আমাদের সঙ্গে থাকতে দৈনিকশিক্ষাডটকম ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পাঠ্যবই থেকে করার চিন্তা

দৈনিক শিক্ষা ডেস্ক: | নভেম্বর ১২, ২০১৭ | বই

২০১৮ শিক্ষাবর্ষের স্কুলে ভর্তির নীতিমালায় নতুন কয়েকটি ধারা সংযোজন করা হচ্ছে। স্কুল ভর্তিতে দুই ভাগ কোটা স্কুল ও মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনের সবার জন্য উন্মুক্তকরণ। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন অবশ্যই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তালিকাভুক্ত বই থেকে করা এবং অঞ্চলভিত্তিক ভর্তি ফি নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে।  রোববার (১২ নভেম্বর) এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে, নীতিমালা লঙ্ঘন করলে শাস্তি কী হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। খসড়ায় বলা হয়েছে, ভর্তি ফি একমাসের বেতনের সমান, ভর্তি হওয়া মাসের বেতন, বার্ষিক সেশন চার্জ, উন্নয়ন ও বিবিধ ফিসহ টিউশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে মফস্বল এলাকার এমপিওভুক্ত স্কুলে পাঁচ শত, আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলে ছয় শত, এমপিওবিহীন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে সাত শত, এমপিওবিহীন ইংলিশ ভার্সন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে আট শত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌরসভা ও উপজেলা সদরের এমপিওভুক্ত স্কুলে একহাজার, আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলে দেড় হাজার, এমপিওবিহীন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে আঠার শত, এমপিওবিহীন ইংলিশ ভার্সন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে দুই হাজার। জেলা শহরের (পৌর সদর) এমপিওভুক্ত স্কুলে দুই হাজার, আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলে দুই হাজার দুই শত, এমপিওবিহীন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে আড়াই হাজার, এমপিওবিহীন ইংলিশ ভার্সন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে আড়াই হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় শহরের (ঢাকা ব্যতীত) এমপিওভুক্ত স্কুলে তিন হাজার, আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলে চার হাজার, এমপিওবিহীন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে সাড়ে চার হাজার, এমপিওবিহীন ইংলিশ ভার্সন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে সাড়ে চারহাজার। ঢাকা শহরের এমপিওভুক্ত স্কুলে পাঁচ হাজার, আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলে আটহাজার, এমপিওবিহীন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে ১০ হাজার, এমপিওবিহীন ইংলিশ ভার্সন (পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত) স্কুলে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিগত বছরের মতোই টিউশন ফি নির্ধারণ করা হলেও শুধু রাজধানীর এমপিওবিহীন স্কুলে দুই হাজার টাকা বাড়তি প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফরমের দাম গত বছরের চেয়ে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব সালমা জাহান সাংবাদিকদের জানান, আসনের চেয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক স্কুল পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে প্রশ্ন করে। ভর্তি মৌসুম আসলে অভিভাবকরা পছন্দের স্কুলে সন্তানকে ক্লাসের পড়া বাদ কোচিংএ ভর্তি করে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পাঠ্যবই থেকে করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের অনুরোধে ভর্তি ফরমের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ১২ নভেম্বর নীতিমালার সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

রাজধানীর সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা হয় প্রতি বছর। শিক্ষামন্ত্রী ও সচিব ফ্রান্সে অবস্থান করায় সরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি স্কুলে ভর্তি খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, এবার সব সরকারি হাইস্কুলে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, যেসব স্কুলে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা নেই সেখানে আগের মতো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভর্তি করা হবে। আগের মতোই এবারো মোট আসনের ৫৯ শতাংশ কোটায় ভর্তির প্রস্তাব আছে। এগুলো হচ্ছে, স্কুলের ক্যাচমেন্ট এলাকা কোটা ৪০ শতাংশ, সরকারি প্রাইমারি স্কুল, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী’ কোটা। বাকি আসনে অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মন্তব্যঃ ৫টি
  1. F. Ahmed says:

    স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পাঠ্যবই থেকেই করা উচিত।

  2. Mosharaf says:

    সরকারি সকল মাধ্যমিক স্কুলে ভতিতে প্রশ্ন কেন পাঠ্যবই এর বাইরে থেকে করা হয়? এতো জটিল প্রশ্নের ধরুন ছাত্র, অভিভাবকগন চাপে পড়েন। ফলে কোচিং এর প্রসার। অন্যদিকে কোচিং বন্ধের চেষ্টা। দ্বৈতনীতি নয়কি?? সকল ভতি ও ফাইনাল পরিক্ষায় পাঠ্যবইহতে প্রশ্ন করতে হবে। তাহলেই দেশে কোচিং বাতিল হবে পড়ার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক বিকাশ সম্ভব।

  3. মো:আতিক উল্লাহ, শিক্ষক।বাতাবাড়িয়া,ঝলম,বরুড়া,কুমিল্লা। says:

    দেশের সকল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পাঠ্য থেকেই করা উচিৎ।আর কর্তৃপক্ষ যদি কোচিং বাণিজ্যের পক্ষে অবস্থান করেন তাহলে……….. আর কী? আর যেসব প্রশ্ন করা হয়। আমার মনে হয় উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা কোনো শিক্ষার্থীদের জন্য করা হয়েছে, বিশেষ করে ইংরেজি বিষয়টা।এতো কঠিন করার কারণ হলো তাঁদের কাছে কোচিং করা।

  4. Surma says:

    প্রশ্ন বইয়ের মধ্যে থেকে করলে মেধার যাচাই করা কী করে সম্ভব? তাহলে তো পাঠ্যপুস্তক যারা মুখস্ত করে তারা শুধু চান্স পাবে।

  5. আঃ রাজ্জাক সন্তোষ পুর নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কাজির হাট বরিশাল। says:

    ভতি পরিক্ষার প্রশ্ন বই থেকে করা হলে কচিং অনেক বন্দ হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য দিন