২৯৯ কলেজ সরকারিকরণ: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা ।। শেষ পর্ব - মতামত - Dainikshiksha


২৯৯ কলেজ সরকারিকরণ: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা ।। শেষ পর্ব

জহুরুল ইসলাম |

সামনে আমাদের অনাগত ভবিষ্যৎ পড়ে আছে। বিশাল কর্মকাণ্ড বাকি আছে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে প্রতিদিন আমাদের সদস্য সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব আমাদের অবশিষ্ট কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের তৎপর হওয়া উচিত। তৎপরতা বাড়ানোর জন্য গতিশীল নেতৃত্বসহ একটি সুদক্ষ কর্মী বাহিনী দরকার। সেদিকে খেয়াল রেখে মতামত ও সহযোগিতা প্রদান করবেন। 

আরও পড়ুন: ২৯৯ কলেজ সরকারিকরণ: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা ।। পর্ব ১

আত্তীকৃতরা সব সময় উপেক্ষিত ও বঞ্চিত। বর্তমান বিধি দ্বারা এই উপেক্ষা ও বঞ্চনাকে শতগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কারণ এই বিধিমালার ২(৮) এ বলা হয়েছে সরকারিকৃত কলেজ বলতে, এই বিধিমালা জারির তারিখে বা তৎপরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি ঘোষিত ওই সব বেসরকারি কলেজকে বোঝাবে যে কলেজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার কলেজটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। 

আরও পড়ুন: ২৯৯ কলেজ সরকারিকরণ: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা ।। ২য় পর্ব

এ সংজ্ঞার আলোকে সরকারিকরণের শর্তের তিনটি অংশ বাস্তবায়ন হলেই সরকারিকৃত কলেজ বলা যাবে। প্রথম হলো, সরকারি হিসাবে ঘোষিত নির্বাচিত বেসরকারি কলেজ। দ্বিতীয়টি হল, এমন কোনও নির্বাচিত বেসরকারি কলেজ যার পরিচালনা পর্ষদ ওই কলেজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে রেজিস্ট্রি করে দলিল হস্তান্তর করেছে। তৃতীয়টি হল সরকার কলেজটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ২৯৬টি কলেজ প্রথম ও দ্বিতীয় শর্ত বিধিমালা জারির পূর্বেই সম্পন্ন করেছে। তাই ২৯৬টি কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ ২০১৮ বিধিমালার ১৫ ধারার ২ উপধারার (ক) ও (খ) অনুচ্ছেদ দ্বারা সম্পন্ন করলে এই সব কলেজের সঙ্গে সম্পৃক্তরা বঞ্চিত হবেন না। এ ছাড়াও আত্তীকৃত সরকারি কলেজ শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো: 
১. দ্রুত পদ সৃজন ও পদায়ন। 
২. কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ ২০১৮ বিধিমালার ১৫ ধারার ২ উপধারার (ক) ও (খ) অনুচ্ছেদ দ্বারা সম্পন্ন করা। 
৩. দ্রুত ২০১৮ বিধির ৮ ধারা মোতাবেক ক্যাডারভুক্তির বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। 
৪. দ্রুত পদ সোপান তৈরি ও পদোন্নতির শর্তাবলী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। 
৫. শতভাগ চাকরিকাল গণনা করা এবং কার্যকরী চাকরিকাল পদোন্নতিসহ সকল জায়গায় কার্যকর রাখা। 
৬. অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেতন স্কেল নির্ধারণ করা।

আরও পড়ুন: ২৯৯ কলেজ সরকারিকরণ: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা ।। ৩য় পর্ব

শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূরীভূত হওয়ার পরিবর্তে পুঞ্জিভূত হচ্ছে। তাই আজ দৃষ্টিমান হয়ে উঠেছে শিক্ষার বাণিজ্যিকরণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সরকারিকরণ করলেন। শিক্ষকদেরকে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের মতো মর্যাদাসহ আর্থিক সুবিধা প্রদান করলেন। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মান কোন অংশেই কমে যায়নি বরং বেড়েছে। কলেজের পাশাপাশি সরকারি স্কুলবিহীন উপজেলায় একটি করে স্কুল সরকারিকরণ করা হয়েছে। সেখানেও সরকারিভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু কলেজের ক্ষেত্রে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পৃথিবীতে অনেক আন্দোলন সংগ্রামের কথা শুনেছি, যেখানে নিজের অধিকার আদায় করার পক্ষে জনমত তৈরিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু এবারই প্রথম শুনলাম যে অন্য কাউকে অধিকার না দেয়ার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে সরকারি হওয়া কলেজ শিক্ষকরাও তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে কমিউনিটির স্বার্থকে উপেক্ষা করে সরকারি হওয়া কলেজ শিক্ষকরাও ক্যাডার শিক্ষকদের পক্ষ নেয়ায় সরকারিকরণ ইতিহাসে কালিমালেপন করা হয়। এই কালিমালেপন এখন  ক্যাডার শিক্ষক নন-ক্যাডার শিক্ষক তৈরি করলো, যা ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থায় ধস নামাবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ আত্তীকৃত শিক্ষকদের আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। ক্লাসরুমে সময় দিতে পারছেন না তাঁরা। একদিকে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন আত্তীকৃতরা ছিল সংখ্যায় কম এবং কলেজর সংখ্যাও ছিল কম। এখন আমরা সংখ্যায় প্রায় ১৫ হাজার। কলেজও ২৯৬টি। আর আমাদের কাজও অনেক বেশি। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষকরা ক্যাডার নয়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ভোগ করেন, আদালতে চেয়ার দেওয়া হয়। স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ভোগ এবং বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর। ভারতেও শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর করতে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরকে বদলির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে এবং বিগত ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষকদেরকে স্বতন্ত্র বেতন স্কেল দেয়ার কথা উল্লেখ ছিল।  আমরা অবকাশ ছুটি বিভাগের চাকুরি করি। ক্যাডাররা শুক্র, শনিবার ছুটি ভোগ করে। আমাদের দেশে বিসিএস (বিচার) ছিল, তারাও অবকাশ ছুটি জনিত চাকুরি করত। তারা আদলতে রিট করে ন্যাশনাল জুডিসিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। 
 
লেখক: সভাপতি, সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতি (সকশিস) কেন্দ্রীয় কমিটি 




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারিতে পাস ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ - dainik shiksha ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারিতে পাস ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেকারভাতা দেয়ার চিন্তা সরকারের - dainik shiksha বেকারভাতা দেয়ার চিন্তা সরকারের তদবিরে তকদির: চাকরির বাজারে এগিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটরা - dainik shiksha তদবিরে তকদির: চাকরির বাজারে এগিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটরা নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা - dainik shiksha নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ১০ হাজার ৮৫ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ১০ হাজার ৮৫ শিক্ষক প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২৪ মে শুরু - dainik shiksha প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২৪ মে শুরু সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website