সিয়েরা লিয়নের শিক্ষার হাল, যেমন দেখলাম - শিক্ষাবিদের কলাম - দৈনিকশিক্ষা


সিয়েরা লিয়নের শিক্ষার হাল, যেমন দেখলাম

মাছুম বিল্লাহ |

ঘুরে এলাম পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিয়ন। আটলান্টিক মহাসাগরের  তীর ঘেঁষে দাড়িঁয়ে আছে  পাহাড় পর্বত সমৃদ্ধ দুই ঋতুর  দেশ সিয়েরা লিয়ন।দশবছর ব্যাপী গৃহযুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত দেশটি। নিজেদের ডায়মন্ড ও স্বর্ণের খণি থাকতেও ভোগ করতে পারছেনা দেশটির জনগন । বিদেশী কোম্পানী খনিজ  সম্পদ তুলে নিয়ে যাচেছ। আর এই মূল্যবান খনিজ সম্পদের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে  নিজেরা নিজেদের  মধ্যে দশবছরব্যাপাী ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে জড়িয়েছিল।  আমার ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল সিয়েরা লিয়নের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচচশিক্ষা সম্পর্কে জানা এবং সর্বোপরি  তাদের শিক্ষাব্যবস্থা  সম্পর্কে অবহিত হওয়া। আমার সফর ছিল একমাসের।

সিয়েরা লিয়নের শিক্ষব্যবস্থা পাঁচ স্তরে বিন্যস্ত। এখানকার প্রাথমিক শিক্ষা দুটি স্তরে বিভক্ত। জুনিয়র প্রাইমারী তিন বছর মেয়াদী এবং শ্রেণিগুলো হচেছ প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণি। এর পর হচেছ আপার প্রাইমারী চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ শ্রেণি।আপার প্রাইমারীর পরে হচেছ জুনিয়র মাধ্যমিক বা  নিম্নমাধ্যমিক সপ্তম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত। দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি হচেছ আপার সেকেন্ডারী। বতমান শিক্ষনীতিতে এটি চার বছর করার কথা বলা হচেছ, তবে পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দিচেছ অনেকে। উচচ শিক্ষা সাধারনত চার বছরের, মেডিকেল ছয় এবং ইঞ্জিনিয়ারিং হচেছ পাঁচ বছরের। দেশটিতে মোট চৌদ্দটি জেলা আছে, তার তিনটি জেলার বেশ কিছু  বিদ্যালয় দেখার সুযোগ হয়েছে। কথা হয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে।এছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে ২৪ টি বিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষকের সাথে ওয়ার্কশপ করেছি যেখান থেকে তাদের শিক্ষাব্যবস্থার অনেক কিছুই বেরিয়ে এসেছে ।

রাজধানী শহরের নিকটবর্তী জেলাসহ  দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলার স্কুলসমূহ ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো বিষয়টি হচেছ এখানে  শিক্ষার্থীর নিকট বই নেই। এখানে বই অত্যন্ত  মূল্যবান, বিদেশী কোম্পানী কর্তৃক অপসেট পেপারে মুদ্রিত বই বলে এর দাম বেশী। যে কোন বিষয়ের বইয়ের মানও ভাল এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ।শিক্ষার্থীরা বই কিনতে পারেনা বলে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে বই নেই,  শ্রেণিকক্ষে ক্লাসের সময় বই নিয়ে আসা হয় দুই থেকে তিনটি। শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্রুপে সেগুলো ভাগ করে দেয়া হয়। সরকার থেকে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য বই বিতরণ করা সম্ভব হয়না। তবে সিটির আশে পাশের স্কুলগুলোতে  কিছু বেশি সংখ্যক বই দেয়া হয়। শিক্ষকগন শিক্ষার্থীদের গ্রুপে বসিয়ে বই গ্রুপে বিতরণ করেন , ক্লাস শেষে বই গুলো তুলে আবার প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষের রুমে নিয়ে রাখা হয়। শিক্ষার্থীরা বই বাড়ীতে নিতে পারেনা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকগন বলেছেন শিক্ষার্থীদের নিকট বই না থাকা অবস্থায় ক্লাস পরিচালনা করা  তাদের জন্য বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলের শিক্ষকদেরই  বই নেই, শিক্ষার্থীদের তো দুরের কথা। আমরা দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার সময় কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি , পরীক্ষার হলে গিয়েছি। সেখানেও অবাক হওয়ার বিষয়। ছাপানো কোন প্রশ্নপত্র তাদের দেয়া হচেছনা, কারন স্কুলগুলো প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে পরীক্ষা নিতে অর্থনৈতিকভাবে অপারগ, তাই এই ব্যবস্থা। প্রশ্নগুলো বোর্ডে লিখে দেয়া হচেছ । একটি বোর্ডে কয়টিই বা প্রশ্ন লেখা যায়? । এভাবে একটি পরীক্ষা দুই ভাগে নেয়া হয় কারন একদিনে সব প্রশ্ন বোর্ডে লিখে দেওয়া সম্ভব হয়না তাই।

আমাদের দেশের অনেক শিক্ষাবিদ কিংবা শিক্ষা প্রশাসকদের উন্নত বিশ্বে পাঠানো হয়। অথচ উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষের অবস্থা, আর্থ সামাজিক অবস্থা কোনটির  সাথেই আমাদের কোন মিল নেই। সেখান থেকে এসে কি অনুসরন বা চালু করার আছে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে? অথচ এসব দরিদ্র দেশে দু একবার গেলে দেখা যায় এখানকার শিক্ষকগন কিভাবে বৈরি পরিবেশে শিক্ষাদান করছেন। কিভাবে পাঠ্যপুস্তক ছাড়া ক্লাস নিচেছন, কিভাবে বিনা বেতনে  কিংবা সামান্য বেতনে শিক্ষকতার চাকরি করছেন । শিক্ষকদেরকে অনেক কষ্ট করে লার্ণিং ম্যটেরিয়ালস তৈরি করতে হয় ক্লাস পরিচালনা করার জন্য, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ধরে রাখার জন্য। 

এখানকার শিক্ষার্থীরা বই বাসায় নিয়ে যায় না। বাসায় বই না নিয়ে যাওয়ার ভাল মন্দ উভয় দিকই রয়েছে। প্রথমত, কোমলমতি ছেলেমেয়েরা প্রায় প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশেই বইয়ের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ধরনের বই , হোমওয়ার্ক, ক্লাসওয়ার্ক তাদের জীবনকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে। পড়াশুনা করা এবং বিদ্যালয়ে যাওয়া এক ধরনের আনন্দ , সেই আনন্দ থেকে তারা বঞ্চিত। এখানে সেটি হওয়ার সুযোগ নেই।.দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ক্রিয়েটিভ হওয়ার সুযোগ কম থাকে যখন তাদের কাছে প্রচুর বইয়ের বোঝা থাকে। তারা নিজেেেদর সৃজনশীলতা প্রকাশ করার সুযোগ পায় খুব কম। এখানে বাসায় যেহেতু বই নিতে পারেনা, প্রজেক্টওয়ার্কগুলো শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই করতে হয়, তাই শিক্ষার্থীদের ক্রিয়েটিভ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে, বিভিন্ন লেখকের আকর্ষণীয় বই শিক্ষার্থীদের হাতে থাকলে তারা ঐসব লেখকদের চিন্তার সাথে একাত্ম হতে পারে , তাদের নিজস্ব চিন্তাধারার সাথে লেখকদের চিন্তা ধারার সংযোগ ঘটাতে পারে। ফলে, তাদের চিন্তাও উন্নত হয়। এটি থেকে এখানকার শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত। রাজধানী শহর ফ্রিটাউনে অবশ্য বিদেশী এবং দেশী এলিটদের জন্য ব্যয়বহুল ও উন্নতমানের কিছু বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু সিটির বাইরের বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা করুণ। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়েছি, বিভিন্ন ক্লাসে গিয়েছি। রাজধানীর নিকটেও একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দু:খ করে বললেন,” স্যার এই যে আমার বাচ্চারা ক্লাস করছে, আর এক পিরিয়ড পরেই ওদের লেইজার হবে কিন্তু অধিকাংশই কিছু খেতে পারবে না, খাবার সামর্থ্য নেই। ক্লাসের পরে বাসায় গিয়েও অনেকে কিছু খেতে পারবেনা।’

যেহেতু শিক্ষার্থীদের নিকট বই নেই তাই শিক্ষকদের প্রচুর খাটাখাটনি করতে হয়। সবকিছু তাদেরকেই করতে হয়। অথচ সকল শিক্ষক আবার সরকারী বেতন কিংবা অনুদান পান না। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেখলাম একটি স্কুলে মাত্র অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ সরকারী বেতন পাচেছন, বাকী শিক্ষকগন সরকার থেকে কোন বেতন ভাতা পান না। তারা বিদ্যালয় থেকে লামসাম কিছু একটা পান। সেটি নিতান্তই নগন্য। তারা স্কুলের সাথে বছরের পর বছর  লেগে থাকেন যদি কোনদিন সরকারী খাতায় নাম লেখাতে পারেন সেই আশায়। আবার অনেক শিক্ষক শিক্ষকতার পাশাপাশি ছোটখাট ব্যবসা করেন সংসারের চাহিদা মেটানোর জন্য। কেউ হয়তো মাছ ভাজি করে মাথায় নিয়ে বিক্রি করেন। এখানে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায় প্রচুর।

তবে একটি বিষয় ভাল লেগেছে সেটি হচেছ সরকারী বেতনুভুক্ত  শিক্ষকদের তিন বছরের প্রশিক্ষণ নিতে হয়  যেটি আমাদের দেশে দশ মাসের। ওয়াটারলু নামক একটি ডিস্টিক্টের কয়েকটি স্কুলে গিয়ে আপার প্রাইমারী কøাসের  ক্লাস দেখলাম। একটি স্কুলের ষ্ষ্ঠ শ্রেণিতে  গিয়ে দেখলাম ক্লাসটি পাঁচটি গ্রুপে বিভক্ত। শিক্ষিকা বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করাচেছন, তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছেন, কোন গ্রুপ আগে উত্তর দিতে পারে সেজন্য তাদের উদ্ধুদ্ধ করছেন, উত্তর সঠিক কিনা গ্রুপে আবার যাচাই করতে দিয়েছেন, কেন সঠিক বা সঠিক নয় তা ব্যাখ্যা করতে বলছেন, শিক্ষার্থীদের বোর্ডে ডাকছেন। ক্লাসশেষে জিজ্ঞেস করলাম তার কোন প্রশিক্ষণ আছে কিনা, উত্তরে বললেন তিন বছরের শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ’ টিচার্স কলেজ’  থেকে আমাদের দেশে যেটিকে আমরা  শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় বলে থাকি। 

শুধু পাঠ্যপুস্তকই নয়, সব ধরনের শিক্ষা উপকরণের দাম এখানে প্রচুর, যার ফলে শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীদের মতো প্রচুর লেখার প্রাকটিস করতে পারেনা, এখানকার অধিকাংশ প্রাকটিসই মৌখিকভাবে করা হয়ে থাকে।গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি কিংবা অন্য যে কোন বিষয়ের ক্লাস অধিকাংশই মৌখিকভাবেই হয়ে থাকে। তাতে একটি লাভ হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই ইংরেজিতে কথা বলা শিখছে। এখানকার অফিসিয়াল ভাষা যদিও ইংরেজি, সাধারন মানুষ বিশেষ করে যারা কখনও বিদ্যালয়ে যায়নি তারা ইংরেজি বলতে পারেনা। তবে যারা মোটামুটি মাধ্যমিক স্তর পার করে এসেছে তারা প্রায় ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। এখানকার শিক্ষার্থীর অধিকাংশই বাসায় ইংরেজি বলার সুযোগ পায়না, ক্লাসেই বেশীরভাগ সময় শিক্ষকগন ইংরেজি বলার কারণে এবং ক্লাসের বেশীর ভাগ কার্যাবলী মৌখিক হওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীরা অনর্গল ইংরেজি বলতে পারে।লেখায় আবার তারা পিছিয়ে আছে। এখানকার লোকাল ভাষা ’ক্রিয়ো’ এবং ’ তামনি’। ক্রিয়ো ভাষা হচেছ ইংরেজি ও আফ্রিকান ভাষার মিশ্রন। ব্রিটিশদের কলোনী থাকার কারনে সিয়েরা লিয়নীদের ওপর ইংরেজি ভাষার দৌরাত্ম থেকেই গেছে। ইংরেজি বলার দক্ষতার পাশাপাশি আর একটি বিষয় দেখলাম প্রায় সব শিক্ষার্থীরাই সংস্কৃতিমনা, নাচগান তাদের খুব প্রিয়। এগুলো তারা বিদ্যালয়েই করে থাকে। 

সিয়েরা লিয়নে আর একটি বিষয় খুব ভাল লেগেছে আর সেটি হচেছ রাস্তায় পথচারীদের সম্মান করা । কোন পথচারী যদি রাস্তা পারাপার হওয়ার জন্য উদ্যত হয়, ড্রাইভার গাড়ী আস্তে থামিয়ে  পথচারীকে হাত দিয়ে ইশারা করে রাস্তা পার হতে বলেন। এটি ব্রিটিশের নিয়ম। ব্রিটিশরা এখানে রাজত্ব করে গেছে আর রেখে গেছে ভাল-মন্দ অনেক কিছু। দেশটিতে দারিদ্রের কারণে দুর্নীতি পথে-ঘাটে। আর তাই, রাস্তায় চলতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী  একটু পর পর গাড়ী থামিয়ে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করে। কিন্তু আনন্দের বিষয় হচেছ বাংলাদেশীদের গাড়ী দেখলে, বাংলাদেশীদের দেখলে ওরা খুব সম্মান করে। তার দুটি কারন। একটি হচেছ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেখানে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। আর তাই তারা বাংলা ভাষাকে তাদের জাতীয় ভাষা হিসেবে মর্যাদা গিয়েছে। তারা কেউ কেউ বাংলা বলতে পারে।

দ্বিতীয় কারণ হচেছ ব্র্যাক সেখানে  শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে বিধায় বহু লোকের চাকরি হয়েছে। ব্র্যাক এই ছোট দেশটিতে ২৫০টি বিদ্যালয়ে তৈরি করে দিয়েছে। তাই, আমাদের গাড়ী দেখলেই বলতো ’ গো ব্রাদার গো।’ বিমান বন্দর থেকে নামার সাথে সাথে দুর্নীতির চিত্র চোখে পড়ে। এয়ারপোর্টের ভেতর কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিদেশীরা গেলেই অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বিভিন্নভাবে। এয়ারপোর্ট থেকে বের হলে দালালের দল দাঁড়িয়ে থাকে  বিদেশীদের বিভিন্নভাবে ধোকা দেয়ার জন্য। শিক্ষা কর্মকর্তা, পুলিশ সবাই ঘুষ নেয়ার জন্য তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার অফিসে গিয়ে। এয়ারপোর্ট থেকে নেমে স্পীডবোটে আটলান্টিক মহাসাগরের চ্যানেল পাড়ি দিয়ে রাজধানী ফ্রিটাইনে ঁেপৗছাতে হয়।রাজধানীতে পৌঁছার আর একটি সড়ক পথ আছে কিন্তু সেটি অনেক ঘুরে আসতে হয়। বর্তমানে ফ্রিটাইনের নিকটেই এয়ারপোর্ট তৈরি হচেছ। দেশটিতে দেখলাম মূল রাস্তা একটি---মহাসড়ক। সেটি করে দিয়েছে চীন। চীনার টেকনিসিয়ান ও ইঞ্জিনিয়ারগন সেখানে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করছেন। 

মাটির নীচে প্রচুর খনিজ সম্পদ রয়েছে --- তেল, ডায়মন্ড, স্বর্ণ অথচ দারিদ্রের চরম সীমায় বাস করছে এখানকার অধিকাংশ মানুষ। এখানে মধ্যম শ্রেণি বলতে নেই। উচচ শ্রেণী যারা গ্রেট ব্রিটেন আমেরিকায় চাকরি করে। তারা দেশেও ধনী। বহু অর্থের মালিক, বড় বড় বিল্ডিংয়ের মালিক, আর একটি শ্রেণি প্রায় নি:স্ব। এখানকার রাজনীতিকেরাও অত্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ। তাদের দেশপ্রেম বলতে কিছু নেই। শুনেছি তারা ব্রিটিশদের কাছে সবকিছু বন্ধক দিয়েছে নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের সুবিধার জন্য আর সাধারন মানুষ রয়ে গেছে বঞ্চিত। এসব দেশ দেখলে মনে হয় বাংলাদেশের হাজারো সমস্যা থাকলেও আমরা অনেক ভাল আছি। তবে, আমেরিকা ও কানাডায় গেলে আবার দু:খ হয়। 


লেখক : মাছুম বিল্লাহ, ব্রাকের শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত। 


পাঠকের মন্তব্য দেখুন
এমপিওভুক্তি নিয়ে সংসদে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha এমপিওভুক্তি নিয়ে সংসদে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ - dainik shiksha ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ দূরশিক্ষণে টিভি চ্যানেল চালুর চিন্তা - dainik shiksha দূরশিক্ষণে টিভি চ্যানেল চালুর চিন্তা শতভাগ উৎসব ভাতা-বাড়িভাড়াসহ শিক্ষকদের ছয় দাবি - dainik shiksha শতভাগ উৎসব ভাতা-বাড়িভাড়াসহ শিক্ষকদের ছয় দাবি করোনার মধ্যেই পাকিস্তানে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা - dainik shiksha করোনার মধ্যেই পাকিস্তানে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে - dainik shiksha দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে শিক্ষক নিয়োগ : আরও ৭টি আপিল করেছে এনটিআরসিএ - dainik shiksha শিক্ষক নিয়োগ : আরও ৭টি আপিল করেছে এনটিআরসিএ হল-ক্যাম্পাস খোলা ও শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha হল-ক্যাম্পাস খোলা ও শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ - dainik shiksha এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ please click here to view dainikshiksha website