পাঠ্যবই ছাপা শুরু, সিন্ডিকেট নিয়ে বেকায়দায় এনসিটিবি - বই - দৈনিকশিক্ষা


পাঠ্যবই ছাপা শুরু, সিন্ডিকেট নিয়ে বেকায়দায় এনসিটিবি

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গত দু’তিন বছরে কালো তালিকাভুক্ত হওয়া ছাপাখানাগুলো এবারও বই ছাপার কাজ পেতে নানাভাবে চেষ্টা করছে। প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি ব্যয়ে কাজ পেতে এবারও সক্রিয় হয়েছে ব্যবসায়ী ‘সিন্ডিকেট’। এ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রতিষ্ঠানটি ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি অযোগ্য ও নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার কারণে শাস্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। রোববার (৫ জুন) দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন রাকিব উদ্দিন।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায, এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য এবার প্রায় ৩৪ কোটি ৬১ লাখ ৬৩ হাজার কপি পাঠ্যবই ছাপার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫৩ হাজার কপি এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য মোট ২৪ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার কপি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে।

প্রাথমিক স্তরের প্রায় ১০ কোটি কপি পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৩ মে এই দরপত্র উন্মুক্ত করবে এনসিটিবি। এই দরপত্রকে ঘিরে কয়েকটি প্রভাবশালী পক্ষ্য ‘সঙ্গবদ্ধ’ভাবে ‘বেশি ব্যয়ে’ দরপত্রের শিডিউল জমা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর ফরহাদুল ইসলাম ২ মে বলেন, ‘সিন্ডিকেট ঠেকাতে নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। আশা করি, সিন্ডিকেট করতে পারবে না।’ গত বছরও ছাপাখানা মালিকদের একটি বড় গ্রুপ ‘সিন্ডিকেট’ করে সরকারের প্রাক্কলিত দরের চেয়ে বেশি ব্যয় দেখিয়ে দরপত্রে অংশ নিয়েছিল। পরে এনসিটিবি ‘পুনঃদরপত্র’ আহ্বান করে। এতে সিন্ডিকেট অনেকটাই ভেঙে যায়; প্রাক্কলিত দরের চেয়ে কম দরে কাজ নেয় ব্যবসায়ীরা। পুনরায় দরপত্র আহ্বানে সরকারের প্রায় ২৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছিল বলে এনসিটিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক ছাপার বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাধ্যমিকের মূল্যায়নকারীর তালিকা আমরা এখনও পাইনি। দরপত্রের নিয়ম হলো টেন্ডারের (দরপত্র) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই মূল্যায়ন কমিটি গঠন করতে হবে। আশা করছি, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহেই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়ে যাব। এরপরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

গত বছর নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যবই ছাপতে না পারা, কার্যাদেশ নিয়েও বই সরবরাহ না করাসহ বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘনের কারণে সম্প্রতি ২৬টি ছাপাখানাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এনসিটিবি। এর আগের বছর কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনসিটিবির যাবতীয় কাজে এক থেকে পাঁচবছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কালো তালিকাভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘বদল’ করে কাজ পেতে মতিঝিলে পাঠ্যপুস্তক ভবনে নিয়মিত তদবির করছেন বলে এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য গত বছর একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশি তিন কোটি কপিরও বেশি পাঠ্যবই ছেপে দিয়েছে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস। এ বিষয়ে অগ্রণীর স্বত্বাধিকারী কাউসার-উজ-জামান বলেন, ‘সারাদেশে প্রায় ৮০০ ছাপাখানা আছে। এর মধ্যে সরকারের পাঠ্যপুস্তক ছাপার কাজ করে দেড়শ’র মতো প্রতিষ্ঠান। দেশের সব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ১০০ কোটি পাঠ্যবই ছাপা সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হলো দেশের পেপার ইন্ড্রাস্ট্রি দুর্বল..... চাহিদামত কাগজ পাওয়া যায় না। এ কারণে কারো কারো বই ছাপাতে দেরি হয়।’

এনসিটিবির উৎপাদন ও বিতরণ শাখার দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কালো তালিকাভুক্ত ছাপাখানাগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে সরকারের ‘কেন্দ্রীয় প্রযোজনা প্রযুক্তিগত ইউনিটে’ (সিপিটিইউ) অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এনসিটিবির ওয়েবসাইটেও ওইসব ‘অযোগ্য’ ছাপাখানার তালিকা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এরপরও অভিযুক্ত কোন প্রতিষ্ঠান নাম ‘বদল’ করে দরপত্রে অংশ নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এনসিটিবি সম্প্রতি ২৬টি ছাপাখানাকে এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৫ বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো অক্ষরবিন্যাস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, প্রেস লাইন, মনির প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, সেডনা প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, আবুল প্রিন্টিং প্রেস, মেসার্স টাঙ্গাইল প্রিন্টিং প্রেস, হক প্রিন্টার্স, মেসার্স নাজমুন নাহার প্রেস, বনফুল আর্ট প্রেস, বুলবুল আর্ট প্রেস, শিক্ষা সেবা প্রিন্টার্স, পিবিএস প্রিন্টার্স, প্লাসিড প্রিন্টার্স অ্যান্ড প্যাকেজেস, আমাজন প্রিন্টিং প্রেস, উজ্জ্বল প্রিন্টিং প্রেস, মহানগর অফসেট প্রেস এবং এইচআর প্রিন্টার্স অ্যান্ড পেপার মিলস।

এছাড়া ঢাকার ইউসুফ প্রিন্টার্স ও বগুড়ার শরীফা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স তিন বছরের জন্য; জিতু অফসেট প্রেস, ন্যাশনাল প্রিন্টার্স ও ওয়েবটেক প্রিন্টার্সকে দুই বছরের জন্য এবং বাকো অফসেট প্রেস, দিগন্ত অফসেট প্রেস, এবি কালার প্রেস ও মেসার্স প্রিন্ট প্লাসকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে এনসিটিবি।

২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন বছরের শুরুতে সারাদেশের শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রতি বছর সরকারের বিশাল এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন হচ্ছে। করোনা মহামারীর দুই বছরেও শিক্ষাবর্ষের শুরুতে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


পাঠকের মন্তব্য দেখুন
নড়াইলে উসকানিদাতা রাজনীতিক-শিক্ষক - dainik shiksha নড়াইলে উসকানিদাতা রাজনীতিক-শিক্ষক আমলারা ৯ সেকেন্ডের কাজে ৯০ দিন লাগান : পরিকল্পনামন্ত্রী - dainik shiksha আমলারা ৯ সেকেন্ডের কাজে ৯০ দিন লাগান : পরিকল্পনামন্ত্রী শিক্ষক হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রের বয়স উনিশের বেশি, জেডিসি পাস - dainik shiksha শিক্ষক হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রের বয়স উনিশের বেশি, জেডিসি পাস শিশুদের কে জি স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা দুঃখজনক : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী - dainik shiksha শিশুদের কে জি স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা দুঃখজনক : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী শিক্ষক হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্র জিতু গ্রেফতার - dainik shiksha শিক্ষক হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্র জিতু গ্রেফতার সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১২ আগস্ট - dainik shiksha সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১২ আগস্ট আহমদ ছফার ৭৯তম শুভ জন্মবার্ষিকী আজ - dainik shiksha আহমদ ছফার ৭৯তম শুভ জন্মবার্ষিকী আজ please click here to view dainikshiksha website