পাবলিকে সুযোগ নেই সাড়ে ২৯ হাজার জিপিএ-৫ ধারীর

রুম্মান তূর্য |

মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে আসন সঙ্কট নতুন নয়। আর উচ্চশিক্ষায় এ সঙ্কট সবসময়ই প্রকট। এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিষয়টি ফের নতুন করে চর্চিত হতে শুরু করেছে। যদিও গত বছরের চেয়ে এবার জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। কিন্তু তারপরও সঙ্কটের সুরাহা হচ্ছে না। এবার জিপিএ ৫ পাওয়া ৯২ হাজার ৫৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ হাজার জন স্বায়ত্বশাসিত ও সরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অন্তত ২৯ হাজার জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী এবার এসব কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না।

পরিসংখ্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, দেশে শিক্ষা কার্যক্রম চলা ৪৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষে আসন রয়েছে ৫৭ হাজার ৯৯টি। অপর দিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, আসন বাড়ানোর পর সরকারি ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৫ হাজার ৩৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির আসন আছে। আর সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটে আছে ৫৪৫টি। সব মিলিয়ে সরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন আছে ৬৩ হাজার ২৪টি। এসব আসন বিবেচনায় নিলে এইচএসসি ও সমমানে জিপিএ-৫ পাওয়া ৯২ হাজার ৫৯৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ হাজার ৫৭১ জন সরকারি মেডিক্যাল, ডেন্টাল বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন না। তবে শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দে না থাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যাকে এ হিসাবের বাইরে রাখা হলো।  

যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, এ ৬৩ হাজারের বাইরেও কিছু আসন আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। যেগুলো সরকারি কলেজের। সেগুলো বিবেচনায় নিলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ শিক্ষায় আসন সংকট হবে না। আসলে উচ্চশিক্ষায় আসন সংকট কখনোই ছিলো না।

জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও সমপর্যায়ের প্রথম বর্ষের আসন আছে ৪ লাখের কিছু বেশি। আর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনেও আসন আছে লাখ খানেক। এগুলো যোগ করলেও উচ্চশিক্ষায় সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে আসন সংখ্যা ৫ লাখ ৬৩ হাজার। আর এবার উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন মোট ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ জন। এর মানে, এবার উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পার হওয়া অর্ধেকেরও কিছু বেশি শিক্ষার্থী সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবেন। বাকিদের ঝুঁকতে হবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে।  

এ বিষয়ে অধ্যাপক আলমগীর বলেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ সব ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতার। শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে, এখন তাকে নিজের যোগ্যতায় নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। উন্নত বিশ্বের শিক্ষার্থীরা পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর পার্থক্য করে না। ওদের দুই ক্ষেত্রে খরচ প্রায় সমানই। এক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নিজের খরচ নিজে চালাতে হয়, আর অপর ক্ষেত্রে অন্যখান থেকে খরচ আসে। তবে আমাদের দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নামমাত্র টিউশন ফি হওয়ায় বেশি শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকছে।

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক শিক্ষা ডটকমের ইউটিউব চ্যানেল  SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।


পাঠকের মন্তব্য দেখুন
ভিকারুননিসার সেই ফৌজিয়া এবার ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে - dainik shiksha ভিকারুননিসার সেই ফৌজিয়া এবার ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে ১৮ দিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছি : উপাচার্য - dainik shiksha ১৮ দিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছি : উপাচার্য উপদেষ্টা আসিফ-নাহিদের ছাত্র সংগঠনের সব কার্যক্রম স্থগিত - dainik shiksha উপদেষ্টা আসিফ-নাহিদের ছাত্র সংগঠনের সব কার্যক্রম স্থগিত যারা আপনাদের সেবা করবে তাদের ভোট দেবেন: সারজিস - dainik shiksha যারা আপনাদের সেবা করবে তাদের ভোট দেবেন: সারজিস এখনো প্রস্তুত হয়নি একাদশের, পাঁচ বইয়ের পাণ্ডুলিপি - dainik shiksha এখনো প্রস্তুত হয়নি একাদশের, পাঁচ বইয়ের পাণ্ডুলিপি মাদরাসায় অনুপস্থিত থেকেও ১১ মাসের বেতন তুলেছেন শিক্ষক - dainik shiksha মাদরাসায় অনুপস্থিত থেকেও ১১ মাসের বেতন তুলেছেন শিক্ষক ৬৬ জন ছাত্রকে পাঁচচুলো করলেন শিক্ষক - dainik shiksha ৬৬ জন ছাত্রকে পাঁচচুলো করলেন শিক্ষক প্রশ্নফাঁসের তদন্ত নিয়ে সিআইডি ও পিএসসি মুখোমুখি - dainik shiksha প্রশ্নফাঁসের তদন্ত নিয়ে সিআইডি ও পিএসসি মুখোমুখি কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে - dainik shiksha কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0028660297393799