ইনডেক্সধারীদের আলাদা নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের অনীহা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

শিক্ষক সংকট কাটাতে ইনডেক্সধারী বা ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আলাদা প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সুপারিশের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে চতুর্থধাপে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। চলতি নভেম্বরেই এ নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ফলে আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়া না হওয়ার শঙ্কা প্রবল হয়েছে। 

এনটিআরসিএ কর্মকর্তারা দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেছেন, ইনডেক্সধারীদের জন্য আলাদা না হলে আগের মতই সাধারণ প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে।

গতকাল রোববার দুপুরে এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবায়দুর রহমান দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পেলে আগের মতই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থী ও ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।  

প্রসঙ্গত, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা না থাকায় এমপিও নীতিমালাগুলোতে তাদের জন্য এ সুযোগ রাখা হয়েছিলো। তাদের বদলির জন্য আলাদা নীতিমালা করার কথা বলা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু নিজ বাড়ি থেকে দূরের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের জন্য নতুন প্রতিষ্ঠানে নতুন করে নিয়োগ পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে এমপিও নীতিমালায়। সে অনুসারে ইনডেক্সধারীরা সমপদে বা সমস্কেলের পদে নিয়োগের আবেদন করতে পারেন। তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে এমপিও নীতিমালার এ বিধান অনুসারে আবেদন করা হাজার হাজার শিক্ষকের নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। কিন্তু এর ফলে অনেক নিবন্ধিত প্রার্থী নিয়োগ পাননি। আবার যেসব ইনডেক্সধারী শিক্ষক নতুন প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পেয়ে যোগদান করেছেন তাদের আগের পদগুলো খালিই থেকে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন হচ্ছে না। তাই নিবন্ধিত প্রার্থীরা ইনডেক্সধারীদের জন্য আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানাচ্ছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে আলাদা নিয়োগ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে এনটিআরসিএ। 

এ পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা বলছেন, ইনডেক্সধারীদের আলাদা প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সুপারিশের প্রস্তাব আমাদের উৎফুল্ল করেছিলো। এর কারণে ইনডেক্সধারীরা আবেদন করে সুপারিশে পেলে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। কিন্তু তাদের ছেড়ে আসা পদগুলো খালিই থেকে যায়। আর একটি নিয়োগ চালানোর প্রায় এক বছর পর অপর নিয়োগ শুরু হয়। এতে ওই পদগুলো খালি থেকে যায়। বর্তমানে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক শূন্যপদের তথ্য এনটিআরসিএ সংগ্রহ করেছে। এসব পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে নতুন সুপারিশ পাওয়া ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা ছেড়ে গেছেন। ওই পদগুলো গত এক বছরের বেশি সময় খালি ছিলো। এভাবে প্রতি নিয়োগের হাজার হাজার পদ বছরের পর বছর ধরে শূন্য রাখা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য হুমকি। 

এর আগে গত ৭ নভেম্বর ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের একাংশ আলাদা গণবিজ্ঞপ্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করে। তাদের দাবি, ইনডেক্সধারীদের আলাদা প্রক্রিয়ায় নিয়োগের ব্যবস্থা না হলে শিক্ষক সংকট কাটবে না। 


পাঠকের মন্তব্য দেখুন
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১২ মে - dainik shiksha এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১২ মে খাড়িয়া ভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান প্রধান বিচারপতির - dainik shiksha খাড়িয়া ভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান প্রধান বিচারপতির উপবৃত্তির সব অ্যাকাউন্ট নগদ-এ রূপান্তরের সময় বৃদ্ধি - dainik shiksha উপবৃত্তির সব অ্যাকাউন্ট নগদ-এ রূপান্তরের সময় বৃদ্ধি শিক্ষক হতে চান না শিক্ষক দম্পতিদের কৃতী সন্তানরা - dainik shiksha শিক্ষক হতে চান না শিক্ষক দম্পতিদের কৃতী সন্তানরা কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে - dainik shiksha কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের মধ্যে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে বিল পাস - dainik shiksha শিক্ষার্থী বিক্ষোভের মধ্যে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে বিল পাস দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0024809837341309