সৃজনশীল প্রশ্নপত্র আতঙ্কস্বরূপ! - মতামত - Dainikshiksha


সৃজনশীল প্রশ্নপত্র আতঙ্কস্বরূপ!

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

বিশ্বের দরবারে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিন্ডে’র সুযোগ পেতে হলে উপযুক্ত ছাত্র-ছাত্রীর প্রয়োজন যারা নিজেদের মেধা, মননকে উদ্ভাবনী শক্তিতে বিকশিত করবে অথচ সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক-অভিভাবিকা এমনকি যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান করে থাকেন তাদের কাছে দু’-একটি বিষয় ছাড়া বাকীগুলো আতঙ্কস্বরূপ। সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের চালুর একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প ছিল, ‘কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নপত্র’ যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের এক নমস্য শিক্ষাবিদ, সংগঠক এবং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আলোকিত মানুষ গড়ার এক ব্যক্তিত্ব। সঙ্গে আরও অনেক শিক্ষাবিদ ধীরে ধীরে শামিল হোন। অথচ যারা স্কুল পর্যায়ে পাঠদান করেন, গ্রামের মেঠোপথে ধুলায় ধূসরিত বৃষ্টি পড়ে এ অবস্থায় ক্লাসে শিক্ষাদান করে থাকেন তারা কিন্তু শুরু থেকেই সেই বিএনপি আমলে বিরোধিতা করে আসছিলেন। বুধবার (১২ জুন) জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী।

দুর্ভাগ্য যে, আমাদের দেশে কেউ যখন উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষাবিদ হয়ে যান, তারা তখন মাটির কাছাকাছি থাকেন না। আমিও বেশ কিছু গ্রামের স্কুল পরিদর্শনের সুবাদে তার কাঠামোগত পরিবেশ, পরিস্থিতি ও ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবক-অভিভাবিকাদের সার্বিক অবস্থা বিচার করে লিখেছিলাম সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ধাপে ধাপে কেবল বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যে এসএসসি এবং এইচএসসিতে চালু করা যেতে পারেÑ সময়ের বিবর্তনে। দুর্ভাগ্য, বিশ্ব ব্যাংকের প্রকল্পের অর্থায়নে করা কাজ-গরিব দেশে যে কোনভাবে চালাতে হবেÑ তাই তো ‘কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নপত্র’ হয়ে গেল সৃজনশীল প্রশ্নপত্র।

ভর করল প্রাথমিক থেকে এইচএসসি পর্যন্ত। অনেক বছর আগে ভারতীয় গায়ক কবীর সুমনের সঙ্গে একুশে টিভিতে কথা হচ্ছিল- তিনি বলেছিলেন, ‘একজন মানুষ বুদ্ধিজীবী হয় তখনই যখন টেবিলের এক প্রান্তে বসলে এক রকম বলেন, অন্য প্রান্তে বসলে অন্য রকম বলেন।’ ওই সমস্ত স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ কালে-ভদ্রে হয়ত গ্রামীণ স্কুলে যান বহিঃস্থ সজ্জায় তারা সৌন্দর্য উপভোগ করেনÑ এমনকি তাদের পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ধন্য হয়ে যায়। সময় এসেছে আজ, কারা সে সমস্ত শিক্ষাবিদ যারা সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি তৈরির জন্য সেদিন আর্তনাদ করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ছিলেন তাদের চিহ্নিত করার জন্য একটি কমিশন গঠনের।

আশ্চর্যের বিষয় দেখলাম, সে সমস্ত শিক্ষাবিদই গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর সামনে অবলীলায় বলে গেলেন, সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি বুমেরাং হয়েছে। যে বিষয়টি মাটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকে না, তৃণমূল পর্যায় থেকে অভিভাবক-অভিভাবিকারা মেনে নিতে পারেন না, ছাত্রছাত্রীদের ছেলেবেলা থেকে পরীক্ষা নামক পদ্ধতি দিয়ে মুখস্থ করে গড়ে তোলার মতো ঢাহা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হচ্ছেÑ সেখানে এভাবে সৃজনশীল পদ্ধতি কিছু উচ্চ মার্গের শিক্ষাবিদের চাপে চাপিয়ে দেয়া এক ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। বিএনপি আমলের ভুল সিদ্ধান্তটি আজকে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ভূতে পাওয়ার মতো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। অথচ যারা পাঠদান করে থাকেন, তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা দরকার ছিল। ক্যাপাসিটি বিল্ড আপের পূর্বে যথাযথভাবে ক্যাপাসিটি তৈরি হয়েছে কিনা এবং পাত্রটি প্রস্তুত আছে কিনা সেটি দেখা দরকার ছিল। সব পেশার ও সব শ্রেণীর অভিভাবকরা সেদিন সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির বিরোধিতা করেছিল।

তাদের মনস্তাত্ত্বিক দিকটি না বুঝে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা করতে গিয়ে একশ্রেণীর ভুঁইফোঁড় কোচিং ব্যবস্থা, গাইড, অভিভাবক-অভিভাবিকা কর্তৃক প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টা- আসলে হ-য-ব-র-ল হয়ে গেছে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। ছেলেমেয়েরা এখন না পারে হজম করতে, না পারে উগড়ে ফেলতেÑ মাঝখান থেকে কতিপয় জায়েন্ট শিক্ষাবিদের কারণে সমাজের প্রতি তাদের মধ্যে এক ধরনের বিরূপতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ দায় তো আমাদেরই!

সরকার কিন্তু সবসময়েই তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলেন। সরকার, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় আট বিলিয়ন টাকা খরচ করে সৃজনশীল প্রশ্নের শিক্ষক তৈরির চেষ্টায় ব্রতী হয়েছিলে। সরকারের এই সাধু প্রয়াস কিন্তু তেমন সফল হয়নি। কেননা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ইমপ্লিমেন্টেশন, মনিটরিং এবং ইভ্যালুয়েশন বিভাগের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে যে, মাধ্যমিক শিক্ষা সেক্টর উন্নয়ন প্রকল্প (এসইএসডিপি) সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেছেন যে, মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নের জন্য আট বিলিয়ন টাকা নষ্ট হয়েছে। আহ, কি সরলসিধে কথা। ইচ্ছে হয় প্রশ্ন করি, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’ সব কিছু থেকে কি নির্মোহ হওয়া যায়? দেশ জাতির জন্য সরকারপ্রধান খেটে চলেছেন নিরলস। অথচ যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, দাতা গোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে কাজ করতে গিয়ে রাজধানী ও বিভাগ ওয়ারী কিছু মানসম্মত স্কুল ছাড়া অন্যদের অন্ধকারে তলিয়ে দেবÑ এমনটি তো কখনও একজন প্রকৃত শিক্ষাবিদের কাজ হতে পারে না।

মিষ্ট ভাষী ও সুন্দর কথার জাল বুনলেই চলবে নাÑ প্রকৃতপক্ষে মাটি থেকে রসদ সংগ্রহ করে সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করেই কেবল আমাদের বলতে হবেÑ কোন্টা করা যেতে পারে। অথচ না বুঝে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের আজ ভুলের পথে ঠেলে দেয়া হচ্ছেÑ এর মাসুল দিচ্ছে জাতি। অথচ এর জন্য ওই শিক্ষাবিদরা কিন্তু তাদের দায় স্বীকার করেননি। সক্ষমতার কাছাকাছি থেকে এ ধরনের কাজ করাকে ‘মিসইউজ অফ পাওয়ার’ বলা চলে। আসলে প্রতিটি কাজের পূর্বে কেন কাজটি করব, কিভাবে সাধারণ ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে তা ভাবা উচিত ছিল। কয়েক বছর একটি রব উঠেছিল, সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করা। শুনতে শুনতে আমারও মনে হলো, মন্দ কি! কিন্তু যেদিন মতিয়া চৌধুরী এমপি সে সময়ে জাতীয় সংসদে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অবস্থা তুলে ধরলেন, তখন আমার ভুল ভাঙল। যেহেতু আমি সব সময়ই পারিবারিকভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, তাই পরের মুখে ঝাল না খেয়ে নিজেই কয়েকটি গ্রামের প্রাইমারী স্কুল দেখে এলাম। শহরে দাঁড়িয়ে, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে থেকে ওই সমস্ত স্কুলের দুরবস্থা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। কাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। ছাত্রছাত্রীরা বই পড়বে কিÑ শিক্ষা যে কষ্টসাধ্য তার পরিবেশও নেই। পাশাপাশি কিছু কিছু স্কুলে শিক্ষকতার মান এত নিম্ন যেÑ সেখানে পড়া শেখা তাই গলদঘর্ম হতে হয়। অথচ ওই অজপাড়াগাঁয়ের স্কুলগুলোর শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য সরকারপ্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন অনেকাংশে বৃদ্ধি করেছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের রিপোর্টে দেখা যায় ৫০% শিক্ষক কেবল সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারে। এসএসসিতে বাংলা প্রথম পত্র ও ধর্মে ২০১০ সালে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয়। এতে এক ধরনের ভয়-ভীতি কাজ করতে থাকেÑ যার ফলে অনেক অভিভাবক অসদুপায় গ্রহণ করেন। অনেক কোমলমতী শিক্ষার্থী জীবনের প্রথম পরীক্ষাতেই দেখলেন তাদের অভিভাবকরা উৎসাহ দিচ্ছেন অন্যায় করার জন্য। কোচিং বাণিজ্য, গাইড বাণিজ্য জমে উঠল। গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি, প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ভাল সময় কেটেছেÑ অথচ শিক্ষক সৃজনশীল শব্দটির অর্থ বোঝেন না। সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন করতে গেলে ধরুন কোন চিত্রের সাহায্যে নিম্নোক্তগুলো বিশ্লেষণ করতে হয়; কেন? কি কারণসমূহে হলো? যদি কি?; কি কারণে হলো?; এটি যদি অন্য থেকে কেন ভিন্ন হবে? এটি বাংলা ও ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যে সম্ভব। এমনকি রচনাতেও সম্ভব। কিন্তু কি করে ব্যাকরণে সম্ভব? রসায়নে কিভাবে সম্ভব? ইতিহাসে কেমন করে সম্ভব? মৃত্তিকা বিজ্ঞানে কি সম্ভব? আবার পরিসংখ্যানে আর গণিতে কি সম্ভব? আসলে আমরা আমাদের মস্তিষ্ক না খাটিয়ে বরং উর্বরতা প্রসূত ও আবেগ প্রসূত সুন্দর কথামালা গাঁথি। অথচ একটু যদি আমরা আমাদের সরকারপ্রধানকে অনুসরণ করতাম, তাহলে দেখতাম উনার বিজ্ঞ জনিত সিদ্ধান্ত প্রণীত হয় বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে।

এদিকে এসএসসিতে গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্ন করা হয়েছে। স্বাভাবিক কারণে শহরের গুটিকয়েক স্কুল ভাল করছে। অথচ আমি আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে যখন গণিতে পড়াতে যাই, দেখি সার্বিকভাবে গণিতের মান অনেক নিচে নেমে গেছে। তার অর্থ দাঁড়াচ্ছে বাস্তবসম্মতভাবে গণিত শেখানো হচ্ছে না। অথচ গণিতের মান উন্নয়নের জন্য গণিত অলিম্পিয়াড করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো এ সৌভাগ্যবানরা কত শতাংশ মূল শিক্ষার্থীদের ছবি তুলে, পত্রিকায় প্রকাশ করে এক ধরনের আত্মতৃপ্তিতে ভুগে। মাঝখান থেকে প্রায় ৯৬%-এর মতো শিক্ষার্থী বঞ্চিত থাকে। আর ইংরেজীতে আগের মতো ইংলিশ গল্প, উপন্যাস না পড়ার ফলে ¯œাতক পর্যায়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। না পারে কথা বলতে, শুদ্ধ করে শিখতে বানানেও হতশ্রী অবস্থা। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা স্কুলভিত্তিক হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এটি একত্রে করতে গিয়ে না ঘরকা না ঘটকা।

যদি স্ব-স্ব স্কুলের ওপর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া যায় এবং পূর্বের মতো আবার বৃত্তি পরীক্ষা চালু করা যায় তবে ভাল হবে। এদিকে এইচএসসিতেও আবার ভূতের মতো ভাড় করে বেড়াচ্ছে সৃজনশীল প্রশ্ন। ছাত্রছাত্রীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। স্বাভাবিক সুকুমার বৃত্তির যে উন্মেষ তা হারিয়ে ফেলেছে। সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি হচ্ছে সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো। আজ এইচএসসির অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনায় লাটে তুলে, কোচিং, গাইড নির্ভর হচ্ছে। যে চক্রটি সৃজনশীলের মুলা বুলিয়ে ছিল, তারা হয়ত দূরে সরে গেছে কিন্তু এদের স্থান দখল করেছে আরেক শ্রেণীর বেনিয়া শিক্ষাবিদ। শিক্ষার সঙ্গে ব্যবসা চলতে পারে না। সৃজনশীলতার দোহাই দিয়ে, প্রশিক্ষণের নাম করে অনেকে অনেক কিছু খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু দেশ ও জাতির জন্য শিক্ষার্থীদের মানস গঠনে সমস্যার উদ্রেক হয়েছে। অবিলম্বে এইচএসসিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য ছাড়া সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি ও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন যাতে বন্ধ হয় সে জন্য শিক্ষা অনুরাগী প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা জরাগ্রস্ত শিক্ষার্থী চাই না। অথচ আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যখন বিদেশে যায় তখন উদ্ভাবনী শক্তি দেখাতে পারে। সৃজনশীল প্রশ্নের নামে যে ফ্রাংকেস্টাইন তৈরি হয়েছে তা বন্ধ করা দরকার।

একটি বিকল্প প্রস্তাবনা : এসএসসি ও এইচএসসিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি ‘উদ্ভাবন ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা’ নামে ঙঢ়ঃরড়হধষ (অপশনাল) একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে সেখানে সৃজনশীলতা সৃষ্টির প্রয়াস গ্রহণ করা হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে শ্রদ্ধা করি কেননা তিনি সূর্যের মতো আলো দিচ্ছেন তার ছায়ায় আমরা এগিয়ে চলেছি। আর তাই তার কাছে আর্জি রাখছি অন্য বিষয়গুলো সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন যাতে বন্ধ হয়।

বাস্তব অবস্থায় গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোর কথা বলছি সেখানে ইংরেজী ও গণিতের যেমন দক্ষ শিক্ষক নেই, তেমনি চারু ও কারুকলা, শরীর চর্চা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিরা শিক্ষকের একান্ত অভাব রয়েছে। সেখানে শিক্ষক একান্ত দরকার রয়েছে। সরকার আধুনিক জ্ঞানের জন্য গ্রামীণ পর্যায়ে মাল্টিমিডিয়া দিলেও অনেক স্কুলে চালাতে ২০১৭তে গণিতে এসএসসিতে সৃজনশীল প্রশ্ন হবে এ জন্য পরীক্ষার পূর্বে যে প্রি-টেস্ট ও টেস্ট হয়েছিল, অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ফেল করে। প্রাইমারীর প্রশ্ন কেমন হবে সেটি নির্ধারণ করা উচিত প্রাইমারীর শিক্ষকদের। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সরকার মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষকদের। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সরকার মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষকদের মান উন্নয়নে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই প্রশিক্ষণ নেয়ার পরও তারা কেন ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারল না সেটি আমি পূর্বে যে কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছিলাম তাদের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে পারেন। আসলে শিক্ষা পদ্ধতিতে মেরুকরণ হয়েছে। সরকার অকৃপণভাবে শিক্ষার মান উন্নয়নে চেষ্টা করেছে। কিন্তু এক শ্রেণীর উচ্চ মাপের শিক্ষক তাদের মনগড়া বক্তব্যের কারণে বার বার এটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ‘ন্যাশনাল এডুকেশন কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা যায়নি। আবার প্রস্তাবনায় মালয়েশিয়ান মডেলের অন্ধভাবে অনুসরণের চেষ্টা করেছি যা আমাদের উন্নত বিশ্বের সঙ্গে পিছিয়ে দেবে। এদিকে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে প্রশ্ন প্রণয়ন ও পরীক্ষার যে প্রস্তাবনা সেটি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং একই দিনে স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ব-স্ব শিক্ষক-শিক্ষিকারা এইচএসসির সিলেবাসের ভিত্তিতে আলাদাভাবে ইউনিটভিত্তিক প্রশ্ন প্রণয়ন করে পরীক্ষা নিতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন সেটি কর্ডেনেন্ট করতে পারেন।

আমাদের এখন এগিয়ে যাওয়ার সময়। সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতির লাগামহীনতায় যে সামাজিক নৈরাশ্য সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে সমস্ত সম্মানিত শিক্ষক পরামর্শ দেবেনÑ তা যদি বুমেরাং হয় তবে তার দায়ও তাকে স্বীকার করতে হবে। পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগে বৈষম্য না করে তিন ধাপে : লিখিত, মৌখিক, প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। শিক্ষা হোক জীবন গড়ার হাতিয়ার।


 
লেখক : শিক্ষাবিদ ও উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে আবেদনের সময় বাড়ছে না - dainik shiksha ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে আবেদনের সময় বাড়ছে না প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পেলে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পেলে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পাবলিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ করার উদ্যোগ - dainik shiksha পাবলিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ করার উদ্যোগ ৫ বছরে পৌনে দুই লাখ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে - dainik shiksha ৫ বছরে পৌনে দুই লাখ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে প্রাণসহ ৫ কোম্পানির নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি, সাত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা - dainik shiksha প্রাণসহ ৫ কোম্পানির নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি, সাত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা কলেজের নবসৃষ্ট পদে এমপিওভুক্তির নির্দেশনা - dainik shiksha কলেজের নবসৃষ্ট পদে এমপিওভুক্তির নির্দেশনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website