আবারো সিকি ভাতার ঈদ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের - মতামত - দৈনিকশিক্ষা


আবারো সিকি ভাতার ঈদ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী |

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা আরেকটি সিকি উৎসব ভাতার ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন। ঐতিহাসিক মুজিববর্ষে অন্তত সিকি ভাতার অবসান হবে- সঙ্গত কারণে সবাই এমন প্রত্যাশা করেছিলেন। মুজিববর্ষ আর স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীকে ঘিরে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা যে স্বপ্নের পসরা সাজিয়েছিলেন, সিকি ভাতার নড়চড় না হওয়ায় সেটি অনিশ্চয়তায় ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা পাওয়া এবং সিকি ভাতার অবসান ছাড়াও সকলে মনে করেছিলেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে ঐতিহাসিক মুজিববর্ষে সরকারিকরণ হবে। কিন্তু, অর্থমন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালি আর স্পষ্টিকরণের নামে শিক্ষক-কর্মচারীদের ঠকাবার পাঁয়তারা দেখে সবাই অবাক।

আমি এই ভেবে হতবাক হই যে, ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে জামাত-জোট সরকার প্রবর্তিত কলঙ্কের সিকি ভাতার অপবাদটি কেনো শেখ হাসিনার জনবান্ধব সরকার আজ পর্যন্ত অবলীলায় বহন করে চলেছেন? জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীতে সিকি ভাতার পরিবর্তে শতভাগ ভাতা প্রদানের উপযুক্ত সময়টি কেন তারা কাজে লাগাচ্ছেন না? সরকারের ভেতর জামাত-জোট সরকারের দোসররা করোনার অজুহাতে টাকা-পয়সা নাই দেখিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষকে ম্লান করে রেখে দিতে চায়। এরা শাহেদ-সাবরিনার সুরতে সরকারের ভেতরে থেকে কলকাঠি নাড়ে। নিজেরা লুটেপুটে খায় আর শিক্ষকদের বঞ্চিত রাখে। এদের আসল চেহারা চেনা কঠিন। এরাই অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও হতে দেয় না। বিএড স্কেলকে উচ্চতর স্কেল বলে। অনুপাত প্রথা জিইয়ে রাখে ও বদলি কার্যকর করতে দেয় না। এদের কারণে বাড়ি ভাড়া দ্বিগুণ (!) আর চিকিৎসা ভাতা পাঁচগুণ (!) হয়। কী উর্বর মস্তিস্ক এদের! এরা সরকারের চোখে ধুলা দিয়ে যা ইচ্ছে তাই করে। সরকারের দুর্নাম কুড়ায়। নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। সরকারিকরণের পথে এরা বড় অন্তরায়। এদের কারণে অবসরে যাবার পর আইনুদ্দিন স্যারেরা ৩/৪ বছর পরেও কল্যাণ ট্রাস্ট কিংবা অবসর তহবিলের টাকা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করলেও বিএনপি-জামাত নেতারা তিনমাসের মধ্যেই টাকা পেয়ে যান। সরকারিকরণে সরকারের লাভ আছে, ক্ষতি নেই-এটি তারা বুঝতে দেয় না। এটি করলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কুলাবে না-তারা এরকম বুঝিয়ে থাকে।

কয়েক শ’ স্কুল-কলেজ এই দু’তিন বছরে সরকারি হলো। অথচ আজ পর্যন্ত তারা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পায় নাই। আত্তীকরণের নামে তাদের ঝুলিয়ে রাখা হলো। ‘নো বিসিএস, নো ক্যাডার’-স্লোগানের আজ পর্যন্ত মানে বুঝি নাই। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাঁতাকলে তাদের পিষ্ঠ হবার উপক্রম। ‘ডিড অব গিফট’ সেই কবে সম্পাদন হলো? আজ পর্যন্ত এর কোনো খোঁজ-খবর নেই। এর মধ্যে এসব স্কুল-কলেজের বহু শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে চলে গিয়েছেন। কেউ কেউ পরকালে যাত্রা করেছেন। তাদের কাছে স্বপ্ন চিরদিনের জন্য স্বপ্নই থেকে গেছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? এর জবাব কী কারো জানা আছে?

এমপিও নীতিমালা সংশোধনী কমিটির চূড়ান্তকরণের সভা বারবার পেছায়। কয়েকটি তারিখ এর আগে তারা মিস করেছে। কেন মিস করে, কে জানে? এই নীতিমালাটি ভালো করে সংশোধন না হলে শিক্ষক সমাজ কত যে বৈষম্যের শিকার হবেন-তা বলে শেষ করা যাবে না। কোনো নীতিমালাই সুযোগ-সুবিধা সংকোচিত করার জন্য প্রণীত হতে পারে না। এই নীতিমালা কলেজের প্রভাষকদের অধিকার সংকুচিত করেছে। উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষকদের অধিকার খর্ব করেছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানদের উচ্চতর স্কেলের বিষয়ে একদম নিশ্চুপ থেকেছে। এর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো সংশোধন করে অবিলম্বে সরকারিকরণের পথটি উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত।

বেসরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল ও পিয়নের একই বাড়ি ভাড়া। একই চিকিৎসা খরচ। যে দেশে রুই আর পুটি মাছের এক দাম, সে দেশে ন্যায় বিচার আশা করা কঠিন। শিক্ষকের চেয়ে কর্মচারীর উৎসব বোনাস বেশি। প্রাইমারি স্কুলের দপ্তরির চেয়ে হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বোনাস কম। অন্তত শিক্ষায় এসব অসঙ্গতি কেউ আর দেখতে চায় না। এসব শিক্ষকের একার নয়, গোটা জাতির জন্য লজ্জার বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে এমপিও শিট স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেবার কারণে মাউশিকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা বহুদিনের একটি হয়রানির হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন। বদলি নিয়ে দৈনিক শিক্ষার লাইভে যুক্ত হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশীদ আমিন আশার বাণী শুনিয়েছেন। সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় মাসের ১/২ তারিখে ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবার যে উদ্যোগের কথা শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র পত্রিকা দৈনিক শিক্ষায় দেখলাম তাকে স্বাগত জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করতে চাই।

লেখক : অধ্যক্ষ, চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কানাইঘাট, সিলেট এবং দৈনিক শিক্ষার সংবাদ বিশ্লেষক।




পাঠকের মন্তব্য দেখুন
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা দু’একমাস পেছাতে পারে - dainik shiksha এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা দু’একমাস পেছাতে পারে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ভর্তি : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ভর্তি : শিক্ষামন্ত্রী এসএসসির ৭৫ শতাংশ ও জেএসসির ২৫ শতাংশে এইচএসসির ফল - dainik shiksha এসএসসির ৭৫ শতাংশ ও জেএসসির ২৫ শতাংশে এইচএসসির ফল অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণদের সার্টিফিকেট দেবে শিক্ষাবোর্ডগুলোই - dainik shiksha অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণদের সার্টিফিকেট দেবে শিক্ষাবোর্ডগুলোই অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনা - dainik shiksha অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনা মাদরাসায় জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের পদ - dainik shiksha মাদরাসায় জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের পদ এমপিওর অর্ধেক টাকা পাওয়ার শর্তে জাল সনদধারীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ - dainik shiksha এমপিওর অর্ধেক টাকা পাওয়ার শর্তে জাল সনদধারীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ please click here to view dainikshiksha website