সমুদ্রে নিমজ্জিত শিক্ষকদের বর্ধিত ঈদ বোনাস - মতামত - দৈনিকশিক্ষা


সমুদ্রে নিমজ্জিত শিক্ষকদের বর্ধিত ঈদ বোনাস

মো. সিদ্দিকুর রহমান |

সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন ঈদ বোনাস পূর্বের বেতনের সাথে যোগ করে উত্তোলন না করলে, বর্ধিত বোনাস পরবর্তীতে বকেয়া দাবি করা যায় না। বর্ধিত বেতন বা পুরো বোনাসের টাকা বকেয়া দাবি করা যায়। এ নিয়ম বোনাসের জন্মলগ্ন থেকে হয়ে আসছে। বোনাসের বাড়তি  প্রাপ্য অর্থ থেকে সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করা অমানবিক ও তাদের অধিকারের পরিপন্থি। বঞ্চিত করে প্রাপ্য অর্থ না দেয়া অনেকটা সমুদ্রে নিমজ্জিত করার মত।

আরও পড়ুন : দৈনিক শিক্ষাডটকম পরিবারের প্রিন্ট পত্রিকা ‘দৈনিক আমাদের বার্তা’

আমাদের সমাজে কতিপয় ধনবান ব্যক্তির বাসায় কাজের লোকদের বাসি খাবার খাওয়ানো হয়ে থাকে। প্রাথমিকে বেশির ভাগ পাওনা সময়ক্ষেপণ করে অনেকটা বাসি করে দেয়া হয়। সাবেক গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন অবসরে যাওয়ার সময় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডে বেতন স্কেলে উন্নীত করার আদেশ জারি করে দিয়ে যান। দীর্ঘ প্রায় বছর পার হতে চললো সে বর্ধিত বেতনস্কেল প্রায় শতকরা ৯৮ ভাগ উপজেলা শিক্ষকেরা আজও পায়নি। কতিপয় শিক্ষাক নেতা এই আদেশ নিয়ে বাণিজ্যও করেছেন বলে শুনেছি। করোনার ২য় ঢেউ চলাকালে প্রাথমিকের ডিজি ১০ মে’র মধ্যে বেতন নির্ধারণ করে বেতন ভাতা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেছেন। এর মাঝেই নিমজ্জিত হয়ে গেছে প্রাথমিকের সহকারীদের নববর্ষ ভাতা ও ঈদ উৎসব বোনাসের বর্ধিত অর্থ।
 
মন্ত্রী, সচিব, ডিজি একই সুরে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি প্রায় ১ যুগ থেকে আশ্বাস দিয়ে আসছেন। আজও পদোন্নতিবিহীন ভাবে সহকারী শিক্ষকেরা অবসরে বা পরকালে চলে যাচ্ছেন। সব কিছু সময়ক্ষেপণ হলেও ঢাকা শহরে বদলির হিড়িক বন্ধ থাকেনি কোনভাবেই। এতে ক্ষুন্ন হয়েছে শিক্ষকদের সন্তানদের পোষ্যের কোটা ও পদোন্নতি। চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার দীর্ঘ ৫ বছর পরও আজ তারা পদোন্নতিবিহীনভাবে অবসরে বা দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বিস্ময়ের সাথে বলতে কষ্ট হচ্ছে, চোখের সামনে সময়ক্ষেপণ না করে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা পদোন্নতি পেয়ে যাচ্ছেন।

দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন

ক্ষোভ মিশ্রিত মনে আজ ভেসে আসছে- জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী মমতাজের গানের লাইনগুলো- 
‘ফাইট্টা যায় বুকটা ফাইট্টা যায়
বন্ধু যখন বউ লইয়া আমার বাড়ীর সামনে দিয়া
রঙ্গ কইরা হাইট্টা যায়, ফাইট্টা যায়
বুকটা ফাইট্টা যায়’

প্রাথমিকের সবাই পদোন্নতি পাবে, শুধু পাবে না শিক্ষকেরা। এ দুঃসহ বেদনা শুধু প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একজন সাবেক কর্মী হিসেবে হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেল দেয়ার ঘোষণা দিয়ে জিও জারির পরও দীর্ঘ ৩-৪ বছর পর পেল প্রাথমিক শিক্ষকেরা বর্ধিত স্কেল। এ সময়ক্ষেপণে হারিয়ে গেছে তাদের বর্ধিত বোনাস। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ করলেও প্রাথমিক শিক্ষকদের সে বেতন নির্ধারণ হয়েছে নিম্নধাপে। পরবর্তীতে ১৩তম গ্রেডে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আদেশের আলোকে প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চ ধাপে বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকের অসংখ্য সংগঠন। বিশেষ করে ১৩তম গ্রেড সহকারীদের জন্য। আমার মনে হয় সংগঠনগুলো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা জানতে মাঝে মাঝে প্রাথমিকের নেতাদের সাথে আলাপ করতে হয়। আলাপের শুরুতে তাদের অনেকে ডিজি, সচিব, মন্ত্রীর সাথে সখ্যতার বর্ণনা দেন। সংশ্লিষ্টদের সাথে কে কত বেশি প্রিয় এ বক্তব্যই তাদের মাঝে মুখ্য। তেলের ব্যবহার চলছে সারা দেশে ব্যাপকভাবে। 

একজন প্রাথমিক শিক্ষকের কাজ জলো পাঠদানে তেল মেরে পাঠদানকে শিক্ষার্থীর কাছে গ্রহণযোগ্য করা। ফেসবুক খুললেই ১৩তম গ্রেডের জন্য মন্ত্রী, সচিব, ডিজিসহ সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানিয়ে লেখা দৃশ্যমান হয়। ১৩তম স্কেলে বেতন নির্ধারণে সময়ক্ষেপণ করে প্রত্যেক সহকারী শিক্ষকের বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস প্রাপ্তির বিষয়ে নিরবতা প্রাথমিক শিক্ষক নেতাদের। এ পেক্ষাপটে তাদের দালাল হিসাবে চিহ্নিত করতে আর কি কিছু বাকি রইল ?
 
প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনগুলোকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শিক্ষকদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে নেতদের ভালভাবে জানতে হবে। শিক্ষকদের প্রাপ্য অধিকার সাগরের অতলে নিমজ্জিত হচ্ছে। এ দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখা নিছক দালালদের কর্ম। শিক্ষকদের মাথার ছাতার মতো অবস্থান না করে স্বীয় স্বার্থে তেল দেয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী। অধিকার আদায়ে বহু ত্যাগ, জেল, জুলুম, অত্যাচার, নিপীড়ন সহ্য করেছেন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। 

শিক্ষক নেতাদের বলবো, তেলের নেতা না হয়ে ঘুষ, দুর্নীতির মোহ ত্যাগ করে সততার সাথে শিক্ষকদের সেবক হোন। তাদের দোয়ায় আপনাদের সফলতা আসবে। আজকের দিনে প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের জন্য অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ শক্তি। ঐক্যবদ্ধ দালালি মোটেই কাম্য নয়। 

প্রাথমিক শিক্ষায় বঙ্গবন্ধু ও তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে, প্রাথমিক শিক্ষকদের অধিকার বঞ্চনার পরও ‘জ্বী জ্বী’ শব্দ মোটেই কাম্য নয়। গর্জে উঠুক ৮১ এর মতো প্রাথমিক শিক্ষকদের ঐক্যবন্ধ শক্তি। তেল মারার অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুবাতাস বয়ে চলুক। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী চেতনা সকলের অন্তরে জাগ্রত হোক। এ প্রত্যাশায়। 

লেখক : মো. সিদ্দিকুর রহমান, সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ; সম্পাদকীয় উপদেষ্টা, দৈনিক শিক্ষাডটকম।


পাঠকের মন্তব্য দেখুন
এমপিওভুক্তি নিয়ে সংসদে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha এমপিওভুক্তি নিয়ে সংসদে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ - dainik shiksha ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ দূরশিক্ষণে টিভি চ্যানেল চালুর চিন্তা - dainik shiksha দূরশিক্ষণে টিভি চ্যানেল চালুর চিন্তা শতভাগ উৎসব ভাতা-বাড়িভাড়াসহ শিক্ষকদের ছয় দাবি - dainik shiksha শতভাগ উৎসব ভাতা-বাড়িভাড়াসহ শিক্ষকদের ছয় দাবি করোনার মধ্যেই পাকিস্তানে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা - dainik shiksha করোনার মধ্যেই পাকিস্তানে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে - dainik shiksha দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে শিক্ষক নিয়োগ : আরও ৭টি আপিল করেছে এনটিআরসিএ - dainik shiksha শিক্ষক নিয়োগ : আরও ৭টি আপিল করেছে এনটিআরসিএ হল-ক্যাম্পাস খোলা ও শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha হল-ক্যাম্পাস খোলা ও শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ - dainik shiksha এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ please click here to view dainikshiksha website