স্কুলে যেতে পারছে না গুচ্ছগ্রামের শিশুরা (ভিডিও) - ভিডিও এ্যালবাম - দৈনিকশিক্ষা


স্কুলে যেতে পারছে না গুচ্ছগ্রামের শিশুরা (ভিডিও)

এম এ বাশার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি |

সুমা, শিমু আর দীন ইসলাম। দুপুরের রোদে ইচিং-বিচিং খেলায় মেতেছে এই শিশুরা। স্কুলে যাবার কোনো তাড়া নেই। কেননা, পটুয়াখালীর বাউফলের রায়সাহেব চরের গুচ্ছ গ্রামটির আশপাশের ৬-৭ কিলোমিটার চর এলাকায় কোনো স্কুল না থাকায় লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে না তারা। তাই খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতেই কাটে তাদের সারাটা দিন। 

এখন কাঁচা-সবুজ আমন ধানে ছেয়ে আছে পুরো চর এলাকা। মা-বাবা কিংবা পরিবারের কারো থেকে তাড়া না থাকায় সকাল-বিকাল বই নিয়ে পড়তে বসতে হয় না। কেবল শিমু-সুমা আর দীন ইসলামই নয়, ওদের মতো স্কুলে যাওয়া কিংবা বই-খাতা নিয়ে পড়তে বসতে হয় না এই গুচ্ছ গ্রামের ইয়ানুন, আফসানা, সাকিব, মনি, জান্নাত, শারিমন, আব্দুল্লাহ, সজিব, ইয়ার হোসেন, চাঁদনী, জুনায়েদসহ অর্ধশতাধিক শিশুর। তবে লেখাপড়া কিংবা স্কুলে যাওয়ার আগ্রহের যেন কমতি নেই এসব শিশুদের। ক্যামেরায় ছবি তুলতে তুলতে দু’এক কথা জিজ্ঞাস করতেই খেলা থামিয়ে ৮ বছর বয়সী শিমু ভয়ে ভয়ে জড়োসড়ো গলায় বলে ওঠে, ‘আমাগোরে একটা স্কুল দিতে কইয়েন।’

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

নদীভাঙনে সর্বশান্ত হয়ে স্ত্রীসহ চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নেন ষাটোর্ধ্ব আব্দুর রাজ্জাক চৌকিদার। তিনি জানান, দু’বছর আগে মূল ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপের রায়সাহেব চরে তিন একর ১২ শতাংশ সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত এই গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় হয়েছে তাদের মতো মোট ৬০টি পরিবারের। প্রস্তাব করা হয়েছে গুচ্ছগ্রাম লাগোয়া আরও ৪ একর জমি নিয়ে নতুন ৫০টি পরিবারের বসতি স্থাপনের। কিন্তু গুচ্ছগ্রামের মাধ্যমে ওই চরভূমে বসতি স্থাপন হলেও ৫৫ বর্গমাইল আয়তনের নবগঠিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজান, চরকচুয়া, চরদিয়ারাকচুয়া, চরনিমদী, পাঁচখাজুরিয়া, কিচমত পাঁচখাজিুরিয়া, চরব্যারেট, চরওয়াডেল ও চরআলগীর মতো অপর নয়টি চরের সঙ্গে একমাত্র নৌকা ছাড়া অন্য কোনো যোগাযোগের মাধ্যম নেই রায়সাহেব চরের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের। গড়ে ওঠেনি কোনো রাস্তা, কালভার্ট কিংবা ব্রিজ। ফলে গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পাওয়া ৬০ পরিবারের মধ্যে ৫০টি পরিবারের সদস্যরা সেখানে অবস্থান করলেও উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আর এসব পরিবারের অর্ধশতাধিক শিশুই বেড়ে উঠছে অক্ষর-জ্ঞানহীনভাবে। এসব শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ নেই, সরকারি বা বেসরকারি কোনো উন্নয়ন সংস্থারও নেই কোনো কমিউনিটি স্কুল। তাই গুচ্ছগ্রামে আশ্রয়ের পর এই দু’বছরে সকাল বিকাল তেঁতুলিয়া নদীর গর্জন আর উত্তাল ঢেউ চিনলেও মিড-ডে মিল তো দূরের কথা বই-খাতা কিংবা কলম কি জিনিস চেনে না গুচ্ছগ্রামের এসব শিশুরা। 

নিজে লেখাপড়া না জানলেও দুই বছরে স্কুলের মুখ না দেখা গুচ্ছগ্রামের শিশুদের শিক্ষার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন রাজ্জাক হাওলাদারের স্ত্রী হাফেজা বেগম বলেন, ‘নদী ভাঙনে বাড়িঘর খুয়াইয়া পোলাপান লইয়া চরের গুচ্ছগ্রামডায় আইছি। অ্যাহানেও নদী-খালে বান্ধা পড়ছে আমাগো পোলাপানের স্কুলজীবন।’      

দীন ইসলামের (৭) বাবা বশির হাওলাদার। উপজেলার মূল ভূখণ্ডের ভরিপাশা গ্রাম থেকে এসে গুচ্ছগ্রামে মা-বাবার সঙ্গে আশ্রয় মিলেছে দীন ইসলামের তিন ভাইয়ের। মূল ভূখণ্ডে থাকাকালে দীন ইসলামের মা রাবেয়া বেগম এনজিও ঋণ তুলতে গিয়ে প্রতিবেশী একজনের কাছে কোনোমতে স্বাক্ষর জ্ঞান শিখেছেন। এছাড়া নদী-খালে মাছধরা ছাড়া আর কোনো বিদ্যাই যেন নেই দীন ইসলামের বড় ভাই আল-ইসলামের (৯)। স্কুলের সঙ্গে পরিচয় ঘটেনি তার। উপরন্তু বিচ্ছিন্ন এই চরের গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নেয়ায় বই-খাতা কিংবা স্কুলের সঙ্গে এখন পর্যন্ত পরিচয় হয়নি দীন ইসলামের ছোট ভাই জুনায়েদের (৪)।

অভাবের তাড়নায় কাজের সুযোগ নিতে ৭ ছেলেমেয়ে নিয়ে মূল ভূখণ্ডের ছোটডালিমা গ্রাম থেকে গুচ্ছগ্রামে ওঠা আরেক দম্পতি সোনামিয়া-নয়তারা। বিয়ে করে পরিবার থেকে পৃথক হয় তাদের ছেলে শামিম ও রাসেল। বিয়ে হলে স্বামীর বাড়ি চলে যায় মেয়ে শিল্পী বেগম। গুচ্ছগ্রামে আশ্রয়ের পরে স্কুলের পাঠ চুকে যায় তাদের আরেক ছেলে রবিউলের। স্কুল কিংবা পড়াশুনার সুযোগ না থাকায় শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে ইয়ার হোসেন (৯), ইয়ানুর (৮) ও ছোট সন্তান চাঁদনী (৬)।

ইয়ার হোসেন জানায়, তেঁতুলিয়া নদী থেকে উঠে আসা চরের বিভিন্ন খালে মাছধরা ও মৌসুমে কৃষকের ক্ষেতে ফসল কুড়ায় গুচ্ছগ্রামের শিশুরা। ক্ষেতের ফসল তুলে দেয় কৃষকের। কেউ কেউ আবার নৌকা-জাল নিয়ে নদীতে মাছ ধরাসহ বিভিন্ন চরে মহিষ চড়ানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে।

গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা বজলু ব্যাপারীর স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ‘আমার মাইয়া শামিনের বয়স ৫ বছর। স্কুল নাই। আর আমরাও ল্যাহাপড়া জানি না।’ তিনি জানান, গুচ্ছগ্রামের সুনু সরদারের মেয়ে ইয়ানুন (৮), রাকিবের মেয়ে আফসানা (৫), নিজাম ব্যাপারীর মেয়ে শিমু (৯), হেলালের মেয়ে মনি (৫), সোহাগ হোসেনের মেয়ে সুমা (৫), বশির হাওলাদারের ছেলে দীন ইসলাম (৭), ইসমাইল হোসেনের  মেয়ে জান্নাত (৭), বজলু ব্যাপারীর মেয়ে শারমিন (৫), সালামের ছেলে আব্দুল্লাহ (৫) আলাউদ্দিনের ছেলে সজিবসহ (৫) অর্ধশতাধিক শিশুর বয়স বাড়লেও স্কুলে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই।

চন্দ্রদ্বীপের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর আ. ছালাম শরীফ জানান, ১০টি দ্বীপচর নিয়ে ৫৫ বর্গমাইলের নবগঠিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লোকসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। এই চন্দ্রদ্বীপে প্রস্তাবিত একটি প্রাইমারি স্কুলসহ মোট ৬টি প্রাইমারী ও ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে একটি হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন আর দুর্গম রায়সাহেব চরে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গুচ্ছগ্রামটির স্কুল গমন উপযোগী অর্ধশতাধিক শিশু। পাশের চরের সঙ্গে যোগাযোগে গুচ্ছগ্রামের পাশ দিয়ে তেঁততুলিয়া থেকে উঠে আসা খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণসহ শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে স্কুল প্রতিষ্ঠা খুবই জরুরি। কৃষি ও মৎস্য সেক্টরে উপজেলাসহ দেশের অর্থনীতিতে চন্দ্রদ্বীপ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানের ছেলেমেয়েরা শিক্ষাসহ মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার জরিপ থেকে জানা গেছে, বাউফলে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের ১০ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে। আর চরাঞ্চলের এসব শিশুদের বেশিরভাগ কৃষিভিত্তিক ও বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গুচ্ছগ্রামের শিশুদের মতো এসব শিশুরা দারিদ্র্যতার কারণে অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, বিনোদন, নিরাপত্তা ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উপজেলা প্রকল্প ব্যাবস্থাপক রীণা ঘোস বলেন, ‘২০১০ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে বাউফলের চরাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সংস্থা কাজ করছে না। সরকারি প্রাক-প্রাথমিক চালু হলে ও ফান্ড না থাকায় অন্তত ৫ বছর আগে ‘প্রাক-কৈশোর শিক্ষা’ নামে সর্বশেষ স্পিড ট্রাস্টের প্রকল্পটিও বন্ধ হয়ে যায়। নানা প্রতিকূলতা আর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম হওয়ায় চন্দ্রদ্বীপে কোনো সংস্থা কাজ করতে চায় না। তবে এখনই উদ্যোগ নিয়ে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফান্ড তৈরি করে হলেও শিশুদের শিক্ষার সুযোগ দেয়া উচিত। অন্যথায় কেবল গুচ্ছগ্রামই নয়, চরের ছেলে-মেয়েরা পিছিয়ে পড়বে।’
  
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রিয়াজুল হক বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামে স্কুল উপযোগী ছেলে মেয়েদের কথা আমার জানা ছিল না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। উন্নয়ন সভায় তুলে ধরে শিশুদের শিক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
         
এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে জানার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ্রা দাস (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ‘আমি এখানের রেগুলার ইউএনও না। দায়িত্বে আছি। তাই বিষয়টি আমার জানাও ছিল না। ওখানে কোনো কমিউনিটি স্কুলও নেই জানার পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। মন্ত্রণালয় কিংবা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে যত দ্রুত সম্ভব ওই শিশুদের শিক্ষার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
Close --> সনদ বিক্রিতে অভিযুক্ত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ - dainik shiksha সনদ বিক্রিতে অভিযুক্ত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে তৈরি করা মার্কেট অপসারণের নির্দেশ - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে তৈরি করা মার্কেট অপসারণের নির্দেশ নীতিমালা সংশোধন কমিটির দ্বিতীয় সভায় এমপিওভুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা - dainik shiksha নীতিমালা সংশোধন কমিটির দ্বিতীয় সভায় এমপিওভুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির সভা ১৫ ডিসেম্বর - dainik shiksha এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির সভা ১৫ ডিসেম্বর সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায়ে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত - dainik shiksha সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায়ে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত এইচএসসি-আলিমের ফরম পূরণ শুরু - dainik shiksha এইচএসসি-আলিমের ফরম পূরণ শুরু জেএসসি-জেডিসির ফল ৩১ ডিসেম্বর - dainik shiksha জেএসসি-জেডিসির ফল ৩১ ডিসেম্বর লিফলেট ছড়িয়ে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য, ভর্তির গ্যারান্টি! - dainik shiksha লিফলেট ছড়িয়ে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য, ভর্তির গ্যারান্টি! এমপিওভুক্তিতে কর্তৃত্ব কমলো ডিডিদের, বাড়লো শিক্ষা ক্যাডারের - dainik shiksha এমপিওভুক্তিতে কর্তৃত্ব কমলো ডিডিদের, বাড়লো শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষামন্ত্রীকে লেখা এমপিদের চিঠিতে এমপিও কেলেঙ্কারি - dainik shiksha শিক্ষামন্ত্রীকে লেখা এমপিদের চিঠিতে এমপিও কেলেঙ্কারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনীর ফল বছরের শেষ দিনে - dainik shiksha প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনীর ফল বছরের শেষ দিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া দৈনিকশিক্ষার ফেসবুক লাইভ দেখতে আমাদের সাথে থাকুন প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮ টায় - dainik shiksha দৈনিকশিক্ষার ফেসবুক লাইভ দেখতে আমাদের সাথে থাকুন প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮ টায় শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন please click here to view dainikshiksha website