলিশ স্টেশনে একটি জেনারেল ডায়রি করা হয়। সেখান থেকে জানা যায়, ভালসার পরিবার তাকে পরিত্যাগ করেছে। মায়ের ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব এড়াতে ছেলে তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। পুলিশ ভালসার এক বোন ও কয়েকজন আত্মীয়ের সন্ধান বের করতে পারলেও, অনেক চেষ্টার পরও ছেলে বা স্বামীর কোনো খোঁজ পায়নি।

ভারতের সরকারি তথ্যমতে, কেরালায় প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশই প্রবীণ। একইসঙ্গে, প্রবীণ নাগরিকদের পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনাও এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটতে দেখা যায়।

রাজ্যের একজন সাব-কালেক্টর দিব্য এস ইয়ের বলেন, এখানকার বেশির ভাগ কর্মজীবী মানুষের সন্তানরা ভবিষ্যতে নিজেদের অভিভাবকের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করতে চায় না। ফল স্বরূপ দেখা পেতে হয় ভালসার মতো হতভাগিনী মায়ের।

মন্তব্যঃ ২৩টি
  1. Anwar says:

    Heaven is under the feet of mother . Al – hadith .

  2. sujit kumar baidya says:

    gorver sontander ei acaron ghore ghore dekha jacce ja mohavaroter dropodir bostrohoronkeo jeno har mania dicca aj.eder ki kono dhormo voy nei.

  3. ইউনুস says:

    ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মেনে তো নিতেই হবে।

  4. Idris Ahmed, Chapainawabganj says:

    Pora boro bathito holam

  5. M. Bashar, Lecturer at Jadunath model school & college,Bagerhat. says:

    Mother is only mother!

  6. zul hossain বিএনকলেজ ভাটপাড়া (কুঠি)গাংনী মেহেরপুর says:

    As you sow so you reap. Do you get this point?

  7. মোহা: এনাম says:

    আপনার মন্তব্য : এর জন্য ঐ শিক্ষিকাই দায়ী ! কারণ তিনি তাঁর সন্তানদেরকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারেন নি ! তবে সবারই জেনে রাখা উচিত -মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত !!

    • মোঃ আবুল কাসেম, সহকারী শিক্ষক, সন্তোষপুর নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল। says:

      ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন। বলার আর কিছু নেই মেনে নিতে হবে।

  8. নাম*মোঃ মাছুম বিল্লাহ এস এ দারুল হাবীব ফাযিল মাদ্রাসা ফুলবাড়ীয়া ময়মনসিংহ says:

    আমি এনাম ভাই এর সাথে এক মত

  9. মোঃ রওশন আলী । বেলুয়া উচ্চ বিদ্যালয় । (শিক্ষক) হরিপুর, ঠাকুরগাঁও। says:

    আপনার মন্তব্যrt

  10. Mahmud says:

    @ অঘারাম, সমস্যাটি কি ইন্ডয়ার, নাকি পুরো মানবতার?

  11. এম .রশীদ, চুয়াডাঙ্গা । says:

    বর্তমান বাংলাদেশে নন-এমপি শিক্ষকদের অবস্থা ভারতের ঐ ভালসার শিক্ষিকার চেয়েও খারাপ। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর শুভ বুদ্দি উদয় হোক।

  12. এস এম কামাল উদ্দীন ।সহকারী শিক্ষক, বাগমারা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ।বাগেরহাট সদর । says:

    আপনার মন্তব্য : এর জন্য ঐ শিক্ষিকাই দায়ী ! কারণ তিনি তাঁর সন্তানদেরকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারেন নি ! তবে সবারই জেনে রাখা উচিত -মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত !!

  13. Ramkrishna Roy says:

    নিয়তি একদিন জবাব দিবে! কারো বিচারের অপেক্ষা করবেনা। এ তো মাকে ফাকি দেওয়া নয়, নিজে নিজেকেই ফাঁসির কাষ্ঠে টাঙ্গানো বৈকি!

  14. আজাদ সিদ্দিকী says:

    আমাদের দেশে শিক্ষা আছে, সুশিক্ষা নেই ৷

  15. মোঃ মোকাদেদসুর রহমান সহকারী শিক্ষক শিবপুর হাট উচচ বিদ্যালয় পুঠিয়া, রাজশাহী। says:

    বাংলাদেশের শিক্ষকদের আরো করুণ দশা। আমার আব্বা প্রধান শিক্ষক ছিলেন ১৫ তে অবসরে গেছেন আজো কোন খবর নাই কোন টাকার।

  16. মোহাম্মদ আব্দুছ ছোবহান says:

    আমাদের দেশের নন এমপিও শিক্ষক দের ভাগ্যে ও এমন অবস্থা হতে পারে।

  17. মো: কামাল উদ্দিন says:

    নাটক সিনেমা মাকে একঘরে করে ফেলেছে।

  18. মোঃ জাকের হোসেন, উপাধ্যক্ষ, সেনবাগ ফাযিল মাদ্রাসা। says:

    ভারতে সবই সম্ভব ।।

আপনার মন্তব্য দিন