শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন কীভাবে সম্ভব

ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান |

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, শিখন ফল অর্জিত হয়েছে কি না, সেটি দেখার জন্য মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নের একটি পদ্ধতি হলো পরীক্ষা। অতীতে ও এখনো দেখা যাচ্ছে, যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে মূল্যায়ন করছি শিক্ষার্থীদের, তাতে যথার্থভাবে জানতে পারছি না শিক্ষার্থীর শিখন ফল অর্জন হয়েছে কি না। 

তিনি আরো বলেন, পরীক্ষার ফল ভালো, কিন্তু শিখন ফলের জায়গায় ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পাচ্ছে, কিন্তু তার নানা বিষয়ে যে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের কথা ছিলো, সেটি হচ্ছে না। তাই মূল্যায়ন (নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী) পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় পর জ্ঞানের যাচাই (পরীক্ষা) করার পাশাপাশি বছরের প্রথম দিন থেকেই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে পারবেন, যে আসলেই শিক্ষার্থী দক্ষতা অর্জন করতে পারছে কি না। এর পাশাপাশি আগের মতো কিছু পদ্ধতিও থাকবে। এটি একটি মিশ্র পদ্ধতি হতে হবে।

আমরা জানি, ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে চালু হওয়া সৃজনশীল তথা কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নের মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে এসে গত বছর ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শিখনকালীন (ধারাবাহিক) ও সামষ্টিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সামগ্রিক মূল্যায়নের ৬০ শতাংশ হবে শিখনকালীন ও  ৪০ শতাংশ সামষ্টিক পদ্ধতিতে। 

মাধ্যমিকের মূল্যায়ন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নতুন শিক্ষাক্রম বিষয়বস্তুভিত্তিক নয়, বরং যোগ্যতাভিত্তিক। এখানে শিক্ষার্থীর শিখনের উদ্দেশ্য হলো কিছু সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জন । কাজেই শিক্ষার্থী বিষয়গত জ্ঞান কতোটা মনে রাখতে পারছেন তা এখন আর মূল্যায়নে মূল বিবেচ্য নয়, বরং যোগ্যতার সবকয়টি উপাদান-জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে তিনি কতোটা পারদর্শিতা অর্জন করতে পারছেন তার ভিত্তিতেই তাকে মূল্যায়ন করা হবে। 

আরো বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনের মধ্য দিয়ে যোগ্যতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে। আর এই অভিজ্ঞতা চলাকালে শিক্ষক শিক্ষার্থীর কাজ এবং আচরণ পর্যবেক্ষণ করে মূল্যায়ন চালিয়ে যাবেন। প্রতিটি অভিজ্ঞতা শেষে পারদর্শিতার সূচক অনুযায়ী তিনি শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অর্জনের মাত্রা রেকর্ড করবেন। 

মাধ্যমিকের এই মূল্যায়ন ব্যবস্থায়, শ্রেণিভিত্তিক একক যোগ্যতা ও পারদর্শিতার ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পারদর্শিতার মাত্রা (PI) হিসেবে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্তের চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যোগ্যতার বিপরীতে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতার স্তর নির্ণয়ের জন্য অর্জিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের পিআই এর সংখ্যা থেকে অর্জিত সর্বনিম্ন পর্যায়ের পিআইয়ের সংখ্যার বিয়োগফলকে মোট পিআই দিয়ে ভাগ করে তার শতকরা হার নির্ণয় করা হয়।

সর্বোপরি, নম্বরভিত্তিক ফলাফলের পরিবর্তে এই মূল্যায়নের ফলাফল হিসেবে শিক্ষার্থীর অর্জিত যোগ্যতার (জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ) বর্ণনামূলক চিত্র পাওয়া যাবে। এখানে সংখ্যার পরিবর্তে শতাংশ হিসেবে তথা প্রারম্ভিক, বিকাশমান, অনুসন্ধানী, সক্রিয়, অগ্রগামী, অর্জনমুখী ও অনন্য নামে সাতটি পারদর্শিতার স্তর নির্দিষ্ট করা হয়েছে। 

কিন্তু মাধ্যমিকের শিক্ষাক্রম বিশেষ করে মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও শিক্ষকদের মধ্যে অস্বস্তির খবর প্রকাশিত হয়েছে। অভিভাবকরা বলেছেন, ট্রান্সক্রিপ্টে উল্লেখিত ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত ইত্যাদি সূচকের মাধ্যমে তারা তাদের সন্তানের মেধার বিকাশ কোন পর্যায়ে আছে তা বুঝতে পারছেন না। স্কুলে তারা কী পড়ছেন এবং বাসায় কী পড়াতে হবে, সেটিও তাদের বোধগম্য হচ্ছে না। তাদের মতে, শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে খারাপ করছেন, কোন বিষয়ে ভালো করছেন, তা জানার ভালো উপায় নেই। তিন বিষয়ে চতুর্ভুজ পেলে সন্তান পরের ক্লাসে উঠতে পারবে না, এটা নিয়েও তাদের উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে শিক্ষকরা বলেছেন, এখন আগের চেয়ে তাদের কাজের চাপ বেড়েছে। স্কুলে সময় দিতে হচ্ছে বেশি, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নেও সময় লাগছে। শ্রেণি-কার্যক্রমের ব্যাপারটি ঠিকমতো বুঝে উঠতে সময় লাগছে। নতুন পদ্ধতিতে ব্যবহারিক শিক্ষার পাশাপাশি তাত্ত্বিক শিক্ষার গুরুত্ব কম। এখন শিক্ষার্থীরা লিখতে গিয়ে বানান ভুল করছে। তারা আনন্দের সঙ্গে যা জানছে, তা পরবর্তীকালে মনে রাখতে পারছে না।

২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে মাধ্যমিক স্তরের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও প্রাথমিক স্তরের অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে তেমনটি ঘটেনি। এর প্রধান কারণ হলো, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন কিছুটা ধীর গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক স্তরে শুধু প্রথম শ্রেণির এবং ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে। করোনা মহামারির আগেই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক লিখিত পরীক্ষা না রাখার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে তারা বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ও ট্যুলস (এসসিবিএ) নামে একটি গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করেছে।

প্রাথমিকের মূল্যায়ন নির্দেশিকায় দেখা যায়, এখানে যোগ্যতার ব্যবহারিক সংজ্ঞা হিসেবে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ এ উল্লিখিত জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শিখনকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এই তিন উপাদানের সমন্বয় একটি গতিশীল প্রক্রিয়া হলেও রূপরেখায় বর্ণিত চার ধরনের জ্ঞান তথা বিষয়গত, আন্তবিষয়ক, প্রক্রিয়াগত ও তাত্ত্বিক জ্ঞানকে মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। দক্ষতা বলতে বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগিক ও সামাজিক, এবং শারীরিক ও ব্যবহারিক এই তিন প্রকারের দক্ষতাকে মূল্যায়নের জন্য বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এছাড়া, ওইসিডি’র লারনিং কম্পাস অনুসরণে ব্যক্তিগত, সামাজিক, স্থানীয় ও আঞ্চলিক এই চার ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধকে পরিমাপের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে ও বিদ্যালয়ে সক্রিয় শিখন চলাকালে শিক্ষক সহায়িকায় বর্ণিত নির্দিষ্ট পাঠে উল্লিখিত ছক অনুযায়ী শিক্ষক ধারাবাহিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করবেন। লক্ষ্যণীয়, প্রাথমিক স্তরে অর্জন উপযোগী যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে বিস্তৃত শিক্ষাক্রমে ৩ থেকে ৫/৬ টি শিখনফল নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া, শিক্ষাক্রম রূপরেখায় উল্লিখিত প্রতি শ্রেণির প্রতি বিষয়ে জন্য শিখনভর (ওয়েটেজ) অনুযায়ী সারা বছরের জন্য ক্লাস সংখ্যা বন্টন করা হয়েছে। সাধারনত: এক বা একাধিক শিখনফলকে বিবেচনায় নিয়ে একেকটি পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষক সহায়িকায় শ্রেণি কার্যক্রমের নির্দেশনার পাশপাশি মূল্যায়নের একেকটি ছক এখানে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

এই নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পাঠের জন্য ধারাবাহিক মূল্যায়নের ক্ষেত্র হিসেবে জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের বিপরীতে ৩ থেকে ৬টি মূল্যায়ন নির্দেশক (AI) ঠিক করা হয়। এখানে শিক্ষার্থী যোগ্যতা পুরোপুরি অর্জন করলে ২, আংশিক অর্জন করলে ১ এবং কোনোকিছু অর্জন না করলে তাকে ০ মান দেয়া হয়। এখানে প্রতি পাঠে তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক ছাড়াও প্রতি মাসে কয়েকটি নিরাময়মূলক ক্লাসের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাথমিকের ধারাবাহিক মূল্যায়নের ফলাফল হিসেবে প্রতিটি পাঠ থেকে প্রাপ্ত শিখনফলের বিপরীতে প্রাপ্ত মান যোগ করে বর্ণনামূলকভাবে চারটি স্কেল অর্থাৎ সহায়তা প্রয়োজন (০-৩৯), সন্তোষজনক (৪০-৫৯), ভালো (৬০-৭৯) ও উত্তম (৮০-১০০) এইভাবে প্রকাশ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৪০ শতাংশ নম্বরে সামষ্টিক মূল্যায়নের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা যাচাই করার জন্য বেঞ্জামিন এস ব্লুমের টেক্সনমি অনুসরণ করে ট্রেন্ডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিকস এন্ড সাইন্স স্টাডি (TIMSS) ও প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (PISA) এর আদলে বৈচিত্রময় প্রশ্ন কাঠামো প্রস্তুত করতে অগ্রসর হচ্ছেন। ভবিষ্যতে তারা কম্পিউটারাইজড অ্যাডাপ্টিভ টেস্ট আইটেম (CAT) প্রণয়ন করতেও আগ্রহী।                  

অভিভাবকদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, প্রথমত: প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ট্রান্সক্রিপ্টে প্রতি পাঠের শিখনফলের মান (২/১/০) যোগ করে একটি যোগ্যতার সংখ্যাগত পরিমাপ করা যায়। এখানে  শিক্ষক ধারাবাহিক মূল্যায়ন ছক দেখে ওই পাঠে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা কিংবা দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের শিখন দুর্বলতা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে রেকর্ড করতে পারেন। ফলে তিনি শিক্ষার্থীকে একজন চিকিৎসকের মতো ডায়াগনস্টিক ফিডব্যাক দিতে পারেন। প্রতি পাঠের ডিজিটাল রেকর্ড থাকার কারণে প্রান্তিক শেষে ট্রান্সক্রিপ্টে শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতির বিস্তারিত চিত্র যেমন পাওয়া যায়, তেমনি অভিভাবক ও একাডেমিক সুপারভাইজারের কাছে শিক্ষকের স্বচ্ছ্তা ও জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মাধ্যমিকের মূল্যায়নে এরূপ ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হলে প্রথমেই একক যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে প্রয়োজনীয় শিখনফল নির্ধারণ করে সেসবের ভিত্তিতে পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।    

দ্বিতীয়ত: প্রাথমিক স্তরে যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে শিখনফল ও শিখনভর অনুযায়ী পাঠ বিন্যস্ত থাকায় মূল্যায়নের জন্য সহজেই সমস্যা সমাধান ও চিন্তন দক্ষতা পরিমাপের উদ্দেশ্য কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন প্রস্তুত করা যায়। ফলে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় জ্ঞান তথা ধারণা, সূত্র, তত্ত্ব ইত্যাদি জানার গভীরতা ও প্রয়োগ কলাকৌশলের মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। মাধ্যমিক স্তরে সুনির্দিষ্ট শিখনফল সংযুক্ত না করলে এবং আবশ্যকীয় বিষয়জ্ঞানকে মূল্যায়নযোগ্য মনে না করলে অভিভাবকদের চাহিদা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা দুরূহ হবে বলে প্রতীয়মান হয়। 

তৃতীয়ত: প্রাথমিকের মূল্যায়নের ছকটি আমেরিকার সেন্টার ফর কারিকুলাম রিডিজাইন (CCR)এর ছকের অনুসরণে তৈরি করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি পাঠে সক্রিয় শিখন কার্যক্রমের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১-এ বর্ণিত যোগ্যতার তিনটি ডাইমেনশনকে মূল্যায়ন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আর মূল্যায়ন নির্দেশকসমূহকে টেলিগ্রাফিক ভাষার মতো যথাসম্ভব সংক্ষিপ্তভাবে লেখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির শিক্ষক সহায়িকায় মূল্যায়ন নির্দেশকসমূহ তৈরিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিক্ষা বিষয়ক প্রধান প্রফেসর ক্রিস কামিনসের পরামর্শ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিকের পারদর্শিতার নির্দেশকসমূহের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং পারদর্শিতার মাত্রায় সংখ্যার পরিবর্তে অনেকগুলো বাক্য যুক্ত করায় শিক্ষকের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যায়ন নির্দেশনা অনুসরণ করা কঠিন বলে প্রতীয়মান হয়। 

চতুর্থত: প্রাথমিকের মূল্যায়ন নির্দেশনায় শিক্ষার্থীর ৮টি ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুনাবলি, তথা- সময়নিষ্ঠতা, শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, আচার-আচরণ, দলীয় কাজে অংশগ্রহণ, কাবিং কার্যক্রম এবং বিশেষ পারদর্শিতার বিষয়ে প্রতি প্রান্তিকের রিপোর্ট কার্ডে সহায়তা প্রয়োজন, সন্তোষজনক, ভালো ও উত্তম-এই চার মাত্রায় শিক্ষককে মন্তব্যের কলামে টিক চিহ্ন দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, মাধ্যমিকের ১০টি আচরণিক নির্দেশকের জন্য যে ছক দেয়া হয়েছে তা বহু বাক্যসমৃদ্ধ হওয়ায় শিক্ষকের পক্ষে বারবার পড়ে পূরণ করা সময়সাপেক্ষ হবে বলে প্রতীয়মান হয়। 

কাজেই শিক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, ‘পরীক্ষার ফল ভালো, কিন্তু শিখনফলে ঘাটতি’ দূর করে শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনে ধারাবাহিক/শিখনকালীন ও সামষ্টিক এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে মাধ্যমিক স্তরে একটি কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রাথমিক স্তরের গবেষণালব্ধ মূল্যায়ন কাঠামোটি বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে।

লেখক: সাবেক সদস্য, প্রাথমিক শিক্ষাক্রম, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড

শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।


পাঠকের মন্তব্য দেখুন
ভালো শিক্ষার্থী হলেই হবে না, আদর্শবান মানুষ হতে হবে: ভূমিমন্ত্রী - dainik shiksha ভালো শিক্ষার্থী হলেই হবে না, আদর্শবান মানুষ হতে হবে: ভূমিমন্ত্রী পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: ঢাবি ভিসি - dainik shiksha পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: ঢাবি ভিসি দুই শতাধিক মাদরাসাছাত্রের শিক্ষা উপকরণ পুড়ে ছাই - dainik shiksha দুই শতাধিক মাদরাসাছাত্রের শিক্ষা উপকরণ পুড়ে ছাই অকর্ম প্রজন্ম গড়ে ক্লান্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবার পরিত্যক্ত হচ্ছে - dainik shiksha অকর্ম প্রজন্ম গড়ে ক্লান্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবার পরিত্যক্ত হচ্ছে কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে - dainik shiksha কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0046789646148682