স্বাধীনতার ৫০ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা - মতামত - দৈনিকশিক্ষা


স্বাধীনতার ৫০ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা

মো. সিদ্দিকুর রহমান |

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ায় জাতি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে। আজ তারা স্বাধীনতার পরবর্তী এ দীর্ঘ সময় নিয়ে ভাবছে। প্রত্যাশার কতটা তারা পেয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে খুব বেশি করে শিক্ষার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে ভাবনা মনের মাঝে ভেসে বেড়াচ্ছে। এ নিয়ে আজকের লেখার অবতারণা। জাতি হিসেবে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত। পাশাপাশি আমরা হারিয়েছি ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে নির্মম হত্যাকান্ডে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে বিদেশে অবস্থান করার প্রাণে বেঁচে গেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। শোকে আচ্ছন্ন বাঙালি জাতি সে সময় আশার আলো নিয়ে অপেক্ষা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর ২ রতের জন্য। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে ৩০ লক্ষ  শহিদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে আমাদের অর্জন এর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে ধ্বংসস্তুপের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিল আমাদের এই মাতৃভূমি। পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল। চারিদিকে শুধু ছাই আর ছাই।

সে সময় যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল বিধ্বস্ত। অভাব ও নিদারুন সংকটে নিমজ্জিত ছিল জনজীবন। এর মাঝে বঙ্গবন্ধু এদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পাক হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদর, আল শামস, লুকিয়ে থেকে, বঙ্গবন্ধু ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রায় প্রতিদিন পাটের ও খাদ্যের গুদামে আগুন ও লুটতরাজ অব্যাহত রাখে। মুক্তিবাহিনী অস্ত্র জমা দিলেও পাক হানাদার বাহিনীর অনুচরদের নিকট অস্ত্র লুকানো মাঝে ভয়াবহ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সরকারের পথ চলা। অসংখ্য ন্যায্যমূল্যের দোকান ও রিলিফের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ১৯৭৪-্এর পর দেশের সার্বিক অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের কালো রাত্রির জঘন্য হত্যাকান্ডের ফলে দেশের উন্নতির অগ্রযাত্রা থমকে দাঁড়ায়। তৃণমূলের খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিল। শিক্ষকেরা ছিল তাঁর হৃদয়ের মনিকোঠায়। অসহায় মানুষের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে না পারলে সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না এই গভীর উপলব্ধিবোধ তাঁর মাঝে ছিল। 

তাই তিনি নিদারুণ আর্থিক সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেছিলেন। এর ফলে ৩৭ হাজার বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা পান। স্বাধীনতার সূচনালগ্নে যেখানে বঙ্গবন্ধুর সামনে সংকট নিরসন করা বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিশাল অংকের অর্থের যোগান দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের ভরনপোষণ করা এক বিশাল দুঃসাহসী পদক্ষেপ। এ সম্ভব হয়েছে বিশাল হৃদয়ের ব্যক্তিত্বের পক্ষে। যে হৃদয়ের সমকক্ষ পৃথিবীতে আর কারো জন্ম আজও দৃশ্যমান নয়। বঙ্গন্ধুর ভালবাসার ধন এ দেশের তৃণমূলের জনগণ ও তাদের শিক্ষকদের ওপর ঘোর অমানিসা নেমে আসে ৭৫ সরকার পরিবর্তনের পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের ১ম ঘৃণ্য ছোবল আসে বঙ্গবন্ধুর সরকারিকরণ নীতির ওপর। দুইটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরী প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা পৌরসভা ও সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রাম সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

সে সময় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গড়ে তুলেছিল এক ঐতিহাসিক আন্দোলন। মুক্তিযুদ্ধ  ছাড়া এত বড় আন্দোলন কোন পেশাজীবীরা আজ পর্যন্ত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি। তখনকার দিনে ঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষকেরা পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য নিয়ে ৩ লক্ষের অধিক জনতা নিয়ে ঢাকা শহর অবরোধ করেন। সকল রাজনৈতিক দল প্রাথমিক শিক্ষকের দাবির সাথে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত একাত্ব হয়ে আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। অবশেষে সামরিক সরকারের ১ম পরাজয় প্রাথমিক শিক্ষকদের কঠোর আন্দোলনের ফলে সম্ভব হয়েছিল। তখন থেকে বিএনপি সরকারের এর শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ ইউনুস খানের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠে আ: আউয়াল  তালুকদারের নেতৃত্বে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে আরেকটি সংগঠন। আজ অসংখ্য সংগঠনের মাঝে ভেসে বেড়াচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষকেরা। বঙ্গবন্ধুর আমলে প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য রেডক্রস থেকে টিন ও আর্থিক সহযোগীতা পেত।

শিক্ষার্থীরা দুধ, চাতুু, খাতা, পেন্সিল ও জামা কাপড় পেত। শিক্ষকেরা পেয়েছিল অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলের নায্যমুল্যের সার্টের কাপড়। ৭৫ এর সরকার পরিবর্তনের পর এ প্রাপ্তি বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট এরশাদ সরকারের সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা আবার নতুনভাবে নিঃশ্বাস নিতে শুরু করেন। সকল সরকারি কর্মচারীর মত প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩টা টাইম স্কেল, ২ ঈদে অগ্রিমের পরিবর্তে ২টি পূর্ন বোনাস, ৩ বছর পর পর শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, প্রাথমিক শিক্ষকদের ৫০% সার্ভিস যুক্ত করে সুবিধা প্রদান, শিক্ষক নিয়োগে পোষ্য কোটা, আজকের সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয় কল্যান ট্র্স্টা, আই এ পাশের ১টি ও বিএ পাশের ২টি ইনক্রিমেন্ট, মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষক ভবন নির্মান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহুতল ভবন নির্মান সহ নানা সুযোগ সুবিধার সূচনা হয়। বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার মুক্তাঙ্গনে প্রাথমিক শিক্ষকদের আমরন অনশন ও ধর্মঘটের মুখে বিএনপি সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেতন বৈষম্য কিছুটা নিরসণ করেছিলেন।

ননট্রেইন্ড শিক্ষকেরা ২ হাজার ৬০০ টাকা বেতন স্কেল থেকে তিন হাজার টাকা, ট্রেইন্ড সহকারী শিক্ষকদের তিন হাজার টাকার স্কেল থেকে তিন হজার একশ টাকা, প্রধান শিক্ষকদের তিন হাজার তিনশ টাকা স্কেল থেকে তিন হাজার ৭০০ টাকা। বেতন স্কেল বৃদ্ধি হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষকদের চরম বেতন বৈষম্য সে সময় থেকে শুরু। সে বেতন বৈষম্য আন্দোলনে প্রচার পত্র বিলি করায় ওসমানী উদ্যান থেকে আমাকে জেল হাজতে যেতে হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে সরকার মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নের চাবিকাঠি। শিক্ষা সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। এ উপলব্ধি থেকে বঙ্গবন্ধু ৩৭০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে ২৬ হাজার ১১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে ছিলেন। বর্তমান সরকারের পূর্বে ১ম-৫ম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের অর্ধেক পুরাতন বই দীর্ঘ সময় থেকে বিতরণ করে আসছেন। বিনামূল্যের বই বিতরণ প্রসঙ্গে তখন আমি প্রথম আলো পত্রিকায় বহুবছর যাবৎ পুরাতন বই দেওয়াকে “একই তেলে বার বার পুরি ভাজার সাথে তুলনা করেছিলাম। শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতে পুরাতন বই দেওয়ার বিষয়টি ভাবনায় আসে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসন আমলে।

তিনি কেবল প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের নয়। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণিসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে বই উৎসবের মাধ্যমে একযোগে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেন। দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও বিনামূল্যে বই বিতরণের সফলতা অর্জনে সম্ভব হয়েছিল, কেবলমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষে। কী দুঃসাহসী কর্মকান্ড? এছাড়াও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, এত শিক্ষার্থীকে বিনামুল্যে বই, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, এ বছর পোশাকের জন্য টাকা, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি ও বিদ্যালয় সুসজ্জিতকরণ, শিক্ষা উপকরণ অবকাঠামো সুবিধা। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর, স্লিপসহ বিভিন্ন খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ। শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট বিতরণ সহ শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য সকল সুযোগ সৃষ্টির প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক দ্বারা ভরপুর আজকে প্রাথমিক বিদ্যালয়। পূর্বের শিক্ষকমন্ডলি ছিল সেকালের যোগ্যতা এস.এস.সি আই.এ পাশ বর্তমান সিনিয়র শিক্ষকদের এনালগ ও ডিজিটাল দুই ধরণের অভিজ্ঞতা। নতুন শিক্ষকেরা উচ্চশিক্ষিত হলেও বর্তমানে জ্ঞান অর্জন করার মানসিকতা তাদের মাঝে একেবারে নেই বললে চলে। বই, পত্রিকা পড়ার অভ্যাস তাদের মাঝে তেমন দৃশামান নয়। ভাবখানা এমন যেন, তারা সকল শিক্ষা শেষ করে তারা পণ্ডিত হয়েছে। শিক্ষকেরা নানা ধরনের শিক্ষা নিয়ে জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করবে। এ থেকে শিক্ষক পূর্বের ও বর্তমান ডিজিটাল জ্ঞানের ভান্ডারে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দেবে। 

বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করে জনগণের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। এতদসত্ত্বে কতিপয় চ্যালেঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা কাঙ্খিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে। প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান চ্যালেঞ্জ বৈষম্য। বঙ্গবন্ধু আজীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছেন। অথচ বৈষম্যের চরম করালগ্রাসে নিমজ্জিত প্রাথমিক শিক্ষা। 

প্রথমে শিশু শিক্ষার্থীর বৈষম্য নিয়ে আলোকপাত করছি। আমাদের দেশের জনগন আজত্ত শিশু মনোবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিধিসম্পর্কে অনেকটা অজ্ঞ ও অসচেতন। তারা আদি ধ্যান ধারণা নিয়ে আজও কুসংস্কারে নিমজ্জিত। 

আমাদের অভিভাবকের শিক্ষা নিয়ে ভাবনা হলো : 

পরীক্ষায় বড় পাস ও বেশি নম্বর প্রাপ্তি। বিদেশি ভাষার বই পড়ার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া। স্কুলে বেশি বই পাঠ তালিকায় থাকলে তাদের ধাররনা বেশি জ্ঞান অর্জন। শিশুর ওপর শাসন বেশি স্কুলের ওপর আস্থা সৃষ্টি।

শিক্ষা অধিকার। অথচ বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণের প্রতি তাদের অনেকের আস্থা নেই। অর্থবিহীন শিক্ষা তাদের কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারো কারো শিক্ষা নিয়ে অহেতুক বিলাসিতার ভাবনা। এ ভাবনা নিয়ে যায় শিশুকে ট্রেনিংবিহীন শিক্ষকের কাছে। বড় পাশের জন্য শিশুর মাঝ থেকে হারিয়ে যায় খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, স্বাধীনভাবে শৈশব উপভোগ করার স্বপ্ন। বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি নির্দিষ্ট ছকে গাঁথা। নির্দিষ্ট প্রশ্ন শিখে বড় বড় পাশ পাওয়া সহজ। প্রতি পিরিয়ড, প্রতিদিন বা পাঠ শেষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ছাড়া শিক্ষার যথাযথ জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য শিশুর জ্ঞানঅর্জন বিকশিত করা। আজকের জ্ঞানঅর্জনবিহীন পাশ বিশেষ করে বেশি লাভবান হচ্ছে মিষ্টি বিক্রেতারা। 

আজও আমাদের দেশের শিক্ষক অভিভাবকদের মনে ভ্রান্ত ধারণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যাকরণ, গ্রামার, রচনা বই নেই। আমরা একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখবো : আমাদের অশিক্ষিত মানুষগুলোর ভাষা শিক্ষার জন্য কোন বই পড়তে হয়নি। পরিবেশ তাদের ভাষা শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের শিশুদের পরিবেশ, প্রকৃতি তাদের জ্ঞান অর্জনের জন্য বিশাল পাঠ্যপুস্তক। পরিবেশের এ পাঠ্যপুস্তক অবহেলা করে শিশুদের নিয়ে যায়, শিশু মনোবিজ্ঞানবিহীন উপরের শ্রেণির বিষয়বস্তু শিখাতে। যা শিশুকে যথাযথ জ্ঞান অর্জনবিহীন অনেকটা তোতা পাখির মতো মুখস্থ করে পরীক্ষা খাতায় বমি করে ফেলার মতো হয়। জ্ঞান অর্জন ছাড়া শিক্ষা অনেকটা পুষ্টিহীন খাবারের সমতুল্য।

অপরদিকে রচনা শিক্ষার্থী নিজেদের দেখে পর্যবেক্ষণ করে অভিজ্ঞতার আলোকে লিখবে শিক্ষার্থীর ওপর নির্দেশনা থাকবে “রচ তুমি আপন মনে”  এখানে বই দেখে মুখস্ত করে পরীক্ষার খাতা লেখার মানে কোন অবস্থা নিজের লেখা রচনা হতে পারেনা। শিশুরা রচনা লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে পরিবেশের অর্জিত জ্ঞান।  অর্জিত জ্ঞানের সহযোগিতা করবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময়ে আমরা কাঙ্খিত জ্ঞান অর্জনমুখী শিশুশিক্ষা বাস্তবায়নে সক্ষম হয়নি। তাই আজ প্রয়োজন শিশু শিক্ষাকে জ্ঞানঅর্জনমুখী সমৃদ্ধ করার প্রয়াসে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত বা অনুমোদন বিহীন সকল বই প্রিন্ট, বিপণন। বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করাসহ সকল শিশুকে ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় আনা। সারাদেশে একই আদর্শ সময়সূচি থাকা প্রয়োজন। যাতে শিশুর খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সুযোগ থাকে। শিশুর ওপর বৈষম্য দূর করার প্রয়াসে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ সকল শিশু জন্য অভিন্ন (বই, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও সময়সূচি) দাবি নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে।

অপরদিকে শিক্ষকের ওপর থেকে বিরাজমান বৈষম্য দূর করা জরুরি। বিশ্বের সকল দেশের শিক্ষকদের মর্যাদা ও যোগ্যতা এক ও অভিন্ন। স্বাধীন সার্বভৌম বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে আজও শিক্ষকেরা যথাযথ মর্যাদা বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সুযোগ্য কন্যার বাংলাদেশে প্রাথমিক, উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকের মর্যাদা থাকবে প্রথম শ্রেণি। যোগ্যতা ও মর্যাদা থাকবে এক ও অভিন্ন।  শিশুশিক্ষায় কাঠিন্য সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে শিশু শিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষকদের বেতন হওয়ার কথা বেশি।  প্রাথমিক শিক্ষকেরা থার্ড ও সেকেন্ড ক্লাস। স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করার পর বিষয়টি দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষক সমিতির নেতারা ১৩, ১০, ১১ গ্রেডের ভাবনায় মগ্ন। নেতৃবৃন্দ বিভোর নেতা হওয়ার স্বপ্নে। তাদের মনের চাওয়া কি আমি হলাম ? কি আমি পেলাম ? শিক্ষকদের সাথে নয়, মন্ত্রী, সচিব, ডিজি কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলে বড় নেতা হওয়ার স্বপ্নে তারা পুলকিত হয়। কথিত নেতাদের মাঝে বৈষম্য লুকায়িত আছে। তারা নিজেরাই সহকারী প্রধান শিক্ষকের মর্যাদা বৈষম্য দাবি করেন। এ অবস্থায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে শিক্ষকদের বৈষম্য দূরীকরণে সময়ক্ষেপণ হবে। নানা ধরনের সমিতির টানপোড়ানে ও ঘুষ বাণিজ্যে শিক্ষকেরা দিশেহারা। এ থেকে বেরিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংগঠিত হতে হবে। সকল শিক্ষকের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ  জয়ন্তীতে এ প্রত্যাশা হোক সকলের। এগিয়ে যেতে হবে, মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। 

জয় বাংলা। বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

লেখক : মো. সিদ্দিকুর রহমান, সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ; সম্পাদকীয় উপদেষ্টা, দৈনিক শিক্ষাডটকম।


পাঠকের মন্তব্য দেখুন
২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন - dainik shiksha ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হেফাজতের উদ্দেশ্য নয় : বাবুনগরী - dainik shiksha কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হেফাজতের উদ্দেশ্য নয় : বাবুনগরী ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা পেছাচ্ছে - dainik shiksha ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা পেছাচ্ছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির আবেদন শুরু ২ মে, পরীক্ষা ৩১ জুলাই - dainik shiksha কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির আবেদন শুরু ২ মে, পরীক্ষা ৩১ জুলাই ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার দাবিতে ৬২ আলেমের বিবৃতি - dainik shiksha ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার দাবিতে ৬২ আলেমের বিবৃতি পেছাতে পারে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা - dainik shiksha পেছাতে পারে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা রাবিতে এমফিল-পিএইচডি কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha রাবিতে এমফিল-পিএইচডি কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি সেহরি ও ইফতারের সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সূচি দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে - dainik shiksha দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে please click here to view dainikshiksha website